Dhaka 5:30 pm, Monday, 29 June 2026

তরুণদের মাঝে ক্যানসার বৃদ্ধির ‘মূল কারণ’ আবিষ্কার

 

তরুণ প্রজন্মের মধ্যে মরণব্যাধি ক্যানসার থাবা বসাচ্ছে মহামারির মতো | ছবি: সংগৃহীত
আপনার জন্মসনদ বলছে আপনার বয়স পঁচিশ, কিন্তু শরীরের ভেতরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কি সত্যিই পঁচিশের মতো সতেজ? সাম্প্রতিক এক গবেষণার পিলে চমকানো তথ্য বলছে, নব্বইয়ের দশকে জন্ম নেওয়া এক বিশাল জনগোষ্ঠীর শরীর তাদের প্রকৃত বয়সের চেয়েও দ্রুত বুড়িয়ে যাচ্ছে। আর এই ‘অকাল বার্ধক্য’ বা জৈবিক বয়স বেড়ে যাওয়ার কারণেই বর্তমান তরুণ প্রজন্মের মধ্যে মরণব্যাধি ক্যানসার থাবা বসাচ্ছে মহামারির মতো। পঞ্চাশের কোটা ছোঁয়ার আগেই ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার এই উদ্বেগজনক প্রবণতা এখন চিকিৎসাবিজ্ঞানের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জৈবিক বয়স ও ক্যানসারের সম্পর্ক

সাধারণত আমরা ক্যালেন্ডারের পাতা গুনে বা জন্ম তারিখ অনুযায়ী যে বয়স হিসেব করি, তাকে বলা হয় ‘ক্রোনোলজিক্যাল এজ’। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় শরীরের ভেতরকার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ এবং মানসিক কর্মক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে একটি বয়স নির্ধারিত হয়, যাকে বলা হয় ‘বায়োলজিক্যাল এজ’ বা জৈবিক বয়স।

আমেরিকার ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি স্কুল অফ মেডিসিনের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ১৯৯০-এর দশকে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিদের জৈবিক বয়স ১৯৬০-এর দশকে জন্ম নেওয়াদের তুলনায় অনেক বেশি দ্রুত বাড়ছে। গবেষণার ফল বলছে, এই দুই বয়সের (প্রকৃত বয়স ও জৈবিক বয়স) মধ্যে ব্যবধান যত বেশি হবে, ফুসফুস, পরিপাকতন্ত্র এবং অন্ত্রের ক্যানসারের ঝুঁকি তত বাড়বে।

গবেষকদের মতে, দ্রুত জৈবিক বয়স বাড়ার পেছনে বেশ কিছু কারণ থাকতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে:

স্থূলতা ও ওজন বৃদ্ধি: বর্তমানে অল্প বয়সেই স্থূলতার সমস্যা দেখা দিচ্ছে। অকাল বয়ঃসন্ধি: সময়ের আগেই বয়ঃসন্ধির শুরু হওয়া শরীরের জৈবিক ঘড়িতে প্রভাব ফেলছে। দীর্ঘস্থায়ী রোগ: ডায়াবেটিস এবং স্ট্রোকের মতো সমস্যার সম্মুখীন এখন অনেক কম বয়সেই হতে হচ্ছে। দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা: যখন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার বয়স প্রকৃত বয়সের চেয়ে বেশি হয়ে যায়, তখন ক্যানসার দানা বাঁধার সুযোগ পায়।

কোলন ক্যানসারের আশঙ্কাজনক বৃদ্ধি

পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ১৯৯০ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে ৫০ বছরের কম বয়সীদের ক্যানসার আক্রান্ত হওয়ার হার ২৪ শতাংশ বেড়েছে। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে কোলন বা অন্ত্রের ক্যানসার এখন মহামারির মতো ছড়িয়ে পড়ছে। গবেষণায় দেখা গেছে, ১৯৯০-এর দশকে যারা জন্মেছেন, তাদের কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি ১৯৬০-এর দশকে জন্ম নেওয়াদের তুলনায় ৪ গুণেরও বেশি।

শেষ কথা

গবেষণাটি সম্প্রতি বিখ্যাত চিকিৎসা সাময়িকী ‘জার্নাল মেডিসিন’-এ প্রকাশ হয়েছে। যদিও তরুণদের ক্যানসার বৃদ্ধির পেছনে পরিবেশগত প্রভাব কতটুকু তা নিয়ে আরও বিস্তারিত গবেষণা চলছে, তবে বিশেষজ্ঞরা বর্তমান তরুণ প্রজন্মকে তাদের জীবনযাত্রা ও স্বাস্থ্যের প্রতি অধিক সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। অকাল বার্ধক্য বা দ্রুত জৈবিক বয়স বাড়ার এই প্রবণতা রুখতে পারলে ক্যানসারের ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব বলে গবেষকরা আশা করছেন।

 

facebook sharing button
messenger sharing button
whatsapp sharing button
twitter sharing button
linkedin sharing button
copy sharing button
print sharing button

 

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

তরুণদের মাঝে ক্যানসার বৃদ্ধির ‘মূল কারণ’ আবিষ্কার

প্রকাশঃ 09:17:13 am, Monday, 29 June 2026

 

তরুণ প্রজন্মের মধ্যে মরণব্যাধি ক্যানসার থাবা বসাচ্ছে মহামারির মতো | ছবি: সংগৃহীত
আপনার জন্মসনদ বলছে আপনার বয়স পঁচিশ, কিন্তু শরীরের ভেতরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কি সত্যিই পঁচিশের মতো সতেজ? সাম্প্রতিক এক গবেষণার পিলে চমকানো তথ্য বলছে, নব্বইয়ের দশকে জন্ম নেওয়া এক বিশাল জনগোষ্ঠীর শরীর তাদের প্রকৃত বয়সের চেয়েও দ্রুত বুড়িয়ে যাচ্ছে। আর এই ‘অকাল বার্ধক্য’ বা জৈবিক বয়স বেড়ে যাওয়ার কারণেই বর্তমান তরুণ প্রজন্মের মধ্যে মরণব্যাধি ক্যানসার থাবা বসাচ্ছে মহামারির মতো। পঞ্চাশের কোটা ছোঁয়ার আগেই ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার এই উদ্বেগজনক প্রবণতা এখন চিকিৎসাবিজ্ঞানের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জৈবিক বয়স ও ক্যানসারের সম্পর্ক

সাধারণত আমরা ক্যালেন্ডারের পাতা গুনে বা জন্ম তারিখ অনুযায়ী যে বয়স হিসেব করি, তাকে বলা হয় ‘ক্রোনোলজিক্যাল এজ’। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় শরীরের ভেতরকার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ এবং মানসিক কর্মক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে একটি বয়স নির্ধারিত হয়, যাকে বলা হয় ‘বায়োলজিক্যাল এজ’ বা জৈবিক বয়স।

আমেরিকার ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি স্কুল অফ মেডিসিনের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ১৯৯০-এর দশকে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিদের জৈবিক বয়স ১৯৬০-এর দশকে জন্ম নেওয়াদের তুলনায় অনেক বেশি দ্রুত বাড়ছে। গবেষণার ফল বলছে, এই দুই বয়সের (প্রকৃত বয়স ও জৈবিক বয়স) মধ্যে ব্যবধান যত বেশি হবে, ফুসফুস, পরিপাকতন্ত্র এবং অন্ত্রের ক্যানসারের ঝুঁকি তত বাড়বে।

গবেষকদের মতে, দ্রুত জৈবিক বয়স বাড়ার পেছনে বেশ কিছু কারণ থাকতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে:

স্থূলতা ও ওজন বৃদ্ধি: বর্তমানে অল্প বয়সেই স্থূলতার সমস্যা দেখা দিচ্ছে। অকাল বয়ঃসন্ধি: সময়ের আগেই বয়ঃসন্ধির শুরু হওয়া শরীরের জৈবিক ঘড়িতে প্রভাব ফেলছে। দীর্ঘস্থায়ী রোগ: ডায়াবেটিস এবং স্ট্রোকের মতো সমস্যার সম্মুখীন এখন অনেক কম বয়সেই হতে হচ্ছে। দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা: যখন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার বয়স প্রকৃত বয়সের চেয়ে বেশি হয়ে যায়, তখন ক্যানসার দানা বাঁধার সুযোগ পায়।

কোলন ক্যানসারের আশঙ্কাজনক বৃদ্ধি

পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ১৯৯০ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে ৫০ বছরের কম বয়সীদের ক্যানসার আক্রান্ত হওয়ার হার ২৪ শতাংশ বেড়েছে। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে কোলন বা অন্ত্রের ক্যানসার এখন মহামারির মতো ছড়িয়ে পড়ছে। গবেষণায় দেখা গেছে, ১৯৯০-এর দশকে যারা জন্মেছেন, তাদের কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি ১৯৬০-এর দশকে জন্ম নেওয়াদের তুলনায় ৪ গুণেরও বেশি।

শেষ কথা

গবেষণাটি সম্প্রতি বিখ্যাত চিকিৎসা সাময়িকী ‘জার্নাল মেডিসিন’-এ প্রকাশ হয়েছে। যদিও তরুণদের ক্যানসার বৃদ্ধির পেছনে পরিবেশগত প্রভাব কতটুকু তা নিয়ে আরও বিস্তারিত গবেষণা চলছে, তবে বিশেষজ্ঞরা বর্তমান তরুণ প্রজন্মকে তাদের জীবনযাত্রা ও স্বাস্থ্যের প্রতি অধিক সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। অকাল বার্ধক্য বা দ্রুত জৈবিক বয়স বাড়ার এই প্রবণতা রুখতে পারলে ক্যানসারের ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব বলে গবেষকরা আশা করছেন।

 

facebook sharing button
messenger sharing button
whatsapp sharing button
twitter sharing button
linkedin sharing button
copy sharing button
print sharing button