কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে কিশোরী প্রেমিকার ছুরিকাঘাতে সাঈদ আব্দুল্লাহ সিয়াম নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ঘাতক কিশোরী ও নিহতের এক বন্ধুকে আটক করেছে পুলিশ।
সোমবার (২৯ জুন) ভোরে চৌদ্দগ্রাম পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের লক্ষ্মীপুর গ্রামের মুন্সী বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সাঈদ আব্দুল্লাহ সিয়াম (২২) ওই গ্রামের হাজী এনামুল হকের ছেলে। অভিযুক্তের নাম নাঈমা জাহান (১৫)। তিনি ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার ঘোষগ্রামের রবিউল মৃধার মেয়ে।
নাকের নিচে আঁচড়ের দাগ দেখে হত্যাকারীকে শনাক্ত করে র্যাব
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রেমিকা নাইমা জাহান জানান, তিন বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয় হয় সিয়াম ও নাঈমার। পরে উভয়ে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। কয়েকবার ঢাকায় অবস্থানকালে এক সঙ্গে থাকেন তারা। পরে প্রেমিকা নাঈমা গর্ভবতী হয়ে পড়েন। প্রেমিক সিয়াম বিয়ের আশ্বাস দিয়ে জোর করে নাঈমার গর্ভপাত করান। কিন্তু এরপর থেকে বিয়ের কথা বললেই সিয়াম বিভিন্ন অজুহাতে কালক্ষেপণ করতে থাকেন।
পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহায়তাকারী যুবকের মরদেহ মিলল ময়লার স্তূপে
রোববার নাইমা জাহানকে ২০ হাজার টাকা নিয়ে লক্ষ্মীপুর গ্রামের বাড়িতে আসার জন্য চাপ দেয় সিয়াম। টাকা জোগাড় করতে না পেরে সিয়ামের কথা রক্ষায় নাইমা লক্ষ্মীপুর গ্রামে সিয়ামের পুরাতন বাড়িতে আসে। সেখানে একটি কক্ষে সিয়াম, নাইমা জাহান ও সিয়ামের বন্ধু পাশের বাতিসা ইউনিয়নের চাঁন্দকরা গ্রামের কাজী বাড়ির আরিয়ান একসঙ্গে রাত্রীযাপন করে।
ভোরে সাইয়েদ আবদুল্লাহ সিয়াম প্রেমিকা নাইমা জাহানকে বাসা থেকে চলে যাওয়ার জন্য বলে, যাতে আশপাশের কেউ না দেখে। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে ঘরে থাকা ছুরি দিয়ে সিয়ামের পেটে আঘাত করে প্রেমিকা নাইমা জাহান। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিল বন্ধু আরিয়ান। সিয়ামের চিৎকার শুনে লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নাইমা জাহান ও বন্ধু আরিয়ানকে আটক করে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার ও দুজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সামছুল আরেফিন বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুজনকে আটক করেছে পুলিশ। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি তদন্তাধীন এবং এ বিষয়ে একটি হত্যা মামলার প্রক্রিয়া চলছে।
দেশের তথ্য ডেস্ক 

















