বাগেরহাট জেলার চিতলমারী থানার চাঞ্চল্যকর ও বহুল আলোচিত আমির হামজা হত্যা মামলার এজাহারনামীয় প্রধান পলাতক আসামি মোঃ সোহেল হোসাইন ওরফে ‘বডি সোহেল’ (৩৬)-কে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। গতকাল (২০ই জুন ২০২৬) সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টায় র্যাব-০৬, সদর কোম্পানির একটি আভিযানিক দল বাগেরহাটের ফকিরহাট থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামি মোঃ সোহেল হোসাইন ওরফে বডি সোহেল খুলনা মহানগরীর খুলনা সদর থানাধীন চাঁনমারী এলাকার মোঃ আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে।
র্যাব-০৬ সদর কোম্পানি জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল সন্ধ্যায় ফকিরহাট থানাধীন নোয়াপাড়া বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন রুবেল হোসেনের চায়ের দোকানে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় ওই দোকানে আত্মগোপনে থাকা আমির হামজা হত্যা মামলার এজাহারনামীয় পলাতক আসামি বডি সোহেলকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে হাতেনাতে গ্রেফতার করে র্যাবের চৌকস দল।
মামলার এজাহার ও বিবরণে জানা যায়, চলতি বছরের গত ২০ মার্চ ২০২৬ ইং পূর্ব শত্রুতার জের ধরে বডি সোহেলসহ মামলার অন্য আসামিরা মোটরসাইকেলযোগে দলবদ্ধ হয়ে অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বাদীর বাড়িতে অবৈধভাবে প্রবেশ করে। সেখানে তারা বাদীর ছেলে নিহত আমির হামজাকে লক্ষ্য করে পিস্তল দিয়ে নৃশংসভাবে গুলি চালিয়ে গুরুতর আহত করে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। গুলির বিকট শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে রক্তাক্ত ভিকটিমকে উদ্ধার করে চিতলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের পর নিহত আমির হামজার মা মেহেরুন্নেসা বাদী হয়ে ধৃত বডি সোহেলসহ অন্যান্য ঘাতকদের বিরুদ্ধে চিতলমারী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর থেকেই আসামি বডি সোহেল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে ফেরারি হয়ে আত্মগোপন করেছিল।
র্যাব আরও জানায়, গ্রেফতারের পর পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে আসামি বডি সোহেলকে বাগেরহাট জেলার চিতলমারী থানা পুলিশের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলার অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেফতারেও র্যাবের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
দেশের তথ্য ডেস্ক 


















