নীলফামারীর ডিমলায় প্রায় আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পুন:নির্মাণকাজে শুরু থেকেই নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) যথাযথ তদারকি ছাড়াই নিম্নমানের খোয়া, রাবিশ ও ভাঙা ইট ব্যবহার করে দায়সারাভাবে কাজ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
অন্যদিকে কার্যাদেশ অনুযায়ী নির্ধারিত সময় পেরিয়ে এক মাসের বেশি অতিবাহিত হলেও নির্মাণকাজ শেষ হয়নি। এতে প্রকল্পটির গুণগত মান, বাস্তবায়ন এবং তদারকি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের গ্রামীণ সড়ক মেরামত ও সংরক্ষণ কর্মসূচির আওতায় সমায়ান্তর রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্পের অধীনে ডিমলা উপজেলার বাবুরহাট জিসি-ডালিয়া আরএন্ডএইচ রাস্তা ভায়া শুটিবাড়ি সড়কের সংস্কারকাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
প্রকল্পটির প্রাক্কলিত মূল্য ২ কোটি ২৪ লাখ ৯৬ হাজার ৩১৫ টাকা। তবে ২ কোটি ১৩ লাখ ৭১ হাজার ৪৯৯ টাকা ২৫ পয়সা চুক্তিমূল্যে কাজটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পেয়েছে নীলফামারী সদর উপজেলার মসজিদপাড়া এলাকার মেসার্স সিদ্দি ইঞ্জিনিয়ারিং মার্কস। কার্যাদেশ অনুযায়ী গত ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ কাজ শুরু হয়ে ১৮ মে ২০২৬ শেষ হওয়ার কথা ছিল।
তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে এক মাসের বেশি অতিবাহিত হলেও জুন মাসের শেষ দিকেও নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজের শুরু থেকেই নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে নির্মাণ শেষে সড়কটির স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের পুরোনো ও ক্ষতিগ্রস্ত কার্পেটিং তুলে তা পুনরায় ব্যবহার করা হচ্ছে। এর ওপর রাবিশ মিশ্রিত নিম্নমানের খোয়া দিয়ে বেজ প্রস্তুতের কাজ চলছে। এ ছাড়া সড়কের দুই পাশে রেজিংয়ের কাজে এক নম্বর ইটের পরিবর্তে ভাঙা ও নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, কাজ চলাকালে এলজিইডির কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তাকে তদারকিতে দেখা যায়নি। ফলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইচ্ছেমতো নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করছে।
এদিকে প্রকল্পের দরপত্রসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করতে ডিমলা উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয়ে দুই দিন ঘুরেও তা পাওয়া যায়নি। কখনো কর্মকর্তার বদলির অজুহাত, আবার কখনো সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার অনুপস্থিতির কথা বলে তথ্য দেওয়া হয়নি। এতে প্রকল্পসংক্রান্ত তথ্য প্রদানে গড়িমসির অভিযোগও তুলেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দা হযরত আলী বলেন, দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের পর সড়কের কাজ শুরু হয়েছে। কিন্তু যেসব উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে, সেগুলোর মান খুবই খারাপ। এভাবে কাজ করলে সড়কটি বেশিদিন টিকবে না। আমরা সরকারি মানদণ্ড অনুযায়ী নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার দাবি জানাই।
তিনি আরও বলেন, এ ধরনের খোয়া দিয়ে নির্মাণ করা সড়ক দীর্ঘদিন টিকবে না। এতে সরকারের কোটি কোটি টাকার উন্নয়নকাজের সুফল নষ্ট হবে। দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
স্থানীয় মোটরসাইকেল চালক রাসেল মিয়া বলেন, ঠিকাদার যে উপকরণ দিয়ে কাজ করছেন, তাতে সরকারি টাকার অপচয় ছাড়া আর কিছুই হবে না।
মমিনুর রহমান, খোরশেদ আলম, আয়নাল হক ও জাকির হোসেনসহ কয়েকজন স্থানীয় বলেন, এক নম্বর খোয়ার পরিবর্তে রাবিশ মিশ্রিত খোয়া এবং রেজিংয়ের কাজে এক নম্বর ইটের বদলে ভাঙা ইট ব্যবহার করা হচ্ছে। এভাবে কাজ চললে সড়কটি দীর্ঘদিন টিকবে না। তাই মানসম্মত উপকরণ ব্যবহার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কাজ বন্ধ রাখা উচিত।
তবে এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সিদ্দি ইঞ্জিনিয়ারিং মার্কস-এর প্রতিনিধির সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
একইভাবে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নীলফামারী কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফিরোজ হাসানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উপজেলা প্রকৌশলী মো. মফিজুর রহমান বলেন, সড়কের কাজ চলমান রয়েছে। নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে। মূল কার্পেটিংয়ের আগে যে খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে, তার গুণগত মানও যাচাই করা হবে।
ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরানুজ্জামান বলেন, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই। উপজেলা প্রকৌশলীকে সঙ্গে নিয়ে দ্রুত সড়কটি পরিদর্শন করব। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দেশের তথ্য ডেস্ক 


















