Dhaka 3:18 pm, Friday, 17 April 2026

শ্রেণি কক্ষেই শিক্ষার্থীরা পুড়ে অঙ্গার, এ দায় কার?

 

প্রদীপ মন্ডল

রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল এন্ড কলেজ ভবনে প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ক্লাসরত অবস্থায় শ্রেণি কক্ষেই প্রাণ গেল শিশু শিক্ষার্থীসহ বেশ কয়েক জনের। জীবনে পরিপূর্ণ ভাবে বিকোশিত হওয়ার আগেই ঝড়ে গেল অগনিত শিশু শিক্ষার্থীর প্রাণ। একই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন বিমান বাহিনীর চৌকস অফিসার পাইলট ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির ইসলাম সাগর। মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনার শিকার হয়ে যাঁরা গুরতর আহত হয়ে বেঁচে আছেন তাঁদের অনেকেরই দেহের ৭০-৮০% পুড়ে গেছে। এদের মধ্যে বেশ কয়েকজন মৃত্যুর সংগে পাঞ্জা লড়ছে। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় পুরো দেশ শোকে স্তব্ধ। জাতীয় ভাবে শোক ঘোষণা করা হয়েছে। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনা দেখে স্বাভাবিকভাবেই অনেকের মনে প্রশ্ন আসছে এই মৃত্যু ও দুর্ঘটনার দায় কার?। কোন ভাবেই কি এ ধরণের দুর্ঘটনা এড়ানো যায় না? বিভিন্ন সূত্র মতে, চীনের তৈরি এফ-৭ সিরিজের যুদ্ধ বিমান এর আগেও দেশে দুই বার বিধ্বস্ত হয়েছে। বাংলাদেশে এই মডেলের বিমানের এটি তৃতীয় দুর্ঘটনা। ইতোপূর্বে ২০১৮ সালে নভেম্বরে টাঙ্গাইলের মধুপুরের রসুলপুরে ফায়ারিং রেঞ্জে মহরার সময় বিমান বাহিনীর এফ-৭ প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়। এ দুর্ঘটনায় বিমান বাহিনীর উইং কমাÐার আরিফ আহমেদ দিপু নিহত হন। এরপর ২০২১ সালের চট্রগ্রামের জহুরুল হক ঘাাঁটি থেকে উড্ডয়নের পর বঙ্গোপসাগরে বিধ্বস্ত হয়। এতে ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহমিদ নিহত হন। কোন দুর্ঘটনাই কারো কাক্সিক্ষত নয়। যদি পূর্বের দুটি দুর্ঘটনার মত তৃতীয় দুর্ঘটনাটিও জনবহুল এলাকায় না হতো, তবে স্বাভাবিক ভাবেই হতাহতের পরিমান এত বেশি হত না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অকেরই প্রশ্ন রাজধানীর মত জনবহুল এলাকায় কেন প্রশিক্ষণ বিমান চালাতে হলো? জনবহুল এলাকার উপর দিয়ে এই ধরণের প্রশিক্ষণ বিমান না চললে হয়তো আজ এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা দেখতে হতো না। হতাহতের পরিমানও এতো বেশি হতো না। অনেকেরই মত সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমেই যে কোন দুর্ঘটনাই অনেকাংশেই এড়িয়ে চলা যায়।

 

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

টেকনাফে নৌবাহিনীর বড় অভিযান: ৭২ হাজার পিস ইয়াবাসহ ২ কারবারি আটক

শ্রেণি কক্ষেই শিক্ষার্থীরা পুড়ে অঙ্গার, এ দায় কার?

প্রকাশঃ 05:02:52 am, Tuesday, 22 July 2025

 

প্রদীপ মন্ডল

রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল এন্ড কলেজ ভবনে প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ক্লাসরত অবস্থায় শ্রেণি কক্ষেই প্রাণ গেল শিশু শিক্ষার্থীসহ বেশ কয়েক জনের। জীবনে পরিপূর্ণ ভাবে বিকোশিত হওয়ার আগেই ঝড়ে গেল অগনিত শিশু শিক্ষার্থীর প্রাণ। একই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন বিমান বাহিনীর চৌকস অফিসার পাইলট ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির ইসলাম সাগর। মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনার শিকার হয়ে যাঁরা গুরতর আহত হয়ে বেঁচে আছেন তাঁদের অনেকেরই দেহের ৭০-৮০% পুড়ে গেছে। এদের মধ্যে বেশ কয়েকজন মৃত্যুর সংগে পাঞ্জা লড়ছে। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় পুরো দেশ শোকে স্তব্ধ। জাতীয় ভাবে শোক ঘোষণা করা হয়েছে। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনা দেখে স্বাভাবিকভাবেই অনেকের মনে প্রশ্ন আসছে এই মৃত্যু ও দুর্ঘটনার দায় কার?। কোন ভাবেই কি এ ধরণের দুর্ঘটনা এড়ানো যায় না? বিভিন্ন সূত্র মতে, চীনের তৈরি এফ-৭ সিরিজের যুদ্ধ বিমান এর আগেও দেশে দুই বার বিধ্বস্ত হয়েছে। বাংলাদেশে এই মডেলের বিমানের এটি তৃতীয় দুর্ঘটনা। ইতোপূর্বে ২০১৮ সালে নভেম্বরে টাঙ্গাইলের মধুপুরের রসুলপুরে ফায়ারিং রেঞ্জে মহরার সময় বিমান বাহিনীর এফ-৭ প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়। এ দুর্ঘটনায় বিমান বাহিনীর উইং কমাÐার আরিফ আহমেদ দিপু নিহত হন। এরপর ২০২১ সালের চট্রগ্রামের জহুরুল হক ঘাাঁটি থেকে উড্ডয়নের পর বঙ্গোপসাগরে বিধ্বস্ত হয়। এতে ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহমিদ নিহত হন। কোন দুর্ঘটনাই কারো কাক্সিক্ষত নয়। যদি পূর্বের দুটি দুর্ঘটনার মত তৃতীয় দুর্ঘটনাটিও জনবহুল এলাকায় না হতো, তবে স্বাভাবিক ভাবেই হতাহতের পরিমান এত বেশি হত না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অকেরই প্রশ্ন রাজধানীর মত জনবহুল এলাকায় কেন প্রশিক্ষণ বিমান চালাতে হলো? জনবহুল এলাকার উপর দিয়ে এই ধরণের প্রশিক্ষণ বিমান না চললে হয়তো আজ এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা দেখতে হতো না। হতাহতের পরিমানও এতো বেশি হতো না। অনেকেরই মত সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমেই যে কোন দুর্ঘটনাই অনেকাংশেই এড়িয়ে চলা যায়।