Dhaka 1:42 pm, Friday, 17 April 2026

ফ্যাসিবাদরা দেশ ছেড়ে পালালেও, দোসররা দেশেই রয়েছে – গোপালগঞ্জে বিএনপি’র মহাসমাবেশে ড. আসাদুজ্জামান রিপন

 

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সহসভাপতি ড. আসাদুজ্জামান রিপন বলেন- ‘১৬ বছর আন্দোলনের ফল হিসেবে গত ৫ আগষ্ট ফ্যাসিবাদীরা দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। তবে এখনও তাদের দোসরা দেশের নানা জায়গায় রয়ে গেছে। তারাই এখন দেশের মধ্যে নানা ষড়যন্ত্র করছে। আমরা যদি একটি ফ্যাসিবাদী সরকারকে আন্দোলনের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত করতে পারি, তাহলে আমরা ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করতে পারবো না কে?

 

আজ সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারী) বেলা পৌনে ১১টায় গোপালগঞ্জ শহরের পৌরপার্কে কেন্দ্র ঘোষিত জেলা বিএনপির সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

ড. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমরা মানুষের ভোটের অধিকারের জন্য আন্দোলন করছি। বাংলাদেশে গণতান্ত্রিকভাবে সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা আন্দোলন করছি। এখন জাতীয়তাবাদী দল জনগণের ভোটের মাধ্যমে সরকার নির্বাচিত করতে চায়।’

 

তিনি বলেন, ‘আপনারা জানেন না ২০১৮ সালের নির্বাচনে কোন কোন এসপি, ওসি সাহেব রাতের ভোটে এমপি বানিয়েছেন, ব্যালট বাক্স ভরেছেন। ২০১৪ ও ২০১৮ সালের এসপি যারা যেখানে আছেন, তাদেরকে এখন পর্যন্ত বসিয়ে রেখেছেন কেন? তাদেরকে এই মূহুর্তে চাকরি থেকে বাদ দিতে হবে। একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার জন্য আমাদের রাজনীতিকে সুন্দর করতে হবে। হানাহানি, দ্বন্দ্ব এগুলো রাখা যাবে না। আগামীতে যাতে বিএনপি বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে সেজন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।

 

তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপির অনেকে বলেছেন গোপালগঞ্জ নাকি নৌকার ঘাঁটি। কেন নৌকার ঘাঁটি? নৌকা মার্কা গোপালগঞ্জকে কি দিয়েছে। এখানে একজন পুলিশ প্রধান (আইজিপি) বেনজির আহমেদ ছিলেন। তিনি এখানকার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সম্পত্তি জোর-জবরদস্তি করে ব্যক্তিগত খামার করেছেন। বাংলাদেশের জনগণকে খুন-গুম, মিথ্যা মামলা ও জিম্মি করে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটে নিয়েছেন। সেই টাকায় তিনি জমিদারি প্রতিষ্ঠা করার জন্য চেষ্টা চালিয়েছেন।’

 

সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ড. আসাদুজ্জামান খান রিপন ও প্রধান বক্তা হিসেবে কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ বক্তব্য রাখেন।

 

জেলা বিএনপির আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা শরীফ রাফিকুজ্জামানের সভাপতিত্বে ফরিদপুর বিভাগীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিমুজ্জামান সেলিম, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানী, বিএনপি কেন্দ্রীয নির্বাহী কমিটির সহ আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদিন মেজবা, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এফ, ই শরফুজ্জামান জাহাঙ্গীর, এম.এইচ. খান মঞ্জু, সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, সহ-সভাপতি মনিরুজ্জামান পিনু, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম. তৌহিদুর রহমান তাজ, জেলা বিএনপির সদস্য ডাঃ কে. এম বাবর, জেলা যুবদলের সভাপতি শেখ রিয়াজ উদ্দিন লিপ্টন, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মিকাইল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক সাজ্জাতুল ইসলাম হীরা প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। সমাবেশে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে কয়েক হাজার লোকের সমাবেশ ঘটে।

 

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক এ্যাডভোকেট কাজী আবুল খায়ের।

 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন

জেলা বিএনপির সদস্য মাহবুব আলী সোহেল, সৈয়দ কামরুজ্জামান টুটুল, এ্যাড. তৌফিকুল ইসলাম, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি সিকদার শহিদুল ইসলাম লেলিন, সাধারণ সম্পাদক ফজলুল কবির দারা, জেলা যুুবদলের সাধারন সম্পাদক রাসেকুজ্জামান পলাশ, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সাজ্জাদ হোসেন হীরা, সরকারি বঙ্গবন্ধু কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইমরান ইভান আলী প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

খুলনায় কেডিএস-এর ঈদ পুনর্মিলনী ও বৈশাখী শোভাযাত্রা

ফ্যাসিবাদরা দেশ ছেড়ে পালালেও, দোসররা দেশেই রয়েছে – গোপালগঞ্জে বিএনপি’র মহাসমাবেশে ড. আসাদুজ্জামান রিপন

প্রকাশঃ 03:45:32 pm, Monday, 24 February 2025

 

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সহসভাপতি ড. আসাদুজ্জামান রিপন বলেন- ‘১৬ বছর আন্দোলনের ফল হিসেবে গত ৫ আগষ্ট ফ্যাসিবাদীরা দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। তবে এখনও তাদের দোসরা দেশের নানা জায়গায় রয়ে গেছে। তারাই এখন দেশের মধ্যে নানা ষড়যন্ত্র করছে। আমরা যদি একটি ফ্যাসিবাদী সরকারকে আন্দোলনের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত করতে পারি, তাহলে আমরা ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করতে পারবো না কে?

 

আজ সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারী) বেলা পৌনে ১১টায় গোপালগঞ্জ শহরের পৌরপার্কে কেন্দ্র ঘোষিত জেলা বিএনপির সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

ড. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমরা মানুষের ভোটের অধিকারের জন্য আন্দোলন করছি। বাংলাদেশে গণতান্ত্রিকভাবে সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা আন্দোলন করছি। এখন জাতীয়তাবাদী দল জনগণের ভোটের মাধ্যমে সরকার নির্বাচিত করতে চায়।’

 

তিনি বলেন, ‘আপনারা জানেন না ২০১৮ সালের নির্বাচনে কোন কোন এসপি, ওসি সাহেব রাতের ভোটে এমপি বানিয়েছেন, ব্যালট বাক্স ভরেছেন। ২০১৪ ও ২০১৮ সালের এসপি যারা যেখানে আছেন, তাদেরকে এখন পর্যন্ত বসিয়ে রেখেছেন কেন? তাদেরকে এই মূহুর্তে চাকরি থেকে বাদ দিতে হবে। একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার জন্য আমাদের রাজনীতিকে সুন্দর করতে হবে। হানাহানি, দ্বন্দ্ব এগুলো রাখা যাবে না। আগামীতে যাতে বিএনপি বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে সেজন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।

 

তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপির অনেকে বলেছেন গোপালগঞ্জ নাকি নৌকার ঘাঁটি। কেন নৌকার ঘাঁটি? নৌকা মার্কা গোপালগঞ্জকে কি দিয়েছে। এখানে একজন পুলিশ প্রধান (আইজিপি) বেনজির আহমেদ ছিলেন। তিনি এখানকার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সম্পত্তি জোর-জবরদস্তি করে ব্যক্তিগত খামার করেছেন। বাংলাদেশের জনগণকে খুন-গুম, মিথ্যা মামলা ও জিম্মি করে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটে নিয়েছেন। সেই টাকায় তিনি জমিদারি প্রতিষ্ঠা করার জন্য চেষ্টা চালিয়েছেন।’

 

সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ড. আসাদুজ্জামান খান রিপন ও প্রধান বক্তা হিসেবে কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ বক্তব্য রাখেন।

 

জেলা বিএনপির আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা শরীফ রাফিকুজ্জামানের সভাপতিত্বে ফরিদপুর বিভাগীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিমুজ্জামান সেলিম, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানী, বিএনপি কেন্দ্রীয নির্বাহী কমিটির সহ আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদিন মেজবা, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এফ, ই শরফুজ্জামান জাহাঙ্গীর, এম.এইচ. খান মঞ্জু, সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, সহ-সভাপতি মনিরুজ্জামান পিনু, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম. তৌহিদুর রহমান তাজ, জেলা বিএনপির সদস্য ডাঃ কে. এম বাবর, জেলা যুবদলের সভাপতি শেখ রিয়াজ উদ্দিন লিপ্টন, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মিকাইল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক সাজ্জাতুল ইসলাম হীরা প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। সমাবেশে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে কয়েক হাজার লোকের সমাবেশ ঘটে।

 

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক এ্যাডভোকেট কাজী আবুল খায়ের।

 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন

জেলা বিএনপির সদস্য মাহবুব আলী সোহেল, সৈয়দ কামরুজ্জামান টুটুল, এ্যাড. তৌফিকুল ইসলাম, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি সিকদার শহিদুল ইসলাম লেলিন, সাধারণ সম্পাদক ফজলুল কবির দারা, জেলা যুুবদলের সাধারন সম্পাদক রাসেকুজ্জামান পলাশ, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সাজ্জাদ হোসেন হীরা, সরকারি বঙ্গবন্ধু কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইমরান ইভান আলী প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।