Dhaka 1:54 pm, Friday, 17 April 2026

দোকানের বারান্দায় পড়ে ছিল যুবকের মরদেহ

রাজবাড়ীতে রুবেল সরদার নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (৩০ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে জেলা শহরের পাবলিক হেলথ্ মোড়ে একটি দোকানের বারান্দা থেকে যুবকের মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

রুবেল সরদার (৪০) শহরের দক্ষিণ ভবানীপুর এলাকার মৃত আলম সরদারের ছেলে। তিনি ডাকাতির প্রস্তুতি মামলার আসামি ছিলেন বলে দাবি পুলিশের। তবে নিহতের পরিবারের দাবি, রুবেলকে হত্যা করা হয়েছে। তার শরীরে ধুলোবালি লেগে আছে। তার সঙ্গে অনেক ধস্তাধস্তিও হয়েছে। এটা স্বাভাবিক মৃত্যু নয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১৮ ডিসেম্বর রাতে সদর উপজেলার খানখানাপুর রেলক্রসিং এলাকা থেকে ডাকাতির প্রস্তুতির সময় রুবেল সরদার ও তার সহযোগী নাইম ইসলামকে গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সে সময় তাদের কাছ থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত দুটি সুইস গিয়ার ও ছোরা উদ্ধার করা হয়। ডাকাতির প্রস্তুতির ওই মামলায় জামিনে ছিলেন রুবেল।

রুবেলের ছোট ভাই জুয়েল সরদার বলেন, আমার ভাই আগে পাবলিক হেলথ্ মোড়ে পান-সিগারেটের দোকান করতেন। গত রোজার আগে তিনি তার দোকানটি বিক্রি করে দেন। এরপর থেকে তিনি বেকার ছিলেন। দাম্পত্য কলহের কারণে তার স্ত্রী বন্যা গত ৪ মাস ধরে তিন বছর বয়সী একমাত্র মেয়ে হুমায়রাকে নিয়ে শহরের আটাশ কলোনি এলাকায় বাবার বাড়িতে থাকেন।

তিনি আরও বলেন, আমার ভাই তার ঘরে একাই থাকতেন। মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে আমি তাকে তার ঘরে দেখেছি। এরপর তিনি কখন বাড়ি থেকে বের হয়েছেন তা জানি না। বুধবার সকাল ৬টার দিকে আমি খবর পাই, পাবলিক হেলথ্ মোড়ে জামান স্টোরের সামনে আমার ভাইয়ের মরদেহ পড়ে আছে।

জুয়েল সরদার বলেন, আমার ভাইয়ের মরদেহ দেখে মনে হচ্ছে এটি কোনো স্বাভাবিক মৃত্যু নয়। তার শরীরে ধুলোবালি লেগে আছে। তার সঙ্গে অনেক ধস্তাধস্তি হয়েছে। পুলিশ মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে গেছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে যদি ভাইয়ের স্বাভাবিক মৃত্যু পাওয়া যায়, তাহলে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। আর যদি তাকে হত্যা করা হয়ে থাকে তাহলে আমরা এর বিচার চাই।

রুবেলের স্ত্রী বন্যা বলেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর আমার স্বামী আমার বাবার বাড়িতে গিয়ে মেয়েকে নিয়ে বাজারে যান। মেয়েকে বাজার থেকে ঘুরিয়ে খাবার কিনে দিয়ে তিনি আবার আমার কাছে দিয়ে চলে যান। এরপর সকাল ৭টার দিকে আমি খবর পাই, পাবলিক হেলথ্ মোড়ে আমার স্বামীর মরদেহ পড়ে আছে। আমার স্বামী এর আগে স্ট্রোক করেছিলেন। তবে আজ কি কারণে তার মৃত্যু হয়েছে তা সঠিক বলতে পারছি না।

জামান স্টোরের মালিক শাহিদুজ্জামান শাহিন জানান, মঙ্গলবার ঝড়ের কারণে সন্ধ্যা ৭টার দিকে তার ছেলে দোকান বন্ধ করে বাড়ি চলে যায়। সকাল ৭টার দিকে তিনি খবর পান যে, তার দোকানের সামনে রুবেলের মরদেহ পড়ে আছে।

রাজবাড়ী সদর থানার ওসি মো. মাহমুদুর রহমান বলেন, পাবলিক হেলথ্ মোড়ে একটি দোকানের বারান্দা থেকে রুবেল সরদার নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। মরদেহের শরীরে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

খুলনায় কেডিএস-এর ঈদ পুনর্মিলনী ও বৈশাখী শোভাযাত্রা

দোকানের বারান্দায় পড়ে ছিল যুবকের মরদেহ

প্রকাশঃ 04:57:17 am, Wednesday, 30 April 2025
রাজবাড়ীতে রুবেল সরদার নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (৩০ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে জেলা শহরের পাবলিক হেলথ্ মোড়ে একটি দোকানের বারান্দা থেকে যুবকের মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

রুবেল সরদার (৪০) শহরের দক্ষিণ ভবানীপুর এলাকার মৃত আলম সরদারের ছেলে। তিনি ডাকাতির প্রস্তুতি মামলার আসামি ছিলেন বলে দাবি পুলিশের। তবে নিহতের পরিবারের দাবি, রুবেলকে হত্যা করা হয়েছে। তার শরীরে ধুলোবালি লেগে আছে। তার সঙ্গে অনেক ধস্তাধস্তিও হয়েছে। এটা স্বাভাবিক মৃত্যু নয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১৮ ডিসেম্বর রাতে সদর উপজেলার খানখানাপুর রেলক্রসিং এলাকা থেকে ডাকাতির প্রস্তুতির সময় রুবেল সরদার ও তার সহযোগী নাইম ইসলামকে গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সে সময় তাদের কাছ থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত দুটি সুইস গিয়ার ও ছোরা উদ্ধার করা হয়। ডাকাতির প্রস্তুতির ওই মামলায় জামিনে ছিলেন রুবেল।

রুবেলের ছোট ভাই জুয়েল সরদার বলেন, আমার ভাই আগে পাবলিক হেলথ্ মোড়ে পান-সিগারেটের দোকান করতেন। গত রোজার আগে তিনি তার দোকানটি বিক্রি করে দেন। এরপর থেকে তিনি বেকার ছিলেন। দাম্পত্য কলহের কারণে তার স্ত্রী বন্যা গত ৪ মাস ধরে তিন বছর বয়সী একমাত্র মেয়ে হুমায়রাকে নিয়ে শহরের আটাশ কলোনি এলাকায় বাবার বাড়িতে থাকেন।

তিনি আরও বলেন, আমার ভাই তার ঘরে একাই থাকতেন। মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে আমি তাকে তার ঘরে দেখেছি। এরপর তিনি কখন বাড়ি থেকে বের হয়েছেন তা জানি না। বুধবার সকাল ৬টার দিকে আমি খবর পাই, পাবলিক হেলথ্ মোড়ে জামান স্টোরের সামনে আমার ভাইয়ের মরদেহ পড়ে আছে।

জুয়েল সরদার বলেন, আমার ভাইয়ের মরদেহ দেখে মনে হচ্ছে এটি কোনো স্বাভাবিক মৃত্যু নয়। তার শরীরে ধুলোবালি লেগে আছে। তার সঙ্গে অনেক ধস্তাধস্তি হয়েছে। পুলিশ মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে গেছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে যদি ভাইয়ের স্বাভাবিক মৃত্যু পাওয়া যায়, তাহলে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। আর যদি তাকে হত্যা করা হয়ে থাকে তাহলে আমরা এর বিচার চাই।

রুবেলের স্ত্রী বন্যা বলেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর আমার স্বামী আমার বাবার বাড়িতে গিয়ে মেয়েকে নিয়ে বাজারে যান। মেয়েকে বাজার থেকে ঘুরিয়ে খাবার কিনে দিয়ে তিনি আবার আমার কাছে দিয়ে চলে যান। এরপর সকাল ৭টার দিকে আমি খবর পাই, পাবলিক হেলথ্ মোড়ে আমার স্বামীর মরদেহ পড়ে আছে। আমার স্বামী এর আগে স্ট্রোক করেছিলেন। তবে আজ কি কারণে তার মৃত্যু হয়েছে তা সঠিক বলতে পারছি না।

জামান স্টোরের মালিক শাহিদুজ্জামান শাহিন জানান, মঙ্গলবার ঝড়ের কারণে সন্ধ্যা ৭টার দিকে তার ছেলে দোকান বন্ধ করে বাড়ি চলে যায়। সকাল ৭টার দিকে তিনি খবর পান যে, তার দোকানের সামনে রুবেলের মরদেহ পড়ে আছে।

রাজবাড়ী সদর থানার ওসি মো. মাহমুদুর রহমান বলেন, পাবলিক হেলথ্ মোড়ে একটি দোকানের বারান্দা থেকে রুবেল সরদার নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। মরদেহের শরীরে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।