Dhaka 3:25 pm, Friday, 17 April 2026

দ্বিতীয় মেয়াদে কানাডার প্রধানমন্ত্রী হতে যাওয়া কে এই মার্ক কার্নি

টানা চতুর্থবারের মতো কানাডার সাধারণ নির্বাচনে জয় পেয়েছে লিবারেল পার্টি। সব কিছু স্বাভাবিক থাকলে ক্ষমতাসীন দলটির প্রধান নেতা মার্ক কার্নি আবারও দেশটির প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন। খবর রয়টার্সের।

৬০ বছর বয়সী মার্ক কার্নি গত মাসে জাস্টিন ট্রুডোর স্থলাভিষিক্ত হয়ে লিবারেল পার্টির নেতা এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সাধারণ নির্বাচনে তার দলের জয়ের মাধ্যমে তিনি দ্বিতীয় মেয়াদে কানাডার সরকারপ্রধান হতে যাচ্ছেন।

ট্রুডো জানুয়ারিতে প্রায় এক দশক ক্ষমতায় থাকার পর জনপ্রিয়তা হারিয়ে পদত্যাগ করেন। কার্নি প্রথম ব্যক্তি যিনি আইনপ্রণেতা না হয়ে বা মন্ত্রিসভার কোনো অভিজ্ঞতা ছাড়াই কানাডার প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন।

সাধারণ সময়ে, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার অভাব লিবারেল পার্টির নেতা হিসেবে তার প্রতিদ্বন্দ্বিতা অসম্ভব ছিল। কিন্তু কানাডার টালমাতাল পরিস্থিতিতে ট্রুডোর থেকে কার্নির দূরত্ব এবং উচ্চ-প্রোফাইল ব্যাংকিং ক্যারিয়ার তার পক্ষে সুবিধা হয়ে দাঁড়ায়।

কার্নির জন্ম ১৯৬৫ সালে কানাডার উত্তর-পশ্চিম টেরিটরিজের ফোর্ট স্মিথে এবং তিনি আলবার্টায় বেড়ে ওঠেন। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক এবং অক্সফোর্ড থেকে স্নাতকোত্তর ও ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ব্যাংক অব কানাডা (২০০৮-২০১৩) এবং ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের গভর্নর (২০১৩-২০২০) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, যা তাকে আর্থিক সংকট মোকাবিলায় দক্ষ নেতা হিসেবে পরিচিত করেছে।

রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা না থাকলেও কার্নির অর্থনৈতিক দক্ষতা এবং সংকট মোকাবিলার অভিজ্ঞতা তাকে এই চ্যালেঞ্জিং সময়ে কানাডার নেতৃত্ব দিতে সক্ষম করবে বলে আশা করা হচ্ছে। তাই দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় তিনি কী কার্যকর পদক্ষেপের নেবেন সে দিকে তাকিয়ে রয়েছে পুরো বিশ্ব।

এর আগে মার্চের মাঝামাঝিতে দলের সদস্যদের ভোটে লিবারেল পার্টির নতুন নেতা বাছাই হয়। এতে মার্ক কার্নি ১ লাখ ৩১ হাজার ৬৭৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিস্টিনা ফ্রিল্যান্ড পেয়েছেন ১১ হাজার ১৩৪ ভোট। কানাডার রাজনৈতিক ব্যবস্থায় হাউস অব কমন্সের সবচেয়ে বড় দল হিসেবে যিনি লিবারেল পার্টির প্রধান হবেন, দেশটির প্রধানমন্ত্রীও হন তিনি। সে হিসেবে ট্রুডোর বাকি সময়ের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পান কার্নি।

কার্নি হার্ভার্ড এবং অক্সফোর্ডের স্নাতক। তিনি ১৯৮৮ সালে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর এবং ডক্টরেট উভয় ডিগ্রি অর্জন করেন।

কার্নি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আইস হকি দলে গোলরক্ষক হিসেবে খেলেছিলেন। রিডার্স ডাইজেস্ট কানাডায় প্রকাশিত ২০১১ সালে কার্নির একটি প্রোফাইলের তথ্য বলছে, তিনি ইংরেজি সাহিত্য এবং গণিত অধ্যয়ন করতে চেয়েছিলেন কিন্তু কানাডিয়ান-আমেরিকান অর্থনীতিবিদ জন কেনেথ গ্যালব্রেথের বক্তৃতা শুনে অর্থনীতিতে তার গভীর আগ্রহ তৈরি হয়

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

টেকনাফে নৌবাহিনীর বড় অভিযান: ৭২ হাজার পিস ইয়াবাসহ ২ কারবারি আটক

দ্বিতীয় মেয়াদে কানাডার প্রধানমন্ত্রী হতে যাওয়া কে এই মার্ক কার্নি

প্রকাশঃ 09:19:29 am, Tuesday, 29 April 2025
টানা চতুর্থবারের মতো কানাডার সাধারণ নির্বাচনে জয় পেয়েছে লিবারেল পার্টি। সব কিছু স্বাভাবিক থাকলে ক্ষমতাসীন দলটির প্রধান নেতা মার্ক কার্নি আবারও দেশটির প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন। খবর রয়টার্সের।

৬০ বছর বয়সী মার্ক কার্নি গত মাসে জাস্টিন ট্রুডোর স্থলাভিষিক্ত হয়ে লিবারেল পার্টির নেতা এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সাধারণ নির্বাচনে তার দলের জয়ের মাধ্যমে তিনি দ্বিতীয় মেয়াদে কানাডার সরকারপ্রধান হতে যাচ্ছেন।

ট্রুডো জানুয়ারিতে প্রায় এক দশক ক্ষমতায় থাকার পর জনপ্রিয়তা হারিয়ে পদত্যাগ করেন। কার্নি প্রথম ব্যক্তি যিনি আইনপ্রণেতা না হয়ে বা মন্ত্রিসভার কোনো অভিজ্ঞতা ছাড়াই কানাডার প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন।

সাধারণ সময়ে, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার অভাব লিবারেল পার্টির নেতা হিসেবে তার প্রতিদ্বন্দ্বিতা অসম্ভব ছিল। কিন্তু কানাডার টালমাতাল পরিস্থিতিতে ট্রুডোর থেকে কার্নির দূরত্ব এবং উচ্চ-প্রোফাইল ব্যাংকিং ক্যারিয়ার তার পক্ষে সুবিধা হয়ে দাঁড়ায়।

কার্নির জন্ম ১৯৬৫ সালে কানাডার উত্তর-পশ্চিম টেরিটরিজের ফোর্ট স্মিথে এবং তিনি আলবার্টায় বেড়ে ওঠেন। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক এবং অক্সফোর্ড থেকে স্নাতকোত্তর ও ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ব্যাংক অব কানাডা (২০০৮-২০১৩) এবং ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের গভর্নর (২০১৩-২০২০) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, যা তাকে আর্থিক সংকট মোকাবিলায় দক্ষ নেতা হিসেবে পরিচিত করেছে।

রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা না থাকলেও কার্নির অর্থনৈতিক দক্ষতা এবং সংকট মোকাবিলার অভিজ্ঞতা তাকে এই চ্যালেঞ্জিং সময়ে কানাডার নেতৃত্ব দিতে সক্ষম করবে বলে আশা করা হচ্ছে। তাই দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় তিনি কী কার্যকর পদক্ষেপের নেবেন সে দিকে তাকিয়ে রয়েছে পুরো বিশ্ব।

এর আগে মার্চের মাঝামাঝিতে দলের সদস্যদের ভোটে লিবারেল পার্টির নতুন নেতা বাছাই হয়। এতে মার্ক কার্নি ১ লাখ ৩১ হাজার ৬৭৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিস্টিনা ফ্রিল্যান্ড পেয়েছেন ১১ হাজার ১৩৪ ভোট। কানাডার রাজনৈতিক ব্যবস্থায় হাউস অব কমন্সের সবচেয়ে বড় দল হিসেবে যিনি লিবারেল পার্টির প্রধান হবেন, দেশটির প্রধানমন্ত্রীও হন তিনি। সে হিসেবে ট্রুডোর বাকি সময়ের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পান কার্নি।

কার্নি হার্ভার্ড এবং অক্সফোর্ডের স্নাতক। তিনি ১৯৮৮ সালে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর এবং ডক্টরেট উভয় ডিগ্রি অর্জন করেন।

কার্নি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আইস হকি দলে গোলরক্ষক হিসেবে খেলেছিলেন। রিডার্স ডাইজেস্ট কানাডায় প্রকাশিত ২০১১ সালে কার্নির একটি প্রোফাইলের তথ্য বলছে, তিনি ইংরেজি সাহিত্য এবং গণিত অধ্যয়ন করতে চেয়েছিলেন কিন্তু কানাডিয়ান-আমেরিকান অর্থনীতিবিদ জন কেনেথ গ্যালব্রেথের বক্তৃতা শুনে অর্থনীতিতে তার গভীর আগ্রহ তৈরি হয়