Dhaka 1:40 am, Sunday, 28 June 2026

ছাত্ররাজনীতি বন্ধে ফের উত্তাল রুয়েট

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি বন্ধের দাবিতে আবারও কর্মসূচিতে নেমেছেন একদল শিক্ষার্থী।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারা। এ সময় ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকে ছাত্রদল-সমর্থিত শিক্ষার্থীদের পৃথক অবস্থান কর্মসূচিও দেখা যায়।

কর্মসূচিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ‘ছাত্রদলের ঠিকানা, এই ক্যাম্পাসে হবে না, ‘ছাত্রশিবিরের ঠিকানা, এই ক্যাম্পাসে হবে না’, ‘এনসিপির ঠিকানা এই ক্যাম্পাসে হবে না’, ‘ওয়ান টু থ্রি ফোর, পলিটিকস নো মোর’-সহ বেশ কিছু স্লোগান দিতে দেখা যায়।

অবস্থান কর্মসূচি থেকে শিক্ষার্থীরা তিন দফা দাবি জানিয়েছেন। দাবিগুলো হলো—ছাত্ররাজনীতি আনার লক্ষ্যে ক্যাম্পাসে অরাজকতা সৃষ্টিকারীদের বহিষ্কার; ১০ আগস্ট ২০২৪ পাস হওয়া প্রজ্ঞাপনে সব ধরনের ও সব দলের রাজনীতি নিষিদ্ধ ছিল—এর সপক্ষে প্রশাসনের সঠিক জবাবদিহি; নির্বাচনকালীন কমিটি গঠন করে প্রশাসনকে ১৫ দিনের মধ্যে গণভোটের আয়োজন করতে হবে যে রুয়েটের শিক্ষার্থীরা রাজনীতি চায় কি চায় না।

ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রিদোয়ান সিদ্দিকী বলেন, ‌অধিকাংশ শিক্ষার্থী এখানে কোনো ধরনের রাজনীতি চান না। প্রয়োজনে আবার গণভোট হতে পারে যে এই ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি থাকবে কি না।

এ ব্যাপারে প্রশাসন যেন কমিটি করে সিদ্ধান্ত নেয়।’

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে থেকে ছাত্রদলের সমর্থক একাধিক শিক্ষার্থী জানান, ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের কোনো কমিটি নেই। তবে গুপ্তভাবে অনেকেই রাজনৈতিক কার্যক্রম চালাচ্ছেন। তারা এ ধরনের গুপ্ত রাজনীতির বিরুদ্ধে দেয়াললিখন করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের যন্ত্রকৌশল বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আরাফ মাসুদ বলেন, ‘৫ আগস্টের পর ক্যাম্পাসগুলোতে ছাত্ররাজনীতির বিরুদ্ধে নানা রকম দাবি উঠেছিল। পরবর্তী সময়ে দেখা গেছে, একটি বিশেষ রাজনৈতিক দল নিজেদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করেছে। তারা গুপ্ত রাজনীতি করেছে। রুয়েটেও একইভাবে এই রাজনীতি হচ্ছে। আমরা এমন গুপ্ত রাজনীতির বিরুদ্ধে।

বিকেল ৪টার পর রুয়েটের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি জানান, উপাচার্য বর্তমানে ক্যাম্পাসের বাইরে অবস্থান করছেন। এই তিন দফা তিনি উপাচার্যের কাছে দেবেন। উপাচার্য এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।

পরে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবন থেকে মিছিল নিয়ে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের দিকে যান। সেখানে তারা ‘নো পলিটিকস’ সংবলিত ব্যানার টানিয়ে দেয়। পরে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে শিক্ষার্থীরা কর্মসূচি শেষ করেন।

এর আগে রবিউল ইসলাম সরকার মুঠোফোনে একটি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘রুয়েটে ৫ আগস্টের পর কোনো রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠন কমিটি দিতে পারেনি। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন কার্যক্রমের খবর আসছে। এটি নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হচ্ছে। বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

অন্যদিকে গতকাল রাতেও প্রকাশ্য ও গুপ্ত রাজনীতির বিরোধিতা করে বিক্ষোভ মিছিল করেন একদল শিক্ষার্থী। মিছিলটি রাত দেড়টার দিকে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান হলের সামনে পৌঁছালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় ছাত্রদল-সমর্থিত শিক্ষার্থীরা দলের পক্ষে স্লোগান দেন।

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

রামপালে ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণ: মামলা, গ্রেপ্তার ১

ছাত্ররাজনীতি বন্ধে ফের উত্তাল রুয়েট

প্রকাশঃ 04:22:11 pm, Monday, 27 April 2026

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি বন্ধের দাবিতে আবারও কর্মসূচিতে নেমেছেন একদল শিক্ষার্থী।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারা। এ সময় ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকে ছাত্রদল-সমর্থিত শিক্ষার্থীদের পৃথক অবস্থান কর্মসূচিও দেখা যায়।

কর্মসূচিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ‘ছাত্রদলের ঠিকানা, এই ক্যাম্পাসে হবে না, ‘ছাত্রশিবিরের ঠিকানা, এই ক্যাম্পাসে হবে না’, ‘এনসিপির ঠিকানা এই ক্যাম্পাসে হবে না’, ‘ওয়ান টু থ্রি ফোর, পলিটিকস নো মোর’-সহ বেশ কিছু স্লোগান দিতে দেখা যায়।

অবস্থান কর্মসূচি থেকে শিক্ষার্থীরা তিন দফা দাবি জানিয়েছেন। দাবিগুলো হলো—ছাত্ররাজনীতি আনার লক্ষ্যে ক্যাম্পাসে অরাজকতা সৃষ্টিকারীদের বহিষ্কার; ১০ আগস্ট ২০২৪ পাস হওয়া প্রজ্ঞাপনে সব ধরনের ও সব দলের রাজনীতি নিষিদ্ধ ছিল—এর সপক্ষে প্রশাসনের সঠিক জবাবদিহি; নির্বাচনকালীন কমিটি গঠন করে প্রশাসনকে ১৫ দিনের মধ্যে গণভোটের আয়োজন করতে হবে যে রুয়েটের শিক্ষার্থীরা রাজনীতি চায় কি চায় না।

ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রিদোয়ান সিদ্দিকী বলেন, ‌অধিকাংশ শিক্ষার্থী এখানে কোনো ধরনের রাজনীতি চান না। প্রয়োজনে আবার গণভোট হতে পারে যে এই ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি থাকবে কি না।

এ ব্যাপারে প্রশাসন যেন কমিটি করে সিদ্ধান্ত নেয়।’

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে থেকে ছাত্রদলের সমর্থক একাধিক শিক্ষার্থী জানান, ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের কোনো কমিটি নেই। তবে গুপ্তভাবে অনেকেই রাজনৈতিক কার্যক্রম চালাচ্ছেন। তারা এ ধরনের গুপ্ত রাজনীতির বিরুদ্ধে দেয়াললিখন করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের যন্ত্রকৌশল বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আরাফ মাসুদ বলেন, ‘৫ আগস্টের পর ক্যাম্পাসগুলোতে ছাত্ররাজনীতির বিরুদ্ধে নানা রকম দাবি উঠেছিল। পরবর্তী সময়ে দেখা গেছে, একটি বিশেষ রাজনৈতিক দল নিজেদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করেছে। তারা গুপ্ত রাজনীতি করেছে। রুয়েটেও একইভাবে এই রাজনীতি হচ্ছে। আমরা এমন গুপ্ত রাজনীতির বিরুদ্ধে।

বিকেল ৪টার পর রুয়েটের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি জানান, উপাচার্য বর্তমানে ক্যাম্পাসের বাইরে অবস্থান করছেন। এই তিন দফা তিনি উপাচার্যের কাছে দেবেন। উপাচার্য এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।

পরে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবন থেকে মিছিল নিয়ে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের দিকে যান। সেখানে তারা ‘নো পলিটিকস’ সংবলিত ব্যানার টানিয়ে দেয়। পরে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে শিক্ষার্থীরা কর্মসূচি শেষ করেন।

এর আগে রবিউল ইসলাম সরকার মুঠোফোনে একটি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘রুয়েটে ৫ আগস্টের পর কোনো রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠন কমিটি দিতে পারেনি। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন কার্যক্রমের খবর আসছে। এটি নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হচ্ছে। বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

অন্যদিকে গতকাল রাতেও প্রকাশ্য ও গুপ্ত রাজনীতির বিরোধিতা করে বিক্ষোভ মিছিল করেন একদল শিক্ষার্থী। মিছিলটি রাত দেড়টার দিকে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান হলের সামনে পৌঁছালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় ছাত্রদল-সমর্থিত শিক্ষার্থীরা দলের পক্ষে স্লোগান দেন।