রাষ্ট্রীয় ভোজ এবং জাঁকজমক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি দুই নেতার এজেন্ডায় আরো গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় থাকবে, এশিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য আলোচনা এগিয়ে নেওয়া। ইউরোপের জন্য বিশেষভাবে কঠিন ভূ-রাজনৈতিক মুহূর্তে এসেছে। কারণ রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথমে গ্রিনল্যান্ডের মার্কিন দখলের বিরোধিতা করার জন্য ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে তার বাণিজ্য যুদ্ধ আরো তীব্র করার হুমকি দিয়েছেন এবং তারপরে পিছু হটছেন ।
কূটনৈতিক সংকেত ছাড়াও, এতে দুই পক্ষের জন্য কী লাভ?
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) জন্য ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ বাণিজ্য সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরো বলেন, ‘একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি পোশাক, ওষুধ, ইস্পাত, পেট্রোলিয়াম পণ্য ও যন্ত্রপাতির মতো গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানির ওপর শুল্ক কমাবে এবং ভারতীয় সংস্থাগুলোকে উচ্চ মার্কিন শুল্কের ধাক্কা আরো ভালভাবে সামলাতে সাহায্য করবে।’ কিন্তু ভারত কৃষি ও দুগ্ধজাত পণ্যের মতো রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল ক্ষেত্রগুলোকে চুক্তি থেকে রক্ষা করবে বলে আশা করা হচ্ছে, অন্যদিকে গাড়ি, ওয়াইন এবং স্পিরিটের মতো খাতগুলোতে পর্যায়ক্রমে শুল্ক কমানো সম্ভব হবে, যা পূর্ববর্তী চুক্তিতে গৃহীত পদ্ধতির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। যেমন যুক্তরাজ্যের সঙ্গে। বাজপেই বলেন, ‘ভারতের প্রবণতা হলো বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনার জন্য পর্যায়ক্রমে দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করা, রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল বিষয়গুলোকে পরবর্তী আলোচনার পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া।’
অগ্রগতি হলেও কিছু বড় মতপার্থক্য এখনো রয়ে গেছে। ইউরোপের কাছে মেধাস্বত্ব সুরক্ষা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তারা আরো শক্ত ডেটা সুরক্ষা আইন এবং কঠোর পেটেন্ট নিয়ম চায়। অন্যদিকে ভারতের জন্য বড় সমস্যা হলো ইউরোপের নতুন কার্বন কর, যার নাম সিবিএএম (কার্বন বর্ডার অ্যাডজাস্টমেন্ট মেকানিজম)। এই করটি ইউরোপ এ বছর থেকেই চালু করেছে।
জিটিআরআই-এর শ্রীবাস্তব বলেন, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আওতায় আমদানি শুল্ক তুলে নেওয়া হলেও সিবিএএম কার্যত ভারতীয় পণ্যের ওপর নতুন এক ধরনের সীমান্ত করের মতো কাজ করছে। এটি বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি শিল্পের জন্য ক্ষতিকর, কারণ তাদের উচ্চ ব্যয় মেনে চলতে হয়, জটিল রিপোর্ট দিতে হয় এবং বেশি নির্গমন ধরা হলে শাস্তির ঝুঁকিও থাকে।
শ্রীবাস্তবের মতে, এই চুক্তি শেষ পর্যন্ত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়াবে নাকি কৌশলগতভাবে ভুল সিদ্ধান্ত হবে—তা নির্ভর করবে এসব শেষ মুহূর্তের সমস্যার সমাধান কিভাবে হয় তার ওপর।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে এই চুক্তি উভয় পক্ষের জন্যই লাভজনক হতে পারে।
সিঙ্গাপুরের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালেক্স ক্যাপ্রি বলেন, ‘এই চুক্তির ফলে যুক্তরাষ্ট্র বা অন্যান্য অবিশ্বস্ত অংশীদারদের ওপর অতিরিক্ত বাণিজ্য নির্ভরতা কমানো সম্ভব হতে পারে। এতে ট্রাম্পের আমেরিকা বা চীনের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং বারবার শুল্ক বৃদ্ধি, রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ ও সরবরাহ ব্যবস্থাকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের ঝুঁকিও কমে আসবে।’
ক্যাপ্রি আরো বলেন, ‘ভারতের উচ্চ কার্বন নিঃসরণ এবং মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের কারণে ইউরোপে এই চুক্তির বিরোধিতা আছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল কেনা কমানোর ভারতের সিদ্ধান্ত ইইউ পার্লামেন্টে চুক্তিটি অনুমোদন পেতে সহায়ক হতে পারে, যা কার্যকর হওয়ার জন্য জরুরি।’ দাশগুপ্ত বলেন, ‘২০২৬ সালের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে ইইউ নেতারা এখন এই বাণিজ্য চুক্তিকে আগের চেয়ে বেশি ইতিবাচকভাবে দেখছেন।’
দেশের তথ্য ডেস্ক 















