Dhaka 1:36 am, Sunday, 28 June 2026

ভুয়ো সমর্থনপত্র পাঠিয়ে থালাপতি বিপদে

রাজনীতির শেষ কথা কে বলবে? তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক অচলাবস্থায় এখনও স্পষ্ট হয়নি কে সরকার গঠন করবে। ভোটের পাঁচ দিন পরেও রাজ্যে সরকার গঠনের চিত্র ধোঁয়াশা। প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় একাধিকবার রাজভবন থেকে ফিরতে হয়েছে টিভিকে প্রধান থালাপতি বিজয়কে।

এই রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই এবার আইনি জটিলতায় জড়ালেন তিনি।

অভিযোগ উঠেছে, আম্মা মাক্কাল মুন্নেত্রা কাজাঘাম (এএমএমকে)-এর একমাত্র বিধায়কের ভুয়ো সমর্থনপত্র দেখিয়ে তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠতার দাবি করেছেন।

শুক্রবার (৮ মে) রাতেই বিজয়ের দল দাবি করেছিল, তারা প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে গেছে। অর্থাৎ, ১১৮ জন বিধায়কের সমর্থন রয়েছে তাদের কাছে। ফলে প্রকাশ পায়, শনিবারই মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিতে যাচ্ছেন বিজয়।

কিন্তু এই খবর প্রকাশ্যে আসার কিছু ক্ষণের মধ্যেই লোকভবন সূত্রে খবর পাওয়া যায়, ১১৮ জন বিধায়কের সমর্থন আছে বলে মৌখিকভাবে জানালেও বিজয় লিখিত প্রমাণ দেখাতে পারেনি। ঘটনাচক্রে, তার পরেই এএমএমকে-র সাধারণ সম্পাদক টিটিভি দীনাকরণ বিজয়ের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযোগ জানান। দীনাকরণের অভিযোগ, তার দলের একমাত্র বিধায়ক এস কামরাজের একটি ভুয়ো সমর্থনপত্র রাজ্যপালের কাছে পেশ করেছিলেন বিজয়। এএমএমকে-র বিধায়ক মোটেই টিভিকে-কে সরকার গড়ার জন্য সমর্থন করেনি।

যদিও দীনাকরণের এই দাবি অস্বীকার করেছে বিজয়ের দল। তারা একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে সামাজিক মাধ্যমে। ওই ভিডিও’র সত্যতা এই সময় অনলাইন যাচাই করেনি। ভিডিও দেখিয়ে টিভিকে-র দাবি, কামরাজ নিজের হাতে সমর্থনপত্রে সই করেছেন। দীনাকরণই তাতে অনুমোদন দিয়েছেন বলে দাবি করেছে টিভিকে।

ডিএমকে ও এডিএমকে, দ্রাবিড় রাজনীতির দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দলকে নির্বাচনে পেছনে ফেলে সবচেয়ে বেশি আসন পেয়েছে বিজয়ের দল। তিনি যখন সরকার গঠনের চেষ্টা করছেন, ঠিক সেই সময়ে ডিএমকে-র সমর্থন নিয়ে এডিএমকে সরকার গঠনের চেষ্টা শুরু করেছে। সূত্রের খবর, ডিএমকে এ জন্য বামেদের সমর্থন জোগাড়ের চেষ্টা করছে।

কংগ্রেস মনে করছে, রাজ্যপাল ও বিজেপি আসলে বিজয়কে মুখ্যমন্ত্রী হতে বাধা দিয়ে তামিলনাড়ুতে এনডিএ-র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। রাজ্যপাল যেন বিজয়কেই সরকার গঠন করতে ডাকেন, সেই জন্য এক টিভিকে নেতা সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছেন।

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

রামপালে ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণ: মামলা, গ্রেপ্তার ১

ভুয়ো সমর্থনপত্র পাঠিয়ে থালাপতি বিপদে

প্রকাশঃ 06:24:31 am, Saturday, 9 May 2026

রাজনীতির শেষ কথা কে বলবে? তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক অচলাবস্থায় এখনও স্পষ্ট হয়নি কে সরকার গঠন করবে। ভোটের পাঁচ দিন পরেও রাজ্যে সরকার গঠনের চিত্র ধোঁয়াশা। প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় একাধিকবার রাজভবন থেকে ফিরতে হয়েছে টিভিকে প্রধান থালাপতি বিজয়কে।

এই রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই এবার আইনি জটিলতায় জড়ালেন তিনি।

অভিযোগ উঠেছে, আম্মা মাক্কাল মুন্নেত্রা কাজাঘাম (এএমএমকে)-এর একমাত্র বিধায়কের ভুয়ো সমর্থনপত্র দেখিয়ে তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠতার দাবি করেছেন।

শুক্রবার (৮ মে) রাতেই বিজয়ের দল দাবি করেছিল, তারা প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে গেছে। অর্থাৎ, ১১৮ জন বিধায়কের সমর্থন রয়েছে তাদের কাছে। ফলে প্রকাশ পায়, শনিবারই মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিতে যাচ্ছেন বিজয়।

কিন্তু এই খবর প্রকাশ্যে আসার কিছু ক্ষণের মধ্যেই লোকভবন সূত্রে খবর পাওয়া যায়, ১১৮ জন বিধায়কের সমর্থন আছে বলে মৌখিকভাবে জানালেও বিজয় লিখিত প্রমাণ দেখাতে পারেনি। ঘটনাচক্রে, তার পরেই এএমএমকে-র সাধারণ সম্পাদক টিটিভি দীনাকরণ বিজয়ের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযোগ জানান। দীনাকরণের অভিযোগ, তার দলের একমাত্র বিধায়ক এস কামরাজের একটি ভুয়ো সমর্থনপত্র রাজ্যপালের কাছে পেশ করেছিলেন বিজয়। এএমএমকে-র বিধায়ক মোটেই টিভিকে-কে সরকার গড়ার জন্য সমর্থন করেনি।

যদিও দীনাকরণের এই দাবি অস্বীকার করেছে বিজয়ের দল। তারা একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে সামাজিক মাধ্যমে। ওই ভিডিও’র সত্যতা এই সময় অনলাইন যাচাই করেনি। ভিডিও দেখিয়ে টিভিকে-র দাবি, কামরাজ নিজের হাতে সমর্থনপত্রে সই করেছেন। দীনাকরণই তাতে অনুমোদন দিয়েছেন বলে দাবি করেছে টিভিকে।

ডিএমকে ও এডিএমকে, দ্রাবিড় রাজনীতির দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দলকে নির্বাচনে পেছনে ফেলে সবচেয়ে বেশি আসন পেয়েছে বিজয়ের দল। তিনি যখন সরকার গঠনের চেষ্টা করছেন, ঠিক সেই সময়ে ডিএমকে-র সমর্থন নিয়ে এডিএমকে সরকার গঠনের চেষ্টা শুরু করেছে। সূত্রের খবর, ডিএমকে এ জন্য বামেদের সমর্থন জোগাড়ের চেষ্টা করছে।

কংগ্রেস মনে করছে, রাজ্যপাল ও বিজেপি আসলে বিজয়কে মুখ্যমন্ত্রী হতে বাধা দিয়ে তামিলনাড়ুতে এনডিএ-র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। রাজ্যপাল যেন বিজয়কেই সরকার গঠন করতে ডাকেন, সেই জন্য এক টিভিকে নেতা সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছেন।