সুইজারল্যান্ডের জেনেভার একটি স্থানীয় হলে উৎসবমুখর পরিবেশে পালিত হয়েছে বাংলা নববর্ষ-১৪৩৩। বাংলাদেশ ক্লাব জেনেভার উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাশাপাশি জেনেভা ওনেক্সের প্রশাসনিক কাউন্সিলর, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক এবং আন্তর্জাতিক সংস্থায় কর্মরত ব্যক্তিবর্গ অংশ নেন
গত শনিবার (২৫ এপ্রিল) সন্ধ্যায় জেনেভার একটি হলে উক্ত অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বৈশাখকে ঘিরে দেশীয় পোশাকে সজ্জিত উপস্থিতিদের অংশগ্রহণে আল্পস পর্বতমালার পাদদেশে যেন এক টুকরো বাংলাদেশের আবহ তৈরি হয়।
ব্যস্ত জীবনের ক্লান্তি ভুলে জেনেভায় বসবাসরত প্রবাসী বাঙালিরা পহেলা বৈশাখের আনন্দে মেতে ওঠেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পরিবেশিত হয় বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত। এরপর ‘এসো হে বৈশাখ’ গানের সমবেত পরিবেশনার মাধ্যমে নতুন বছরকে বরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেনেভার গ্রিনস পার্টির প্রেসিডেন্ট মারিয়াম ইউনুস এবেনার।
বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশের স্থানীয় মিশনের কাউন্সিলরসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও জেনেভা কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।
এ সময় প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বাংলাদেশি কমিউনিটির সাংস্কৃতিক ঐক্যের প্রশংসা করেন।
বাংলাদেশ ক্লাব জেনেভার সভাপতি নুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য প্রবাসে বেড়ে ওঠা প্রজন্মের কাছে বাংলাদেশের হাজার বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরা।’
সাধারণ সম্পাদক মারুফ আনোয়ার আগত সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে ভবিষ্যতের পথচলায় সবার সহযোগিতা কামনা করেন। এ সময় সাবেক সভাপতি হারুন রশিদকে বিদায়ি সংবর্ধনা ও সম্মাননা প্রদান করা হয়।
পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ইতি ইসলাম ও খাদিজা বিনতে নুরুল। অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল শিশু-কিশোরদের বর্ণাঢ্য পরিবেশনা। ওয়ানিয়া, আসবা, আহিয়া, ওয়াসিমা, দিলারা এবং আফসারার নৃত্য পরিবেশনায় অনুষ্ঠানস্থল প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। এ ছাড়া কুদরত এলাহির কবিতা আবৃত্তি অনুষ্ঠানে ভিন্ন মাত্রা যোগ করে।
সাংস্কৃতিক পর্বে সংগীত শিল্পী রবিন বড়ুয়া, অবন্তী বড়ুয়া, উৎসরি দাস এবং রিয়াজুল হক ফরহাদ সুরের মূর্ছনায় দর্শকদের মুগ্ধ করেন।
সাংস্কৃতিক সম্পাদক শহীদুল আলম স্বপনের নেতৃত্বে আয়োজিত এই পর্বের শেষে লন্ডন থেকে আগত অতিথি শিল্পীরা মঞ্চে ওঠেন। রওশনারা মনি, অমিত দে এবং স্যান্ডিম্যানের পরিবেশনায় দর্শকরা নাচে-গানে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানের শেষে বাংলাদেশ ক্লাবের নতুন কার্যনির্বাহী কমিটির পরিচিতি তুলে ধরা হয় এবং ঐতিহ্যবাহী বাঙালি খাবার পরিবেশনের মাধ্যমে আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে। এ সময় বিদেশের মাটিতে নিজস্ব সংস্কৃতি ধরে রাখার এমন উদ্যোগকে উপস্থিত সবাই সাধুবাদ জানান।
দেশের তথ্য ডেস্ক 























