Dhaka 10:11 pm, Friday, 17 April 2026

ভারতে যাওয়ার পথে গুলিবিদ্ধ লাশ: কোটালীপাড়ার রতি জয়ধরের করুণ পরিণতি

 

কোটালীপাড়া (গোপালগঞ্জ) :প্রতিনিধি কাজী শাহীন 

 

স্ত্রী-সন্তানদের কাছে যাওয়ার স্বপ্ন অপূর্ণই রয়ে গেল গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার বাসিন্দা রতি জয়ধরের (৪৫)। তিন মাস আগে পরিবার ভারতে পাড়ি জমালেও তাদের কাছে আর পৌঁছানো হলো না তার। ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার পলিয়ানপুর সীমান্ত এলাকায় ইছামতি নদী থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

মহেশপুর ৫৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রফিকুল আলম জানান, বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সন্ধ্যায় স্থানীয়রা ইছামতি নদীর পাড়ে উৎকট দুর্গন্ধ পেয়ে গিয়ে কচুরিপানার নিচে ভাসমান একটি মরদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে নিশ্চিত হন যে মরদেহটি বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রায় ১০ গজ ভেতরে নদীতে ভাসছিল। পরে মহেশপুর থানা পুলিশকে খবর দেওয়া হলে তারা মরদেহটি উদ্ধার করে।

মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, ধারণা করা হচ্ছে, মরদেহটি তিন থেকে চারদিন আগের। পানিতে পচে ফুলে উঠেছিল এবং উপুড় হয়ে ভাসছিল। দেহ তল্লাশির সময় পাওয়া কাগজপত্রের ভিত্তিতে এটি কোটালীপাড়ার দেবেন্দ্রনাথ জয়ধরের ছেলে রতি জয়ধরের মরদেহ বলে শনাক্ত করা হয়।

তিনি আরও জানান, খবর পেয়ে নিহতের ভাই রনজিত জয়ধর শুক্রবার সকালে এসে মরদেহটি শনাক্ত করেন। সুরতহাল শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই বাদী হয়ে মহেশপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতকারী এসআই আলমগীর হোসেন জানান, মরদেহের ঘাড়ের বাম পাশে, ডান পাশের পাঁজরের নিচে এবং পিঠে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে, যা গুলির আঘাত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের সময় বিএসএফের গুলিতে তিনি পানিতে পড়ে মারা যেতে পারেন। তবে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

নিহতের ভাই রনজিত জয়ধর জানান, রতির দুই ছেলে, দুই মেয়ে ও স্ত্রী রয়েছে। ছেলেরা দীর্ঘদিন ধরে ভারতে অবস্থান করছে। বড় মেয়ের বিয়ে হয়েছে এলাকায়। তিন মাস আগে রতি জয়ধরের স্ত্রী ও এস এসসি পরীক্ষার্থী ছোট মেয়ে ভারতে চলে যান। সম্প্রতি গ্রামের জমি-ঘর বিক্রি করে তিন দিন আগে স্থায়ীভাবে ভারতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন রতি। কিন্তু সেই যাত্রাই হয়ে ওঠে তার জীবনের শেষ যাত্রা।

শুক্রবার দুপুরে রতি জয়ধরের গ্রামের বাড়িতে গিয়ে তালাবদ্ধ ঘর দেখতে পাওয়া যায়।

প্রতিবেশী সঞ্জয় বাইন বলেন, ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ গ্রামের বাড়িতে এনে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

রতি জয়ধরের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতে যাওয়ার পথে গুলিবিদ্ধ লাশ: কোটালীপাড়ার রতি জয়ধরের করুণ পরিণতি

ভারতে যাওয়ার পথে গুলিবিদ্ধ লাশ: কোটালীপাড়ার রতি জয়ধরের করুণ পরিণতি

প্রকাশঃ 12:48:08 pm, Friday, 17 April 2026

 

কোটালীপাড়া (গোপালগঞ্জ) :প্রতিনিধি কাজী শাহীন 

 

স্ত্রী-সন্তানদের কাছে যাওয়ার স্বপ্ন অপূর্ণই রয়ে গেল গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার বাসিন্দা রতি জয়ধরের (৪৫)। তিন মাস আগে পরিবার ভারতে পাড়ি জমালেও তাদের কাছে আর পৌঁছানো হলো না তার। ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার পলিয়ানপুর সীমান্ত এলাকায় ইছামতি নদী থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

মহেশপুর ৫৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রফিকুল আলম জানান, বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সন্ধ্যায় স্থানীয়রা ইছামতি নদীর পাড়ে উৎকট দুর্গন্ধ পেয়ে গিয়ে কচুরিপানার নিচে ভাসমান একটি মরদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে নিশ্চিত হন যে মরদেহটি বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রায় ১০ গজ ভেতরে নদীতে ভাসছিল। পরে মহেশপুর থানা পুলিশকে খবর দেওয়া হলে তারা মরদেহটি উদ্ধার করে।

মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, ধারণা করা হচ্ছে, মরদেহটি তিন থেকে চারদিন আগের। পানিতে পচে ফুলে উঠেছিল এবং উপুড় হয়ে ভাসছিল। দেহ তল্লাশির সময় পাওয়া কাগজপত্রের ভিত্তিতে এটি কোটালীপাড়ার দেবেন্দ্রনাথ জয়ধরের ছেলে রতি জয়ধরের মরদেহ বলে শনাক্ত করা হয়।

তিনি আরও জানান, খবর পেয়ে নিহতের ভাই রনজিত জয়ধর শুক্রবার সকালে এসে মরদেহটি শনাক্ত করেন। সুরতহাল শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই বাদী হয়ে মহেশপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতকারী এসআই আলমগীর হোসেন জানান, মরদেহের ঘাড়ের বাম পাশে, ডান পাশের পাঁজরের নিচে এবং পিঠে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে, যা গুলির আঘাত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের সময় বিএসএফের গুলিতে তিনি পানিতে পড়ে মারা যেতে পারেন। তবে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

নিহতের ভাই রনজিত জয়ধর জানান, রতির দুই ছেলে, দুই মেয়ে ও স্ত্রী রয়েছে। ছেলেরা দীর্ঘদিন ধরে ভারতে অবস্থান করছে। বড় মেয়ের বিয়ে হয়েছে এলাকায়। তিন মাস আগে রতি জয়ধরের স্ত্রী ও এস এসসি পরীক্ষার্থী ছোট মেয়ে ভারতে চলে যান। সম্প্রতি গ্রামের জমি-ঘর বিক্রি করে তিন দিন আগে স্থায়ীভাবে ভারতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন রতি। কিন্তু সেই যাত্রাই হয়ে ওঠে তার জীবনের শেষ যাত্রা।

শুক্রবার দুপুরে রতি জয়ধরের গ্রামের বাড়িতে গিয়ে তালাবদ্ধ ঘর দেখতে পাওয়া যায়।

প্রতিবেশী সঞ্জয় বাইন বলেন, ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ গ্রামের বাড়িতে এনে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

রতি জয়ধরের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।