Dhaka 12:26 pm, Friday, 17 April 2026

শনিবারে ক্লাস থাকার কথা, কিন্তু চলছে শিক্ষক প্রশিক্ষণ—কোটালীপাড়ায় পাঠ বন্ধে অভিভাবকদের ক্ষোভ

 

কোটালীপাড়া (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি:কাজী শাহীন 

 

রমজান মাসজুড়ে দীর্ঘ ছুটির কারণে সৃষ্ট শিখন ঘাটতি পূরণে দেশের সকল প্রাথমিক বিদ্যালয় টানা ১০টি শনিবার খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেয় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। সেই ধারাবাহিকতায় প্রথম শনিবার হিসেবে আজ (০৪ এপ্রিল ২০২৬) কোটালীপাড়ার সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস চলার কথা থাকলেও বাস্তবে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র—অনেক বিদ্যালয়েই বন্ধ রয়েছে পাঠ কার্যক্রম।

সকাল ১১টায় ৬৮ নং তারাশী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ে কোনো শিক্ষার্থী উপস্থিত নেই। একটি কক্ষে ১৯ জন শিক্ষককে নিয়ে সাব-ক্লাস্টার প্রশিক্ষণ পরিচালনা করছেন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা সুমঙ্গল বালা।

তিনি জানান, তারাশী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জাঠিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মধ্য মাঝবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নিয়ে এ প্রশিক্ষণ চলছে। এ কারণেই সংশ্লিষ্ট তিনটি বিদ্যালয়ে আজ পাঠদান বন্ধ রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে, নির্ধারিত দিনে ক্লাস না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা। তারাশী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অভিভাবক মনিরুজ্জামান শেখ জুয়েল বলেন, “রমজান ও ঈদ উপলক্ষে ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৬ মার্চ টানা ৩৮ দিন বিদ্যালয় বন্ধ ছিল। এরপর ২৭ ও ২৮ মার্চ সাপ্তাহিক ছুটির কারণে বন্ধ থাকে। ৩ এপ্রিল সরকারি ছুটি এবং ৫ এপ্রিল ইস্টার সানডে উপলক্ষে ছুটি থাকায় আবারও বিদ্যালয় বন্ধ। এর মধ্যেই ৪ এপ্রিল শনিবার ক্লাস হওয়ার কথা থাকলেও শিক্ষক প্রশিক্ষণের কারণে তা বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে টানা তিনদিন কোনো ক্লাস হলো না।”

তিনি আরও বলেন, “সাব-ক্লাস্টার প্রশিক্ষণ যেহেতু শুক্রবার ও শনিবারেও আয়োজন করা যায়, সেক্ষেত্রে আজ ৪ এপ্রিলের এই প্রশিক্ষণ ২৭, ২৮ মার্চ কিংবা ৩ এপ্রিলে আয়োজন করলে শিক্ষার্থীদের পাঠদান বন্ধ রাখতে হতো না। বিষয়টি শিক্ষা অফিসের সমন্বয়হীনতা বলেই মনে হচ্ছে।”

একই ধরনের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আরও অনেক অভিভাবক।

এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসার শেখর রঞ্জন ভক্ত বলেন, “বিষয়টি আরও ভালোভাবে সমন্বয় করা যেত। প্রয়োজনে পরবর্তীতে অতিরিক্ত ক্লাস নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভাপতি সাগুফতা হক বলেন, “সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আজ সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়মিত ক্লাস হওয়ার কথা। কিছু বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ রেখে অন্য কার্যক্রমের বিষয়টি জানা নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

উল্লেখ্য, গত ২৪ মার্চ প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. জয়নাল আবেদীন স্বাক্ষরিত এক পরিপত্রে জানানো হয়, রমজান মাসজুড়ে বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় শিখন ঘাটতি পূরণের লক্ষ্যে পরবর্তী ১০টি শনিবার দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয় খোলা রাখা হবে। আজ (০৪ এপ্রিল) ছিল সেই কর্মসূচির প্রথম শনিবার।

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

খুলনায় কেডিএস-এর ঈদ পুনর্মিলনী ও বৈশাখী শোভাযাত্রা

শনিবারে ক্লাস থাকার কথা, কিন্তু চলছে শিক্ষক প্রশিক্ষণ—কোটালীপাড়ায় পাঠ বন্ধে অভিভাবকদের ক্ষোভ

প্রকাশঃ 08:48:31 am, Saturday, 4 April 2026

 

কোটালীপাড়া (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি:কাজী শাহীন 

 

রমজান মাসজুড়ে দীর্ঘ ছুটির কারণে সৃষ্ট শিখন ঘাটতি পূরণে দেশের সকল প্রাথমিক বিদ্যালয় টানা ১০টি শনিবার খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেয় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। সেই ধারাবাহিকতায় প্রথম শনিবার হিসেবে আজ (০৪ এপ্রিল ২০২৬) কোটালীপাড়ার সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস চলার কথা থাকলেও বাস্তবে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র—অনেক বিদ্যালয়েই বন্ধ রয়েছে পাঠ কার্যক্রম।

সকাল ১১টায় ৬৮ নং তারাশী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ে কোনো শিক্ষার্থী উপস্থিত নেই। একটি কক্ষে ১৯ জন শিক্ষককে নিয়ে সাব-ক্লাস্টার প্রশিক্ষণ পরিচালনা করছেন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা সুমঙ্গল বালা।

তিনি জানান, তারাশী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জাঠিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মধ্য মাঝবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নিয়ে এ প্রশিক্ষণ চলছে। এ কারণেই সংশ্লিষ্ট তিনটি বিদ্যালয়ে আজ পাঠদান বন্ধ রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে, নির্ধারিত দিনে ক্লাস না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা। তারাশী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অভিভাবক মনিরুজ্জামান শেখ জুয়েল বলেন, “রমজান ও ঈদ উপলক্ষে ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৬ মার্চ টানা ৩৮ দিন বিদ্যালয় বন্ধ ছিল। এরপর ২৭ ও ২৮ মার্চ সাপ্তাহিক ছুটির কারণে বন্ধ থাকে। ৩ এপ্রিল সরকারি ছুটি এবং ৫ এপ্রিল ইস্টার সানডে উপলক্ষে ছুটি থাকায় আবারও বিদ্যালয় বন্ধ। এর মধ্যেই ৪ এপ্রিল শনিবার ক্লাস হওয়ার কথা থাকলেও শিক্ষক প্রশিক্ষণের কারণে তা বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে টানা তিনদিন কোনো ক্লাস হলো না।”

তিনি আরও বলেন, “সাব-ক্লাস্টার প্রশিক্ষণ যেহেতু শুক্রবার ও শনিবারেও আয়োজন করা যায়, সেক্ষেত্রে আজ ৪ এপ্রিলের এই প্রশিক্ষণ ২৭, ২৮ মার্চ কিংবা ৩ এপ্রিলে আয়োজন করলে শিক্ষার্থীদের পাঠদান বন্ধ রাখতে হতো না। বিষয়টি শিক্ষা অফিসের সমন্বয়হীনতা বলেই মনে হচ্ছে।”

একই ধরনের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আরও অনেক অভিভাবক।

এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসার শেখর রঞ্জন ভক্ত বলেন, “বিষয়টি আরও ভালোভাবে সমন্বয় করা যেত। প্রয়োজনে পরবর্তীতে অতিরিক্ত ক্লাস নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভাপতি সাগুফতা হক বলেন, “সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আজ সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়মিত ক্লাস হওয়ার কথা। কিছু বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ রেখে অন্য কার্যক্রমের বিষয়টি জানা নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

উল্লেখ্য, গত ২৪ মার্চ প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. জয়নাল আবেদীন স্বাক্ষরিত এক পরিপত্রে জানানো হয়, রমজান মাসজুড়ে বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় শিখন ঘাটতি পূরণের লক্ষ্যে পরবর্তী ১০টি শনিবার দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয় খোলা রাখা হবে। আজ (০৪ এপ্রিল) ছিল সেই কর্মসূচির প্রথম শনিবার।