Dhaka 12:26 pm, Friday, 17 April 2026

জয়-পলকের বিচার শুরু

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ইন্টারনেট বন্ধ করে সহিংসতা ও হত্যাযজ্ঞ চালানোর অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সাবেক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন।

প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন—বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

এদিন প্রথমে দুই আসামির অব্যাহতি চেয়ে দাখিল করা আবেদন খারিজ করেন ট্রাইব্যুনাল। পরে প্রসিকিউশনের আনা তিনটি অভিযোগ পাঠ করে শোনান বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ। এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল। এর মাধ্যমে এ মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। একই সঙ্গে সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন ও সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করা হয়েছে।

মামলায় দুই আসামির মধ্যে গ্রেপ্তার রয়েছেন জুনায়েদ আহমেদ পলক। তাকে বুধবার সকালে কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। অন্য আসামি সজীব ওয়াজেদ জয় পলাতক থাকায় তার পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মনজুর আলম আদালতে আইনি লড়াই পরিচালনা করছেন।

এর আগে গত ১৫ জানুয়ারি অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আদেশের জন্য এদিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল। ওইদিন পলকের পক্ষে আইনজীবী লিটন আহমেদ এবং জয়ের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মনজুর আলম শুনানিতে অংশ নেন। তারা প্রসিকিউশনের আনা অভিযোগের বিরোধিতা করে জয় ও পলকের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই দাবি করে অব্যাহতির আবেদন জানান। তবে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে অভিযোগ গঠনের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করা হয়।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, সজীব ওয়াজেদ জয়ের নির্দেশে ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে উসকানিমূলক বক্তব্য দেন জুনায়েদ আহমেদ পলক। এর পরদিন ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশ, আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সশস্ত্র সদস্যরা হামলা চালায়। একই সঙ্গে ইন্টারনেট বন্ধ রেখে মারণাস্ত্র ব্যবহারে উসকানি ও প্ররোচনা দিয়ে হত্যাকাণ্ডে সহায়তা করা হয়।

অভিযোগে বলা হয়, এসব হামলায় রাসেল, মোসলেহ উদ্দিনসহ অন্তত ২৮ জন নিহত হন। তৃতীয় অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, উত্তরায় সংঘটিত আরও ৩৪টি হত্যাকাণ্ডে সহায়তার দায় রয়েছে জয় ও পলকের।

এ ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে গত ১০ ডিসেম্বর সজীব ওয়াজেদ জয়কে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়ে দুটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। একই দিন গ্রেপ্তার থাকা পলককে আদালতে হাজির করা হয়। এর আগে গত ৪ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের দাখিল করা ফরমাল চার্জ (আনুষ্ঠানিক অভিযোগ) আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল।

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

খুলনায় কেডিএস-এর ঈদ পুনর্মিলনী ও বৈশাখী শোভাযাত্রা

জয়-পলকের বিচার শুরু

প্রকাশঃ 08:25:58 am, Wednesday, 21 January 2026

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ইন্টারনেট বন্ধ করে সহিংসতা ও হত্যাযজ্ঞ চালানোর অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সাবেক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন।

প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন—বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

এদিন প্রথমে দুই আসামির অব্যাহতি চেয়ে দাখিল করা আবেদন খারিজ করেন ট্রাইব্যুনাল। পরে প্রসিকিউশনের আনা তিনটি অভিযোগ পাঠ করে শোনান বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ। এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল। এর মাধ্যমে এ মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। একই সঙ্গে সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন ও সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করা হয়েছে।

মামলায় দুই আসামির মধ্যে গ্রেপ্তার রয়েছেন জুনায়েদ আহমেদ পলক। তাকে বুধবার সকালে কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। অন্য আসামি সজীব ওয়াজেদ জয় পলাতক থাকায় তার পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মনজুর আলম আদালতে আইনি লড়াই পরিচালনা করছেন।

এর আগে গত ১৫ জানুয়ারি অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আদেশের জন্য এদিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল। ওইদিন পলকের পক্ষে আইনজীবী লিটন আহমেদ এবং জয়ের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মনজুর আলম শুনানিতে অংশ নেন। তারা প্রসিকিউশনের আনা অভিযোগের বিরোধিতা করে জয় ও পলকের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই দাবি করে অব্যাহতির আবেদন জানান। তবে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে অভিযোগ গঠনের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করা হয়।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, সজীব ওয়াজেদ জয়ের নির্দেশে ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে উসকানিমূলক বক্তব্য দেন জুনায়েদ আহমেদ পলক। এর পরদিন ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশ, আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সশস্ত্র সদস্যরা হামলা চালায়। একই সঙ্গে ইন্টারনেট বন্ধ রেখে মারণাস্ত্র ব্যবহারে উসকানি ও প্ররোচনা দিয়ে হত্যাকাণ্ডে সহায়তা করা হয়।

অভিযোগে বলা হয়, এসব হামলায় রাসেল, মোসলেহ উদ্দিনসহ অন্তত ২৮ জন নিহত হন। তৃতীয় অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, উত্তরায় সংঘটিত আরও ৩৪টি হত্যাকাণ্ডে সহায়তার দায় রয়েছে জয় ও পলকের।

এ ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে গত ১০ ডিসেম্বর সজীব ওয়াজেদ জয়কে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়ে দুটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। একই দিন গ্রেপ্তার থাকা পলককে আদালতে হাজির করা হয়। এর আগে গত ৪ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের দাখিল করা ফরমাল চার্জ (আনুষ্ঠানিক অভিযোগ) আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল।