Dhaka 12:25 pm, Friday, 17 April 2026

আফ্রিকায় গোপন কারাগারের সন্ধান, ২০০ অভিবাসী মুক্ত

লিবিয়ায় একটি গোপন কারাগারের সন্ধান মিলেছে। দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কুফরা শহরের এ কারাগারে অভিযান চালিয়ে দুই শতাধিক অভিবাসীকে মুক্ত করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী।

রোববার (১৮ জানুয়ারি) শহরটির দুটি নিরাপত্তা সূত্র রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই সূত্রগুলো জানায়, নিরাপত্তা বাহিনী প্রায় তিন মিটার গভীর একটি ভূগর্ভস্থ কারাগারের সন্ধান পেয়েছে। কারাগারটিতে অমানবিক অবস্থায় অভিবাসীদের আটকে রাখা হয়েছিল। সূত্রগুলোর দাবি, কারাগারটি পরিচালনা করছিল এক লিবীয় মানব পাচারকারী। তবে অভিযুক্ত ওই ব্যক্তিকে এখনো আটক করা যায়নি।

একটি সূত্র জানায়, উদ্ধার হওয়া কিছু অভিবাসীকে টানা দুই বছর পর্যন্ত ভূগর্ভস্থ কক্ষে বন্দি করে রাখা হয়েছিল। অন্য একটি সূত্র এই ঘটনাকে ‘এই অঞ্চলে উন্মোচিত মানবতার বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর অপরাধগুলোর একটি’ বলে উল্লেখ করেছে।

রয়টার্স জানিয়েছে, নিরাপত্তা অভিযানের সময় শহরের ভেতরে থাকা ওই গোপন কারাগারে একাধিক অমানবিক ভূগর্ভস্থ আটককক্ষের সন্ধান পাওয়া যায়।

সূত্রগুলো জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া অভিবাসীরা মূলত সাব-সাহারান আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে আসা। তাদের মধ্যে সোমালিয়া ও ইরিত্রিয়ার নাগরিকের সংখ্যা বেশি। এছাড়া নারী ও শিশুও রয়েছে। পূর্ব লিবিয়ার কুফরা শহরটি রাজধানী ত্রিপোলি থেকে প্রায় এক হাজার ৭০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

২০১১ সালে ন্যাটো সমর্থিত গণঅভ্যুত্থানে মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর থেকে লিবিয়া ইউরোপে যাওয়ার পথে অভিবাসীদের একটি প্রধান ট্রানজিট রুটে পরিণত হয়েছে। সংঘাত ও দারিদ্র্য থেকে পালিয়ে ইউরোপে পৌঁছাতে গিয়ে বহু মানুষ সাহারা মরুভূমি ও ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার ঝুঁকিপূর্ণ পথ বেছে নেন। তেলনির্ভর লিবীয় অর্থনীতি দরিদ্র অভিবাসীদের জন্য কাজের সুযোগের আশাও তৈরি করে। তবে দেশজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি দুর্বল হওয়ায় অভিবাসীরা প্রায়ই নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হন।

এর আগে গত সপ্তাহে পূর্ব লিবিয়ায় একটি গণকবরে অন্তত ২১ জন অভিবাসীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই দলের মধ্যে উদ্ধার হওয়া প্রায় ১০ জন জীবিত অভিবাসীর শরীরে বন্দিদশায় নির্যাতনের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে নিরাপত্তা সূত্র।

এদিকে লিবিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল শুক্রবার এক বিবৃতিতে জানান, গণকবরের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পূর্বাঞ্চলের কর্তৃপক্ষ একজন আসামিকে বিচারের জন্য আদালতে পাঠিয়েছে। তার বিরুদ্ধে অভিবাসীদের ওপর গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

খুলনায় কেডিএস-এর ঈদ পুনর্মিলনী ও বৈশাখী শোভাযাত্রা

আফ্রিকায় গোপন কারাগারের সন্ধান, ২০০ অভিবাসী মুক্ত

প্রকাশঃ 11:01:25 am, Monday, 19 January 2026

লিবিয়ায় একটি গোপন কারাগারের সন্ধান মিলেছে। দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কুফরা শহরের এ কারাগারে অভিযান চালিয়ে দুই শতাধিক অভিবাসীকে মুক্ত করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী।

রোববার (১৮ জানুয়ারি) শহরটির দুটি নিরাপত্তা সূত্র রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই সূত্রগুলো জানায়, নিরাপত্তা বাহিনী প্রায় তিন মিটার গভীর একটি ভূগর্ভস্থ কারাগারের সন্ধান পেয়েছে। কারাগারটিতে অমানবিক অবস্থায় অভিবাসীদের আটকে রাখা হয়েছিল। সূত্রগুলোর দাবি, কারাগারটি পরিচালনা করছিল এক লিবীয় মানব পাচারকারী। তবে অভিযুক্ত ওই ব্যক্তিকে এখনো আটক করা যায়নি।

একটি সূত্র জানায়, উদ্ধার হওয়া কিছু অভিবাসীকে টানা দুই বছর পর্যন্ত ভূগর্ভস্থ কক্ষে বন্দি করে রাখা হয়েছিল। অন্য একটি সূত্র এই ঘটনাকে ‘এই অঞ্চলে উন্মোচিত মানবতার বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর অপরাধগুলোর একটি’ বলে উল্লেখ করেছে।

রয়টার্স জানিয়েছে, নিরাপত্তা অভিযানের সময় শহরের ভেতরে থাকা ওই গোপন কারাগারে একাধিক অমানবিক ভূগর্ভস্থ আটককক্ষের সন্ধান পাওয়া যায়।

সূত্রগুলো জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া অভিবাসীরা মূলত সাব-সাহারান আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে আসা। তাদের মধ্যে সোমালিয়া ও ইরিত্রিয়ার নাগরিকের সংখ্যা বেশি। এছাড়া নারী ও শিশুও রয়েছে। পূর্ব লিবিয়ার কুফরা শহরটি রাজধানী ত্রিপোলি থেকে প্রায় এক হাজার ৭০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

২০১১ সালে ন্যাটো সমর্থিত গণঅভ্যুত্থানে মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর থেকে লিবিয়া ইউরোপে যাওয়ার পথে অভিবাসীদের একটি প্রধান ট্রানজিট রুটে পরিণত হয়েছে। সংঘাত ও দারিদ্র্য থেকে পালিয়ে ইউরোপে পৌঁছাতে গিয়ে বহু মানুষ সাহারা মরুভূমি ও ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার ঝুঁকিপূর্ণ পথ বেছে নেন। তেলনির্ভর লিবীয় অর্থনীতি দরিদ্র অভিবাসীদের জন্য কাজের সুযোগের আশাও তৈরি করে। তবে দেশজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি দুর্বল হওয়ায় অভিবাসীরা প্রায়ই নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হন।

এর আগে গত সপ্তাহে পূর্ব লিবিয়ায় একটি গণকবরে অন্তত ২১ জন অভিবাসীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই দলের মধ্যে উদ্ধার হওয়া প্রায় ১০ জন জীবিত অভিবাসীর শরীরে বন্দিদশায় নির্যাতনের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে নিরাপত্তা সূত্র।

এদিকে লিবিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল শুক্রবার এক বিবৃতিতে জানান, গণকবরের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পূর্বাঞ্চলের কর্তৃপক্ষ একজন আসামিকে বিচারের জন্য আদালতে পাঠিয়েছে। তার বিরুদ্ধে অভিবাসীদের ওপর গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে।