Dhaka 1:43 am, Sunday, 28 June 2026

সেতুর অভাবে দুর্ভোগে ১০ গ্রামের মানুষ, অর্ধশতক ধরে নৌকাই ভরসা

 

প্রতিদিনই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপার হতে হচ্ছে শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়দের। ছবি : কালবেলা
শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের কীর্তিনাশা নদীর ওপর একটি সেতুর অভাবে দীর্ঘদিন ধরে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন অন্তত ১০ গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ।

স্বাধীনতার পাঁচ দশক পেরিয়ে গেলেও ফেরাঙ্গীকান্দি, নাওডোবা, সিংজালা, নারায়ণপুর, ইকরকান্দি, সূর্যমনি ও আশপাশের গ্রামের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা একটি ছোট নৌকা। ফলে শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্য, ইউনিয়ন পরিষদ, ভূমি অফিস কিংবা বাজারে যেতে প্রতিদিনই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপার করতে হচ্ছে।

‎স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘ ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে সেতুর দাবি জানিয়ে এলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ বাস্তবায়ন হয়নি। মাঝি অনুপস্থিত থাকলে কিংবা নৌকায় সামান্য ত্রুটি দেখা দিলেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। অনেক সময় বাধ্য হয়ে প্রায় তিন কিলোমিটার ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছাতে হয়।

‎সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছে শিক্ষার্থীরা। নৌকার জন্য অপেক্ষা করতে গিয়ে প্রায়ই স্কুল-কলেজে দেরিতে পৌঁছাতে হয়। বর্ষা মৌসুমে নদী উত্তাল থাকলে অনেক অভিভাবক সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাতেও ভয় পান।

‎তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী সিয়াম হোসেন বলে, অনেক সময় নৌকার জন্য অনেকক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়। বৃষ্টি হলে নদী পার হতে ভয় লাগে। একটি সেতু হলে আমরা নিরাপদে স্কুলে যেতে পারতাম।

‎পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস বলে, নৌকা না থাকলে স্কুলে যাওয়া হয় না। আমরা চাই দ্রুত এখানে একটি সেতু নির্মাণ হোক।

‎স্থানীয় কলেজ শিক্ষার্থী মাহিন আহমেদ বলেন, পরীক্ষা ও ক্লাসে সময়মতো পৌঁছানো অনেক সময় সম্ভব হয় না। একটি সেতু নির্মাণ হলে হাজারো শিক্ষার্থীর দুর্ভোগ কমে যাবে।

‎স্থানীয় বাসিন্দা রফিক হোসেন বলেন, ছোটবেলা থেকে নৌকায় নদী পার হয়ে আসছি। একটি সেতু নির্মাণ হলে এ অঞ্চলের শিক্ষা, যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে।

‎ব্যবসায়ী আ. জব্বার জানান, সম্প্রতি ১৫ জন শিক্ষার্থী নিয়ে একটি নৌকা ডুবে যাওয়ার ঘটনা ঘটলেও এখন পর্যন্ত সেতু নির্মাণে কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি।

‎ছয় বছর ধরে নৌকা চালানো মাঝি বারেক খান বলেন, আমার সময়ে তিনবার নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে। কোনো কারণে আমি নৌকা চালাতে না পারলে মানুষকে প্রায় তিন কিলোমিটার ঘুরে চলাচল করতে হয়।

‎নারায়ণপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ বলেন, যোগাযোগ সমস্যার কারণে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত হতে পারে না, এতে তাদের পড়াশোনার আগ্রহও কমে যাচ্ছে।

‎নারায়ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সালাউদ্দিন মাদবর বলেন, নারায়ণপুর ও ইকরকান্দি বাজারের মধ্যবর্তী স্থানে একটি সেতু নির্মাণ এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি। সেতু নির্মাণ হলে কয়েকটি গ্রামের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে।

ভেদরগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী অনুপম চক্রবর্তী বলেন, প্রস্তাবিত স্থান পরিদর্শন করে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়া গেলে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। ‎

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

রামপালে ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণ: মামলা, গ্রেপ্তার ১

সেতুর অভাবে দুর্ভোগে ১০ গ্রামের মানুষ, অর্ধশতক ধরে নৌকাই ভরসা

প্রকাশঃ 03:44:54 am, Wednesday, 24 June 2026

 

প্রতিদিনই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপার হতে হচ্ছে শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়দের। ছবি : কালবেলা
শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের কীর্তিনাশা নদীর ওপর একটি সেতুর অভাবে দীর্ঘদিন ধরে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন অন্তত ১০ গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ।

স্বাধীনতার পাঁচ দশক পেরিয়ে গেলেও ফেরাঙ্গীকান্দি, নাওডোবা, সিংজালা, নারায়ণপুর, ইকরকান্দি, সূর্যমনি ও আশপাশের গ্রামের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা একটি ছোট নৌকা। ফলে শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্য, ইউনিয়ন পরিষদ, ভূমি অফিস কিংবা বাজারে যেতে প্রতিদিনই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপার করতে হচ্ছে।

‎স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘ ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে সেতুর দাবি জানিয়ে এলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ বাস্তবায়ন হয়নি। মাঝি অনুপস্থিত থাকলে কিংবা নৌকায় সামান্য ত্রুটি দেখা দিলেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। অনেক সময় বাধ্য হয়ে প্রায় তিন কিলোমিটার ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছাতে হয়।

‎সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছে শিক্ষার্থীরা। নৌকার জন্য অপেক্ষা করতে গিয়ে প্রায়ই স্কুল-কলেজে দেরিতে পৌঁছাতে হয়। বর্ষা মৌসুমে নদী উত্তাল থাকলে অনেক অভিভাবক সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাতেও ভয় পান।

‎তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী সিয়াম হোসেন বলে, অনেক সময় নৌকার জন্য অনেকক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়। বৃষ্টি হলে নদী পার হতে ভয় লাগে। একটি সেতু হলে আমরা নিরাপদে স্কুলে যেতে পারতাম।

‎পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস বলে, নৌকা না থাকলে স্কুলে যাওয়া হয় না। আমরা চাই দ্রুত এখানে একটি সেতু নির্মাণ হোক।

‎স্থানীয় কলেজ শিক্ষার্থী মাহিন আহমেদ বলেন, পরীক্ষা ও ক্লাসে সময়মতো পৌঁছানো অনেক সময় সম্ভব হয় না। একটি সেতু নির্মাণ হলে হাজারো শিক্ষার্থীর দুর্ভোগ কমে যাবে।

‎স্থানীয় বাসিন্দা রফিক হোসেন বলেন, ছোটবেলা থেকে নৌকায় নদী পার হয়ে আসছি। একটি সেতু নির্মাণ হলে এ অঞ্চলের শিক্ষা, যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে।

‎ব্যবসায়ী আ. জব্বার জানান, সম্প্রতি ১৫ জন শিক্ষার্থী নিয়ে একটি নৌকা ডুবে যাওয়ার ঘটনা ঘটলেও এখন পর্যন্ত সেতু নির্মাণে কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি।

‎ছয় বছর ধরে নৌকা চালানো মাঝি বারেক খান বলেন, আমার সময়ে তিনবার নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে। কোনো কারণে আমি নৌকা চালাতে না পারলে মানুষকে প্রায় তিন কিলোমিটার ঘুরে চলাচল করতে হয়।

‎নারায়ণপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ বলেন, যোগাযোগ সমস্যার কারণে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত হতে পারে না, এতে তাদের পড়াশোনার আগ্রহও কমে যাচ্ছে।

‎নারায়ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সালাউদ্দিন মাদবর বলেন, নারায়ণপুর ও ইকরকান্দি বাজারের মধ্যবর্তী স্থানে একটি সেতু নির্মাণ এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি। সেতু নির্মাণ হলে কয়েকটি গ্রামের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে।

ভেদরগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী অনুপম চক্রবর্তী বলেন, প্রস্তাবিত স্থান পরিদর্শন করে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়া গেলে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। ‎