Dhaka 2:29 am, Sunday, 28 June 2026

বিছানায় মুক্তিপণের চিঠি, ময়লার ভাগাড়ে মিলল শিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ

চট্টগ্রামের পটিয়ায় পাঁচ বছর বয়সী শিশুকে অপহরণের পর বিছানায় মুক্তিপণ দাবি করে চিঠি রেখে যাওয়ার পর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ প্রতিবেশীকে আটক করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ভোরে পটিয়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ গোবিন্দার খীল এলাকার পূর্বপাড়া গ্রামে ভুক্তভোগীর বাড়ির পাশের ময়লার ভাগাড় থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত জায়হান ওই এলাকার গ্যারেজ ব্যবসায়ী শাহজাহানের একমাত্র সন্তান। সে স্থানীয় একটি নূরানি মাদ্রাসার ছাত্র ছিল।

আটকরা হলেন— মো. সাইফুল, শাহানুর, নিহা, নিহান ও ওয়াসিফা। তারা সবাই একই পরিবারের সদস্য এবং তাদের বসতঘরের পেছন থেকেই উদ্ধার করা হয় নিখোঁজ শিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুর ১২টার দিকে বাড়ির সামনের রাস্তায় খেলার সময় নিখোঁজ হয় জায়হান। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাকে পাওয়া যায়নি। প্রথমে পরিবারের ধারণা ছিল শিশুটি বাড়ির সামনের পুকুরে ডুবে গেছে। এলাকাবাসীর সহায়তায় পুকুরে তল্লাশি চালিয়েও সন্ধান না মেলায় পটিয়া থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি (জিডি) করে পরিবার।

এরইমধ্যে ওই দিন বিকেল ৩টার দিকে শাহজাহানের ঘরের শয়নকক্ষের বিছানায় একটি হাতে লেখা চিঠি পাওয়া যায়। যেটিতে বলা হয়, ‘তোর ছেলে আমাদের কাছে আছে, ছেলেকে পেতে চাইলে যেটা বলছি সেটা শুন… আধা ঘণ্টার ভেতর ৩ লাখ টাকা আর তোর ফ্যামিলির যে কোনো একজনের মোবাইল আনলক করে একটা ব্যাগে করে তোর বাড়ির সামনের রাস্তার পাশে ভাঙা দোকানের ভেতর রেখে দিবি…।’

ঘটনা জানাজানি হলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে চিঠিটি আলামত হিসেবে সংগ্রহ করে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত শুরু করে।

স্বজনদের অভিযোগ, টাকার লোভেই প্রতিবেশীরা শিশুটিকে পরিকল্পিতভাবে অপহরণ করেছিল। পরে ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে তাকে হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যার পর মরদেহ বস্তায় ভরে ময়লার ভাগাড়ে ফেলে দেওয়া হয়। অথচ ঘটনার পর থেকে ওই প্রতিবেশীরাও পরিবারের সঙ্গে নাটকীয়ভাবে জায়হানকে খোঁজাখুঁজির অভিনয় করেছিল।

পটিয়া থানার ওসি জিয়াউল হক কালবেলাকে বলেন, এ ঘটনার প্রকৃত ক্ল্যু উদ্ধারে পুলিশ কাজ করছে। আটকদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।

সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, ভোরে বাড়ির পাশের ডোবা থেকে শিশুটির বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হচ্ছে। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে।

 

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

রামপালে ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণ: মামলা, গ্রেপ্তার ১

বিছানায় মুক্তিপণের চিঠি, ময়লার ভাগাড়ে মিলল শিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ

প্রকাশঃ 04:02:21 am, Thursday, 18 June 2026

চট্টগ্রামের পটিয়ায় পাঁচ বছর বয়সী শিশুকে অপহরণের পর বিছানায় মুক্তিপণ দাবি করে চিঠি রেখে যাওয়ার পর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ প্রতিবেশীকে আটক করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ভোরে পটিয়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ গোবিন্দার খীল এলাকার পূর্বপাড়া গ্রামে ভুক্তভোগীর বাড়ির পাশের ময়লার ভাগাড় থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত জায়হান ওই এলাকার গ্যারেজ ব্যবসায়ী শাহজাহানের একমাত্র সন্তান। সে স্থানীয় একটি নূরানি মাদ্রাসার ছাত্র ছিল।

আটকরা হলেন— মো. সাইফুল, শাহানুর, নিহা, নিহান ও ওয়াসিফা। তারা সবাই একই পরিবারের সদস্য এবং তাদের বসতঘরের পেছন থেকেই উদ্ধার করা হয় নিখোঁজ শিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুর ১২টার দিকে বাড়ির সামনের রাস্তায় খেলার সময় নিখোঁজ হয় জায়হান। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাকে পাওয়া যায়নি। প্রথমে পরিবারের ধারণা ছিল শিশুটি বাড়ির সামনের পুকুরে ডুবে গেছে। এলাকাবাসীর সহায়তায় পুকুরে তল্লাশি চালিয়েও সন্ধান না মেলায় পটিয়া থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি (জিডি) করে পরিবার।

এরইমধ্যে ওই দিন বিকেল ৩টার দিকে শাহজাহানের ঘরের শয়নকক্ষের বিছানায় একটি হাতে লেখা চিঠি পাওয়া যায়। যেটিতে বলা হয়, ‘তোর ছেলে আমাদের কাছে আছে, ছেলেকে পেতে চাইলে যেটা বলছি সেটা শুন… আধা ঘণ্টার ভেতর ৩ লাখ টাকা আর তোর ফ্যামিলির যে কোনো একজনের মোবাইল আনলক করে একটা ব্যাগে করে তোর বাড়ির সামনের রাস্তার পাশে ভাঙা দোকানের ভেতর রেখে দিবি…।’

ঘটনা জানাজানি হলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে চিঠিটি আলামত হিসেবে সংগ্রহ করে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত শুরু করে।

স্বজনদের অভিযোগ, টাকার লোভেই প্রতিবেশীরা শিশুটিকে পরিকল্পিতভাবে অপহরণ করেছিল। পরে ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে তাকে হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যার পর মরদেহ বস্তায় ভরে ময়লার ভাগাড়ে ফেলে দেওয়া হয়। অথচ ঘটনার পর থেকে ওই প্রতিবেশীরাও পরিবারের সঙ্গে নাটকীয়ভাবে জায়হানকে খোঁজাখুঁজির অভিনয় করেছিল।

পটিয়া থানার ওসি জিয়াউল হক কালবেলাকে বলেন, এ ঘটনার প্রকৃত ক্ল্যু উদ্ধারে পুলিশ কাজ করছে। আটকদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।

সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, ভোরে বাড়ির পাশের ডোবা থেকে শিশুটির বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হচ্ছে। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে।