Dhaka 2:34 am, Sunday, 28 June 2026

বাঁচতে চায় আবু বক্কর, সাহায্যের আবেদন

ছোটবেলা থেকেই অভাবের সংসারের হাল ধরতে দিনমজুর আর গাড়িচালকের সহকারী হিসেবে কাজ করে জীবনযুদ্ধে টিকে থাকার লড়াই করছিলেন ২৩ বছরের তরুণ আবু বক্কর। কিন্তু সেই লড়াইয়ে আচমকাই বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে মরণব্যাধি।

ফুসফুস ও কিডনিসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে এখন নিজ বাড়িতেই মৃত্যুর প্রহর গুনছেন তিনি। অর্থাভাবে চিকিৎসা নিতে না পেরে বর্তমানে তিনি শয্যাশায়ী।

অসহায় আবু বক্কর মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার সিংজুরী ইউনিয়নের গণসিংজুরী গ্রামের ফরহাদ মিয়ার ছেলে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অসুস্থ আবু বক্করের বাবা-মা বেঁচে থাকলেও অভাবের কারণে বা অন্য কোনো পরিস্থিতিতে ছেলের চিকিৎসার কোনো দায়ভার নিচ্ছেন না। ফলে টাকার অভাবে কোনো উন্নত চিকিৎসা হচ্ছে না তার।

সরেজমিনে আবু বক্করের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে এক করুণ দৃশ্য। চরম অসুস্থতা ও শারীরিক যন্ত্রণা নিয়ে বৃদ্ধ দাদা-দাদির ভাঙা ঘরের বারান্দায় ঠায় বসে আছেন তিনি। তার চোখমুখ ফ্যাকাসে হয়ে গেছে, শুকিয়ে গেছে পুরো শরীর।

প্রতিনিয়ত তীব্র শ্বাসকষ্টে ভুগছেন। তার সুস্থতার জন্য জরুরি ভিত্তিতে উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন হলেও, সেই ব্যয়ভার বহনের সামর্থ্য এই পরিবারের নেই।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের দিকে হঠাৎ করেই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন আবু বক্কর। পরে স্থানীয় চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তার কিডনি ও ফুসফুসের জটিলতাসহ নানা রোগ ধরা পড়ে। প্রাথমিক চিকিৎসা নেওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটে। বর্তমানে শরীরে তীব্র রক্তশূন্যতাও দেখা দিয়েছে।

অসুস্থ আবু বক্করের দাদি অশ্রুসজল চোখে জানান, ছেলেটার মা-বাবাও খোঁজ নেয় না। আমরা বুড়ো মানুষ, ভাঙা ঘরে থাকি। টাকার অভাবে নাতিকে ডাক্তার দেখাতে পারছি না।

স্থানীয় বাসিন্দা শামিম মিয়া বলেন, আবু বক্কর ছেলেটা খুব পরিশ্রমী ছিল। ছোটবেলা থেকেই কষ্ট করে সংসার চালাত। এখন রোগাক্রান্ত হয়ে বিনা চিকিৎসায় মরতে বসেছে। আমাদের সাধ্যমতো পাশে দাঁড়িয়েছি, কিন্তু উন্নত চিকিৎসার জন্য অনেক টাকা দরকার। দেশের বৃত্তবান মানুষরা এগিয়ে আসলে ছেলেটা বেঁচে যেত।

ঘিওর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জয় কৃষ্ণ সরকার বলেন, রোগীর খোঁজখবর নিয়ে চিকিৎসার জন্য সরকারিভাবে আমাদের যে কল্যাণ তহবিল বা জটিল রোগীদের আর্থিক সহায়তার অনুদান রয়েছে, সেখান থেকে তাকে নিয়মানুযায়ী সর্বোচ্চ সহযোগিতা করার চেষ্টা করা হবে। এছাড়া জরুরিভাবে কোনো আর্থিক সহযোগিতা করা যায় কি না বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।

বক্করের জীবন প্রদীপ এভাবে নিভে যাক, তা চান না স্থানীয়রা। আবু বক্করকে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনতে সরকারি সাহায্যের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান, সমাজসেবক ও প্রবাসী ভাইদের কাছে মানবিক সাহায্যের আবেদন জানিয়েছে তার পরিবার।

 

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

রামপালে ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণ: মামলা, গ্রেপ্তার ১

বাঁচতে চায় আবু বক্কর, সাহায্যের আবেদন

প্রকাশঃ 04:40:41 am, Monday, 15 June 2026

ছোটবেলা থেকেই অভাবের সংসারের হাল ধরতে দিনমজুর আর গাড়িচালকের সহকারী হিসেবে কাজ করে জীবনযুদ্ধে টিকে থাকার লড়াই করছিলেন ২৩ বছরের তরুণ আবু বক্কর। কিন্তু সেই লড়াইয়ে আচমকাই বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে মরণব্যাধি।

ফুসফুস ও কিডনিসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে এখন নিজ বাড়িতেই মৃত্যুর প্রহর গুনছেন তিনি। অর্থাভাবে চিকিৎসা নিতে না পেরে বর্তমানে তিনি শয্যাশায়ী।

অসহায় আবু বক্কর মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার সিংজুরী ইউনিয়নের গণসিংজুরী গ্রামের ফরহাদ মিয়ার ছেলে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অসুস্থ আবু বক্করের বাবা-মা বেঁচে থাকলেও অভাবের কারণে বা অন্য কোনো পরিস্থিতিতে ছেলের চিকিৎসার কোনো দায়ভার নিচ্ছেন না। ফলে টাকার অভাবে কোনো উন্নত চিকিৎসা হচ্ছে না তার।

সরেজমিনে আবু বক্করের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে এক করুণ দৃশ্য। চরম অসুস্থতা ও শারীরিক যন্ত্রণা নিয়ে বৃদ্ধ দাদা-দাদির ভাঙা ঘরের বারান্দায় ঠায় বসে আছেন তিনি। তার চোখমুখ ফ্যাকাসে হয়ে গেছে, শুকিয়ে গেছে পুরো শরীর।

প্রতিনিয়ত তীব্র শ্বাসকষ্টে ভুগছেন। তার সুস্থতার জন্য জরুরি ভিত্তিতে উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন হলেও, সেই ব্যয়ভার বহনের সামর্থ্য এই পরিবারের নেই।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের দিকে হঠাৎ করেই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন আবু বক্কর। পরে স্থানীয় চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তার কিডনি ও ফুসফুসের জটিলতাসহ নানা রোগ ধরা পড়ে। প্রাথমিক চিকিৎসা নেওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটে। বর্তমানে শরীরে তীব্র রক্তশূন্যতাও দেখা দিয়েছে।

অসুস্থ আবু বক্করের দাদি অশ্রুসজল চোখে জানান, ছেলেটার মা-বাবাও খোঁজ নেয় না। আমরা বুড়ো মানুষ, ভাঙা ঘরে থাকি। টাকার অভাবে নাতিকে ডাক্তার দেখাতে পারছি না।

স্থানীয় বাসিন্দা শামিম মিয়া বলেন, আবু বক্কর ছেলেটা খুব পরিশ্রমী ছিল। ছোটবেলা থেকেই কষ্ট করে সংসার চালাত। এখন রোগাক্রান্ত হয়ে বিনা চিকিৎসায় মরতে বসেছে। আমাদের সাধ্যমতো পাশে দাঁড়িয়েছি, কিন্তু উন্নত চিকিৎসার জন্য অনেক টাকা দরকার। দেশের বৃত্তবান মানুষরা এগিয়ে আসলে ছেলেটা বেঁচে যেত।

ঘিওর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জয় কৃষ্ণ সরকার বলেন, রোগীর খোঁজখবর নিয়ে চিকিৎসার জন্য সরকারিভাবে আমাদের যে কল্যাণ তহবিল বা জটিল রোগীদের আর্থিক সহায়তার অনুদান রয়েছে, সেখান থেকে তাকে নিয়মানুযায়ী সর্বোচ্চ সহযোগিতা করার চেষ্টা করা হবে। এছাড়া জরুরিভাবে কোনো আর্থিক সহযোগিতা করা যায় কি না বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।

বক্করের জীবন প্রদীপ এভাবে নিভে যাক, তা চান না স্থানীয়রা। আবু বক্করকে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনতে সরকারি সাহায্যের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান, সমাজসেবক ও প্রবাসী ভাইদের কাছে মানবিক সাহায্যের আবেদন জানিয়েছে তার পরিবার।