খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গা থানাধীন ময়লাপোতা মোড়ে অবস্থিত ১৭ তলা বিশিষ্ট খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল ভবনের নিচতলায় এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিটের প্রায় দুই ঘণ্টা ২০ মিনিটের আক্ষরিক ও নিরলস প্রচেষ্টায় আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
খুলনা ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক মো. মাসুদ সরদার জানান, বৃহস্পতিবার (১১ জুন ২০২৬) রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে হাসপাতাল ভবনের নিচতলায় আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা এবং স্থানীয় সাধারণ জনগণের সম্মিলিত চেষ্টায় রাত ১২টার দিকে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, হাসপাতালের বেজমেন্ট বা বৈদ্যুতিক সাবস্টেশন থেকে এই আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে নিখুঁত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্ত সাপেক্ষে জানা যাবে।
আগুন লাগার পরপরই ভবনের বিভিন্ন তলায় বিষাক্ত ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়লে রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও হুড়োহুড়ি সৃষ্টি হয়। অনেকে উদ্ধারকর্মীদের সহায়তায় নিচে নামতে পারলেও, তীব্র ধোঁয়ার কারণে অনেকে জীবন বাঁচাতে ভবনের উপরের তলাগুলোতে আশ্রয় নেন। পরবর্তীতে রাতভর শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানের মাধ্যমে আটকে পড়া সবাইকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পরপরই সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে মুমূর্ষু ও সাধারণ রোগীদের দ্রুত নামিয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালসহ নগরের অন্যান্য সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে স্থানান্তর করা হয়। হাসপাতালের পরিচালক চিকিৎসক রফিকুল হক বাবলু জানান, বৈদ্যুতিক সাবস্টেশন থেকে সম্ভবত এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে কতজন রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং কতজনকে অন্যত্র নেওয়া হয়েছে, তা নির্দিষ্ট করে জানাতে পারেননি তিনি।
এদিকে আজ শুক্রবার (১২ জুন) ভোরেও ময়লাপোতা মোড়ের হাসপাতালটির সামনে উৎসুক জনতা এবং দূর-দূরান্ত থেকে আসা উদ্বিগ্ন স্বজনদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। সাতক্ষীরা সদর থেকে আসা নাজনীন নাহার জানান, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তার বড় ভগ্নিপতির মোবাইল ফোন রাত থেকে বন্ধ থাকায় তারা এখনো জানতে পারেননি তাকে কোন হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। এছাড়া উদ্ধারকাজের সময় অনেকের মোবাইল ও মূল্যবান সামগ্রী হারিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
উল্লেখ্য, রাতে আগুনের খবর পেয়েই ঘটনাস্থল দ্রুত পরিদর্শন করেন খুলনা জেলা প্রশাসক মিজ হুরে জান্নাতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। তারা উদ্ধারকাজের সার্বিক তদারকি করেন এবং রোগীদের জরুরি চিকিৎসা নিশ্চিতের নির্দেশ দেন।
দেশের তথ্য ডেস্ক 



















