Dhaka 2:30 am, Sunday, 28 June 2026

মোংলার জয়মনির ঘোল কোস্ট গার্ড স্টেশনে দুর্বৃত্তদের হামলা ও ভাঙচুর, আহত কয়েকজন কর্মী।

সুন্দরবনের মোংলা থানাধীন ঐতিহ্যবাহী জয়মনির ঘোল কোস্ট গার্ড স্টেশনে একদল দুর্বৃত্ত অতর্কিত হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছে। এই বর্বরোচিত হামলায় দায়িত্ব পালনরত বেশ কয়েকজন কোস্ট গার্ড সদস্য আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১১ জুন ২০২৬) বিকেলে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক প্রেস রিলিজের মাধ্যমে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

​কোস্ট গার্ড জানায়, সুন্দরবনের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, বনদস্যু দমন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছে। বিশেষ করে মোংলার জয়মনির ঘোল এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরে বনদস্যু ও তাদের সহযোগীদের একটি প্রধান ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত থাকায় সেখানে কোস্ট গার্ডের এই স্টেশনটি স্থাপন করা হয়।

এর ফলে বনদস্যুদের কাছে রসদ, লজিস্টিক ও অস্ত্র সরবরাহের পথ কার্যকরভাবে বন্ধ হয়ে যায়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে এবং ওই এলাকা থেকে কোস্ট গার্ডকে সরিয়ে দেওয়ার হীন উদ্দেশ্যে আজ একদল দুর্বৃত্ত কোস্ট গার্ড স্টেশনে পরিকল্পিতভাবে এই হামলা ও ভাঙচুর চালায়।

​পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কোস্ট গার্ড তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং হামলায় জড়িত কুচক্রী ও দুর্বৃত্তদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে ইতিমধ্যেই এলাকায় বিশেষ যৌথ অভিযান শুরু করা হয়েছে।

​প্রাথমিক তথ্য ও স্থানীয় পরিস্থিতি বিশ্লেষণে কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, কিছু স্বার্থান্বেষী মহল ও অসাধু চক্র সুন্দরবনে নিজেদের অপকর্ম নির্বিঘ্নে পরিচালনার সুবিধার্থে এবং কোস্ট গার্ডের সফল দস্যু দমন কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করতে এই পরিকল্পিত হামলা, ভাঙচুর ও অপপ্রচার চালাচ্ছে।

​লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন স্পষ্টভাবে জানান, কোনো ধরনের হামলা, ভয়ভীতি, ষড়যন্ত্র বা বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা কোস্ট গার্ডের চলমান অনমনীয় দায়িত্ব পালন ও অভিযানিক কার্যক্রমকে ব্যাহত করতে পারবে না। সুন্দরবন ও উপকূলীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা, শান্তি এবং স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড অতীতের ন্যায় ভবিষ্যতেও বদ্ধপরিকর থাকবে। একই সাথে তিনি গণমাধ্যমকর্মী ও স্থানীয় জনগণকে প্রকৃত তথ্য যাচাইপূর্বক দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের অনুরোধ জানিয়েছেন।

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

রামপালে ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণ: মামলা, গ্রেপ্তার ১

মোংলার জয়মনির ঘোল কোস্ট গার্ড স্টেশনে দুর্বৃত্তদের হামলা ও ভাঙচুর, আহত কয়েকজন কর্মী।

প্রকাশঃ 03:10:09 pm, Thursday, 11 June 2026

সুন্দরবনের মোংলা থানাধীন ঐতিহ্যবাহী জয়মনির ঘোল কোস্ট গার্ড স্টেশনে একদল দুর্বৃত্ত অতর্কিত হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছে। এই বর্বরোচিত হামলায় দায়িত্ব পালনরত বেশ কয়েকজন কোস্ট গার্ড সদস্য আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১১ জুন ২০২৬) বিকেলে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক প্রেস রিলিজের মাধ্যমে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

​কোস্ট গার্ড জানায়, সুন্দরবনের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, বনদস্যু দমন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছে। বিশেষ করে মোংলার জয়মনির ঘোল এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরে বনদস্যু ও তাদের সহযোগীদের একটি প্রধান ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত থাকায় সেখানে কোস্ট গার্ডের এই স্টেশনটি স্থাপন করা হয়।

এর ফলে বনদস্যুদের কাছে রসদ, লজিস্টিক ও অস্ত্র সরবরাহের পথ কার্যকরভাবে বন্ধ হয়ে যায়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে এবং ওই এলাকা থেকে কোস্ট গার্ডকে সরিয়ে দেওয়ার হীন উদ্দেশ্যে আজ একদল দুর্বৃত্ত কোস্ট গার্ড স্টেশনে পরিকল্পিতভাবে এই হামলা ও ভাঙচুর চালায়।

​পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কোস্ট গার্ড তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং হামলায় জড়িত কুচক্রী ও দুর্বৃত্তদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে ইতিমধ্যেই এলাকায় বিশেষ যৌথ অভিযান শুরু করা হয়েছে।

​প্রাথমিক তথ্য ও স্থানীয় পরিস্থিতি বিশ্লেষণে কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, কিছু স্বার্থান্বেষী মহল ও অসাধু চক্র সুন্দরবনে নিজেদের অপকর্ম নির্বিঘ্নে পরিচালনার সুবিধার্থে এবং কোস্ট গার্ডের সফল দস্যু দমন কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করতে এই পরিকল্পিত হামলা, ভাঙচুর ও অপপ্রচার চালাচ্ছে।

​লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন স্পষ্টভাবে জানান, কোনো ধরনের হামলা, ভয়ভীতি, ষড়যন্ত্র বা বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা কোস্ট গার্ডের চলমান অনমনীয় দায়িত্ব পালন ও অভিযানিক কার্যক্রমকে ব্যাহত করতে পারবে না। সুন্দরবন ও উপকূলীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা, শান্তি এবং স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড অতীতের ন্যায় ভবিষ্যতেও বদ্ধপরিকর থাকবে। একই সাথে তিনি গণমাধ্যমকর্মী ও স্থানীয় জনগণকে প্রকৃত তথ্য যাচাইপূর্বক দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের অনুরোধ জানিয়েছেন।