যশোরের মনিরামপুরে নাতনিকে স্কুল থেকে ফেরার পথে উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় বৃদ্ধ এনামুল ইসলাম (৫৫)-কে কুপিয়ে হত্যা মামলার প্রধান মূলহোতাসহ এজাহারনামীয় দুই পলাতক আসামিকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। মামলা রুজুর মাত্র ৭২ ঘণ্টার মধ্যে আজ ১১ জুন রাত ১২ টা ১০ মিনিটে র্যাব-০৬, যশোর ক্যাম্পের একটি চৌকস আভিযানিক দল যশোর শহরের কোতোয়ালী মডেল থানাধীন কিসমত নওয়াপাড়া এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলো— ১। রাব্বি (২২) এবং ২। রাকিব। তারা দুজনেই এই চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার এজাহারনামীয় পলাতক আসামি।
মামলার এজাহার ও র্যাব সূত্রে জানা যায়, নিহত ভিকটিম এনামুল ইসলাম এবং ধৃত আসামিরা একই এলাকার বাসিন্দা। গত ০৬ জুন এনামুল ইসলামের নাতনি সুমাইয়া স্কুল থেকে বাড়ি ফিরছিল। পথিমধ্যে রাস্তায় ২নং আসামি রাব্বি তাকে উত্ত্যক্ত (ইভটিজিং) করে। বিষয়টি জানতে পেরে এনামুল ইসলাম আসামিকে তার নাতনিকে উত্ত্যক্ত করতে নিষেধ করেন। এই নিয়ে উভয়ের মধ্যে তীব্র কথা কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে।
উক্ত ঘটনার জের ধরে গত ০৮ জুন রাত ৯ টা ১০ মিনিটে এনামুল ইসলাম স্মরণপুর জামতলা মোড় থেকে নিজ বাড়ি ফিরছিলেন।
পথিমধ্যে আসামিরা পরিকল্পিতভাবে তার পথরোধ করে এবং চাপাতি ও চাকু দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। পরবর্তীতে পরিবারের লোকজন টের পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং তাকে উদ্ধার করে ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। এরপর যশোর সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ওই রাতেই আনুমানিক ১০ টা ১৫ মিনিটে এনামুল ইসলামকে মৃত ঘোষণা করেন। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের পরিবার বাদী হয়ে মনিরামপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই আসামিরা গ্রেফতার এড়াতে এলাকা ছেড়ে আত্মগোপন করে। র্যাব-০৬ এর যশোর কোম্পানি আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন নজরদারির মাধ্যমে আসামিদের অবস্থান নিশ্চিত করে কিসমত নওয়াপাড়া থেকে তাদের গ্রেফতার করে। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে গ্রেফতারকৃত দুই আসামিকে যশোরের মনিরামপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
দেশের তথ্য ডেস্ক 



















