Dhaka 2:35 am, Sunday, 28 June 2026

খাল নেই, তবু কোটি টাকার সেতু

দুই পাশে কোনো খালের অস্তিত্ব নেই, তবুও নির্মাণ করা হয়েছে একটি সেতু। এর সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয়েছে আরেকটি জটিলতা, সেতুর দুই পাশেই রয়েছে বসতবাড়ি। ফলে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করতে গেলে বন্ধ হয়ে যেতে পারে কয়েকটি পরিবারের চলাচলের পথ।

এলজিইডি ঝালকাঠির নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মানপাশা জিসি–তালতলা–ভবানীপুর হয়ে নাচনমহল ইউনিয়ন সড়কে ফুলতলা আরএইচডি সড়কের ওপর সুবিদপুর ইউনিয়নের গোডন্দা এলাকায় বিডিআইআরডবলুএসপি (BDIRWSP) প্রকল্পের আওতায় ১০ মিটার দীর্ঘ আরসিসি স্ল্যাব সেতু নির্মাণ করা হয়েছে।

এ নির্মাণকাজে ৩ কোটি ৭৯ লাখ ৫৪ হাজার ৩১৩ টাকা ৯৬ পয়সা বরাদ্দ দেওয়া হয়। কাজটি বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমএস ইসলাম ব্রাদার্স। ২০২৪ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি কাজ শুরু হয়ে ২০২৫ সালের ১৮ নভেম্বর শেষ হওয়ার কথা ছিল। ইতোমধ্যে ঠিকাদারকে ৭৪ লাখ ১৬ হাজার ১৭৯ টাকা বিল পরিশোধ করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সেতুটি এমন একটি স্থানে নির্মাণ করা হয়েছে যেখানে পূর্বে একটি ছোট খালের ওপর বক্স কালভার্ট ছিল। বর্তমানে সেখানে স্ল্যাব সেতু নির্মাণ করায় খালটি কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। সেতুটি কার্যকর করতে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হলে পাশের কয়েকটি পরিবারের চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, যথাযথ পরিকল্পনা ছাড়াই সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে। এখন সংযোগ সড়ক করতে গেলে কয়েকটি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

ভুক্তভোগী আব্বাস হাওলাদার, মোর্শেদা বেগম, জামাল, সবুজ বলেন, এই সেতু চালু করতে গেলে আমাদের বাড়ির সামনে দিয়ে রাস্তা নিতে হবে। এতে আমাদের চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে। আমরা এর সমাধান চাই।

এদিকে স্থানীয়দের মধ্যে অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (এসও) উপসহকারী প্রকৌশলী মঈনুল আযম ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ মনিরুল ইসলাম তালুকদারের সঙ্গে যোগসাজশে অনিয়ম করেছেন।

তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে উপসহকারী প্রকৌশলী মঈনুল আযম বলেন, ‘আমি কোনো অনিয়ম করিনি। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য বিকল্প চলাচলের ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে।’

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী আজিজুল হক বলেন, ‘সেতুটি পূর্বের একটি কালভার্টের স্থানে নির্মাণ করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে কিছু জটিলতা তৈরি হয়েছে ঠিকই, তবে আমরা ইতোমধ্যে বিষয়টি পর্যালোচনা করছি। স্থানীয়দের ক্ষতি না করে কীভাবে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা যায়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

রামপালে ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণ: মামলা, গ্রেপ্তার ১

খাল নেই, তবু কোটি টাকার সেতু

প্রকাশঃ 04:29:51 am, Tuesday, 9 June 2026

দুই পাশে কোনো খালের অস্তিত্ব নেই, তবুও নির্মাণ করা হয়েছে একটি সেতু। এর সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয়েছে আরেকটি জটিলতা, সেতুর দুই পাশেই রয়েছে বসতবাড়ি। ফলে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করতে গেলে বন্ধ হয়ে যেতে পারে কয়েকটি পরিবারের চলাচলের পথ।

এলজিইডি ঝালকাঠির নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মানপাশা জিসি–তালতলা–ভবানীপুর হয়ে নাচনমহল ইউনিয়ন সড়কে ফুলতলা আরএইচডি সড়কের ওপর সুবিদপুর ইউনিয়নের গোডন্দা এলাকায় বিডিআইআরডবলুএসপি (BDIRWSP) প্রকল্পের আওতায় ১০ মিটার দীর্ঘ আরসিসি স্ল্যাব সেতু নির্মাণ করা হয়েছে।

এ নির্মাণকাজে ৩ কোটি ৭৯ লাখ ৫৪ হাজার ৩১৩ টাকা ৯৬ পয়সা বরাদ্দ দেওয়া হয়। কাজটি বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমএস ইসলাম ব্রাদার্স। ২০২৪ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি কাজ শুরু হয়ে ২০২৫ সালের ১৮ নভেম্বর শেষ হওয়ার কথা ছিল। ইতোমধ্যে ঠিকাদারকে ৭৪ লাখ ১৬ হাজার ১৭৯ টাকা বিল পরিশোধ করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সেতুটি এমন একটি স্থানে নির্মাণ করা হয়েছে যেখানে পূর্বে একটি ছোট খালের ওপর বক্স কালভার্ট ছিল। বর্তমানে সেখানে স্ল্যাব সেতু নির্মাণ করায় খালটি কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। সেতুটি কার্যকর করতে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হলে পাশের কয়েকটি পরিবারের চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, যথাযথ পরিকল্পনা ছাড়াই সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে। এখন সংযোগ সড়ক করতে গেলে কয়েকটি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

ভুক্তভোগী আব্বাস হাওলাদার, মোর্শেদা বেগম, জামাল, সবুজ বলেন, এই সেতু চালু করতে গেলে আমাদের বাড়ির সামনে দিয়ে রাস্তা নিতে হবে। এতে আমাদের চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে। আমরা এর সমাধান চাই।

এদিকে স্থানীয়দের মধ্যে অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (এসও) উপসহকারী প্রকৌশলী মঈনুল আযম ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ মনিরুল ইসলাম তালুকদারের সঙ্গে যোগসাজশে অনিয়ম করেছেন।

তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে উপসহকারী প্রকৌশলী মঈনুল আযম বলেন, ‘আমি কোনো অনিয়ম করিনি। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য বিকল্প চলাচলের ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে।’

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী আজিজুল হক বলেন, ‘সেতুটি পূর্বের একটি কালভার্টের স্থানে নির্মাণ করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে কিছু জটিলতা তৈরি হয়েছে ঠিকই, তবে আমরা ইতোমধ্যে বিষয়টি পর্যালোচনা করছি। স্থানীয়দের ক্ষতি না করে কীভাবে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা যায়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’