Dhaka 2:34 am, Sunday, 28 June 2026

আর্থিক লেনদেনের জেরে প্রেমিকাকে শ্বাসরোধে হত্যা, গ্রেপ্তার ৩

পাবনায় পদ্মা নদীর তীরে বস্তাবন্দি অজ্ঞাতনামা এক কিশোরীর হত্যার রহস্য পাঁচ ঘণ্টায় উদঘাটন করেছে পুলিশ। সেইসঙ্গে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহভাজন মূল আসামিসহ ৩ জনকে গ্রেপ্তার ও লাশ গুমে ব্যবহৃত প্রাইভেটকার উদ্ধার করা হয়েছে।

বুধবার (৩ জুন) বিকেলে পাবনা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস) রেজিনূর রহমান।

গ্রেপ্তাররা হলো- পূর্ব রাঘবপুর গ্রামের মৃত কাশেম প্রামানিকের ছেলে ও প্রধান অভিযুক্ত মো. নাঈম, মো. শফিক শেখের ছেলে মো. ইয়াসিন শেখ এবং মো. শিমুল প্রামানিকের ছেলে মো. তুহিন প্রামানিক (১৭)।

পুলিশ জানায়, নিহত কিশোরীর নাম রিয়া খাতুন (১৫)। সে পাবনা সদর উপজেলার ভাড়ারা ইউনিয়নের পূর্ব রাঘবপুর গ্রামের মো. আজিজুল প্রামানিকের মেয়ে এবং স্থানীয় মাওলানা কাসিমুদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী ছিল।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজিনূর রহমান জানান, প্রেমের সম্পর্কের টানাপোড়েন ও আর্থিক লেনদেনের জেরে রিয়াকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, চাচাতো ভাই নাঈমের সঙ্গে রিয়ার দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সকাল ১১টার দিকে নাঈমের বাসায় বেড়াতে যায় রিয়া। সেখানে দুজনের মধ্যে কথাবার্তার একপর্যায়ে আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে তা তীব্র বিরোধে রূপ নিলে নাঈম ধারালো চাকু দেখিয়ে রিয়াকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। পরে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।

হত্যাকাণ্ডটি ধামাচাপা দিতে নাঈম তার সহযোগী ইয়াসিন ও তুহিনকে ডেকে আনে। এরপর তারা রিয়ার মরদেহ একটি সাদা রঙের প্রাইভেটকারে তুলে পদ্মা নদীর তীরে ফেলে রেখে আসে।

পুলিশ জানায়, অজ্ঞতনামা কিশোরীর লাশ উদ্ধারের পরপরই পাবনার পুলিশ সুপার মো. ছুফি উল্লাহর নির্দেশনায় জেলা পুলিশের একাধিক টিম ছায়া তদন্তে নামে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে আসামিদের শনাক্ত করতে থানা পুলিশ, ডিবি এবং ডিএসবি সদস্যদের সমন্বয়ে একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়। পরে ডিবি পুলিশের একটি চৌকস দল তথ্যপ্রযুক্তি ও সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রধান আসামি নাঈম ও তার দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী হত্যাকাণ্ড ও লাশ গুমের কাজে ব্যবহৃত সাদা রঙের প্রাইভেটকারটি উদ্ধার করা হয়।

পাবনা জেলা পুলিশ জানায়, চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ করা হয়নি। গ্রেপ্তার আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

উল্লেখ্য, বুধবার (০৩ মে) সকাল ১০টার দিকে সদরের ভাড়ারা ইউনিয়নের বলরামপুর পীরপুর-সংলগ্ন পদ্মা নদীর তীর থেকে ভাসমান অবস্থায় হাত বাঁধা এবং গলায় বাজারের ব্যাগে প্যাঁচানো অবস্থায় বস্তাবন্দি অজ্ঞাতনামা এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

রামপালে ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণ: মামলা, গ্রেপ্তার ১

আর্থিক লেনদেনের জেরে প্রেমিকাকে শ্বাসরোধে হত্যা, গ্রেপ্তার ৩

প্রকাশঃ 05:40:50 am, Thursday, 4 June 2026

পাবনায় পদ্মা নদীর তীরে বস্তাবন্দি অজ্ঞাতনামা এক কিশোরীর হত্যার রহস্য পাঁচ ঘণ্টায় উদঘাটন করেছে পুলিশ। সেইসঙ্গে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহভাজন মূল আসামিসহ ৩ জনকে গ্রেপ্তার ও লাশ গুমে ব্যবহৃত প্রাইভেটকার উদ্ধার করা হয়েছে।

বুধবার (৩ জুন) বিকেলে পাবনা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস) রেজিনূর রহমান।

গ্রেপ্তাররা হলো- পূর্ব রাঘবপুর গ্রামের মৃত কাশেম প্রামানিকের ছেলে ও প্রধান অভিযুক্ত মো. নাঈম, মো. শফিক শেখের ছেলে মো. ইয়াসিন শেখ এবং মো. শিমুল প্রামানিকের ছেলে মো. তুহিন প্রামানিক (১৭)।

পুলিশ জানায়, নিহত কিশোরীর নাম রিয়া খাতুন (১৫)। সে পাবনা সদর উপজেলার ভাড়ারা ইউনিয়নের পূর্ব রাঘবপুর গ্রামের মো. আজিজুল প্রামানিকের মেয়ে এবং স্থানীয় মাওলানা কাসিমুদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী ছিল।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজিনূর রহমান জানান, প্রেমের সম্পর্কের টানাপোড়েন ও আর্থিক লেনদেনের জেরে রিয়াকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, চাচাতো ভাই নাঈমের সঙ্গে রিয়ার দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সকাল ১১টার দিকে নাঈমের বাসায় বেড়াতে যায় রিয়া। সেখানে দুজনের মধ্যে কথাবার্তার একপর্যায়ে আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে তা তীব্র বিরোধে রূপ নিলে নাঈম ধারালো চাকু দেখিয়ে রিয়াকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। পরে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।

হত্যাকাণ্ডটি ধামাচাপা দিতে নাঈম তার সহযোগী ইয়াসিন ও তুহিনকে ডেকে আনে। এরপর তারা রিয়ার মরদেহ একটি সাদা রঙের প্রাইভেটকারে তুলে পদ্মা নদীর তীরে ফেলে রেখে আসে।

পুলিশ জানায়, অজ্ঞতনামা কিশোরীর লাশ উদ্ধারের পরপরই পাবনার পুলিশ সুপার মো. ছুফি উল্লাহর নির্দেশনায় জেলা পুলিশের একাধিক টিম ছায়া তদন্তে নামে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে আসামিদের শনাক্ত করতে থানা পুলিশ, ডিবি এবং ডিএসবি সদস্যদের সমন্বয়ে একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়। পরে ডিবি পুলিশের একটি চৌকস দল তথ্যপ্রযুক্তি ও সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রধান আসামি নাঈম ও তার দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী হত্যাকাণ্ড ও লাশ গুমের কাজে ব্যবহৃত সাদা রঙের প্রাইভেটকারটি উদ্ধার করা হয়।

পাবনা জেলা পুলিশ জানায়, চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ করা হয়নি। গ্রেপ্তার আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

উল্লেখ্য, বুধবার (০৩ মে) সকাল ১০টার দিকে সদরের ভাড়ারা ইউনিয়নের বলরামপুর পীরপুর-সংলগ্ন পদ্মা নদীর তীর থেকে ভাসমান অবস্থায় হাত বাঁধা এবং গলায় বাজারের ব্যাগে প্যাঁচানো অবস্থায় বস্তাবন্দি অজ্ঞাতনামা এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।