Dhaka 2:31 am, Sunday, 28 June 2026

পাইকগাছায় আবাসিক এলাকায় পোল্ট্রি ফার্ম, স্বাস্থ্যঝুঁকির অভিযোগে নতুন মোড়

খুলনার পাইকগাছা হরিঢালী ইউনিয়নের উত্তর সলুয়ার জনবহুল আবাসিক এলাকায় গড়ে ওঠা একটি পোল্ট্রি ফার্মকে কেন্দ্র করে স্বাস্থ্যঝুঁকি ও পরিবেশ দূষণের অভিযোগে নতুন মোড় নিয়েছে পরিস্থিতি। দীর্ঘদিন ধরে দুর্গন্ধ, বর্জ্য ও মশা-মাছির উপদ্রবে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দেওয়ার পর এবার অভিযোগকারীকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আবাসিক এলাকার মধ্যে পরিচালিত ওই পোল্ট্রি ফার্ম থেকে প্রতিনিয়ত তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। মুরগির বিষ্ঠা ও অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কারণে পরিবেশ দূষিত হওয়ার পাশাপাশি শিশু, বয়স্ক ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত ব্যক্তিদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। খামারের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ না করায় মশা-মাছির উপদ্রবও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে দাবি এলাকাবাসীর।
এ অবস্থায় এলাকার বাসিন্দাদের পক্ষ থেকে রামপ্রসাদ কর্মকার সম্প্রতি পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগে তিনি খামারের কারণে সৃষ্ট জনদুর্ভোগ, স্বাস্থ্যঝুঁকি ও পরিবেশগত সমস্যার বিষয় তুলে ধরেন। অভিযোগ পাওয়ার পর উপজেলা প্রশাসন বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেয় এবং উপজেলা স্যানিটারি ও নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় উপজেলা স্যানিটারি কর্মকর্তা উদয় মণ্ডল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, তদন্ত কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকেই অভিযোগকারী রামপ্রসাদ কর্মকারকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে।
রামপ্রসাদ কর্মকারের দাবি, অভিযোগের জেরে তাকে দেখে নেওয়া, হয়রানি ও মারধরের হুমকি দেওয়া হয়েছে। এমনকি নিজেদের খামারের ক্ষতি করে তার বিরুদ্ধে দায় চাপানোর কথাও বলা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। এতে তিনি ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান।
ঘটনার পর তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, আবাসিক এলাকায় পরিচালিত খামারগুলোর পরিবেশগত প্রভাব ও স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। পাশাপাশি অভিযোগের পর হুমকির বিষয়টিও তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, জনস্বার্থে উত্থাপিত একটি অভিযোগের সুষ্ঠু সমাধান হবে, নাকি অভিযোগকারীকেই ভীতি ও চাপের মুখে পড়তে হবে—এখন সেই দিকেই তাকিয়ে রয়েছে উত্তর সলুয়ার মানুষ।

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

রামপালে ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণ: মামলা, গ্রেপ্তার ১

পাইকগাছায় আবাসিক এলাকায় পোল্ট্রি ফার্ম, স্বাস্থ্যঝুঁকির অভিযোগে নতুন মোড়

প্রকাশঃ 01:57:44 pm, Wednesday, 3 June 2026

খুলনার পাইকগাছা হরিঢালী ইউনিয়নের উত্তর সলুয়ার জনবহুল আবাসিক এলাকায় গড়ে ওঠা একটি পোল্ট্রি ফার্মকে কেন্দ্র করে স্বাস্থ্যঝুঁকি ও পরিবেশ দূষণের অভিযোগে নতুন মোড় নিয়েছে পরিস্থিতি। দীর্ঘদিন ধরে দুর্গন্ধ, বর্জ্য ও মশা-মাছির উপদ্রবে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দেওয়ার পর এবার অভিযোগকারীকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আবাসিক এলাকার মধ্যে পরিচালিত ওই পোল্ট্রি ফার্ম থেকে প্রতিনিয়ত তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। মুরগির বিষ্ঠা ও অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কারণে পরিবেশ দূষিত হওয়ার পাশাপাশি শিশু, বয়স্ক ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত ব্যক্তিদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। খামারের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ না করায় মশা-মাছির উপদ্রবও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে দাবি এলাকাবাসীর।
এ অবস্থায় এলাকার বাসিন্দাদের পক্ষ থেকে রামপ্রসাদ কর্মকার সম্প্রতি পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগে তিনি খামারের কারণে সৃষ্ট জনদুর্ভোগ, স্বাস্থ্যঝুঁকি ও পরিবেশগত সমস্যার বিষয় তুলে ধরেন। অভিযোগ পাওয়ার পর উপজেলা প্রশাসন বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেয় এবং উপজেলা স্যানিটারি ও নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় উপজেলা স্যানিটারি কর্মকর্তা উদয় মণ্ডল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, তদন্ত কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকেই অভিযোগকারী রামপ্রসাদ কর্মকারকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে।
রামপ্রসাদ কর্মকারের দাবি, অভিযোগের জেরে তাকে দেখে নেওয়া, হয়রানি ও মারধরের হুমকি দেওয়া হয়েছে। এমনকি নিজেদের খামারের ক্ষতি করে তার বিরুদ্ধে দায় চাপানোর কথাও বলা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। এতে তিনি ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান।
ঘটনার পর তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, আবাসিক এলাকায় পরিচালিত খামারগুলোর পরিবেশগত প্রভাব ও স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। পাশাপাশি অভিযোগের পর হুমকির বিষয়টিও তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, জনস্বার্থে উত্থাপিত একটি অভিযোগের সুষ্ঠু সমাধান হবে, নাকি অভিযোগকারীকেই ভীতি ও চাপের মুখে পড়তে হবে—এখন সেই দিকেই তাকিয়ে রয়েছে উত্তর সলুয়ার মানুষ।