, পারিবারিক অশান্তি চরমে, বাড়ছে অপরাধ প্রবণতা
চিতলমারীতে ভয়াবহ মোবাইল আসক্তিতে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা
প্রদীপ মণ্ডল, চিতলমারী :
বাগেরহাটের চিতলমারীতে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের অধিকাংশ শিক্ষার্থীদের মাঝে ভয়াবহ আকারে মোবাইল ফোন আসক্তি দেখা দিয়েছে। যে বয়সে শিক্ষার্থীদের বইয়ের টেবিলে থাকার কথা সেই বয়সে তারা তথ্য-প্রযুক্তির অপব্যবহারের মাধ্যমে মোবইল আসক্তিতে আক্রান্ত হচ্ছে। এ সকল শিক্ষার্থীরা দিনের অধিকাংশ সময় এমনকি গভীর রাত পর্যন্ত মোবাইলের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারে জড়িয়ে পড়ছে। মানসিক ভাবে বিকার গ্রস্থ এই শিক্ষার্থীদের মাঝে পড়া-লেখার চরম অনিহা প্রকাশ পাচ্ছে। একই সাথে ইন্টারনেটের ব্যবহার সহজলভ্য হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মাঝে টিকটক, রিলস, ফেসবুকের মাধ্যমে টাকা আয়ের অসুস্থ প্রতিযোগিতা দেখা দিয়েছে। অনেকে আবার মোবাইলের মাধ্যমে অনলাইন গেমের নেশায় জড়িয়ে পড়ছে। একই সাথে কেউ কেউ এই কিশোর বয়সে মোবাইলের মাধ্যমে জুয়া খেলার মত ক্ষতিকর নেশায়ও জড়াচ্ছে। এখানেই শেষ নয় কিছু কিছু শিক্ষার্থী তথ্য প্রযুক্তির অন্ধকার গলিতে প্রবেশ করে অনৈতিক ভিডিও দেখার দেখার ভয়াবহ ও ক্ষতিকর আসক্তিতে জড়িয়ে পড়ছে। মোবাইল ফোনের অপব্যবহার বিষয়ের এখনি সচেতনতা বৃদ্ধি করা না হলে দিন দিন এর বিরূপ প্রভাব বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করেন বিজ্ঞজনেরা।
উপজেলার বিভিন্ন কলেজের প্রায় অর্ধ-শতাধিক শিক্ষার্থীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, তাদের প্রায় নব্বই ভাগের বেশি শিক্ষার্থী মোবাইল ফোন ব্যবহার করেণ। এদের মধ্যে প্রায় ৭৫ শতাংশ শিক্ষার্থী অ্যানড্রয়েড ফোন ব্যবহার করেণ। অ্যানড্রয়েড ফোন ব্যবহারকারী শিক্ষার্থীদের প্রায় সকলেই ইন্টারনেট ব্যবহার করেণ। এদের প্রত্যেকেরই রয়েছে ফেসবুক, টিকটক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন ধরণের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের অতিমাত্রার প্রবনতা। এ সকল শিক্ষার্থীরা আবার বিভিন্ন ধরণের মোবাইল গেমসের সাথে জড়িত। অনেক শিক্ষার্থী মোবাইলে টাকা ইনকামের মোহে শর্ট ফিল্ম, রিলস, বিভিন্ন ধরণের অভিনয়সহ বিতর্কিত নানা ধরণের কর্মকা-ে প্রতিনিয়ত জড়িয়ে পড়ছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ভুক্তভুগি অভিভাবকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তাদের সন্তানেরা অতিমাত্রায় মোবাইল ফোন আসক্তিতে আক্রান্ত। নিয়মিত তারা পড়ার টেবিলে বসে না। স্কুল-কলেজে যাওয়ার বিষয়ে তাদের আগ্রহ দিন দিন কমে যাচ্ছে। এ সকল শিক্ষার্থীরা গভীর রাত পর্যন্ত ফোন ঘাটা-ঘাটি করে। দেরি করে ঘুম থেকে ওঠে। খাওয়া-দাওয়ার ক্ষেত্রের রয়েছে তাদের চরম অনিহা। অনেক পরিবারের সন্তানেরা বাড়ি থেকে চলে যাওয়া, না খেয়ে থাকা এমনকি আত্মহত্যার ভয় দেখিয়ে অথবা অন্য কোন উপায়ে বাবা-মাকে জিম্মি করে ফেলছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে সন্তানকে মোবাইল ফোন কিনে দিচ্ছেন। এমনকি তাদের মোবাইলের এমবি অথবা ইন্টারনেটের টাকা যোগাতে দরিদ্র পিতা-মাতাকে হিমশিম খেতে হয়। এ সকল কারনে অধিকাংশ বাড়িতে প্রতিনিয়ত বাড়ছে পারিবারিক অশান্তি। এ সকল অভিভাবকেরা তাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম উৎকন্ঠায় দিন কাটান বলেও অভিমত ব্যক্ত করেণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশু, কিশোর ও তরুণ বয়সে বিভিন্ন ধরণের খেলা-ধুলা চর্চার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শারিরীক ও মানসিক বিকাশ ঘটে। এই বয়সে যদি তাদের মাঝে অতিমাত্রায় মোবাইল ফোনের আসক্তি দেখা দেয় তবে তাদের মেজাজ খিট-খিটে হওয়া, ক্ষুদা মন্দা, নিদ্রাহীনতাসহ স্বাস্থ্যগত বিভিন্ন ধরণের জটিলতা দেখা দিতে পারে। একই সাথে তাদের মাঝে বিভিন্ন ধরণের অপরাধ প্রবনতা বৃদ্ধি, শ্রদ্ধা বোধ ও সামাজিক জ্ঞানেরও অভাব দেখা দিতে পারে। তাই তাদের মাঝে সচেতনা বৃদ্ধি করা জরুরি।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে চিতলমারী শেরে বাংলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) মিজানুর রহমান কাজী বলেন, ‘ বর্তমান তথ্য প্রযুক্তির যুগের শিক্ষার্থীরা কম্পিউটার, ইন্টারনেট দক্ষতা অর্জন করবে এটা সময়ের দাবি। কিন্তু শিক্ষার্থীরা তথ্য প্রযুক্তির খারাপ দিকটা গ্রহণ করলে পড়া লেখায় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে এটাই স্বাভাবিক। তিনি আরো বলেন, আমরা একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য ইতোমধ্যে বিভিন্ন ধরণের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। এছাড়াও নিয়মিত অভিভাক সমাবেশের মাধ্যমেও শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সচেতনতা সৃষ্টি করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। মোবাইল আসক্তির বিভন্ন ধরণের কুফল সম্পর্কে ধারনা প্রদান করা হচ্ছে। শ্রেণি কক্ষে মোবাইল ফোনের ব্যবহার বিষয়ে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সুন্দর আগামীর জন্য মোবাইলের স্বাভাবিক ও সুস্থ ব্যবহার নিশ্চিত করতে শিক্ষক, অভিভাবক ও সচেতন মহলকে এগিয়ে আসতে হবে।’
প্রদীপ মণ্ডল
চিতলমারী, বাগেরহাট।
০১৭১৪-৮৮১৩৫৩
দেশের তথ্য ডেস্ক 


















