Dhaka 2:34 am, Sunday, 28 June 2026

পাইকগাছায় বেহাল সড়ক, চরম দুর্ভোগে হাজারো মানুষ পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি

উন্নয়নের দাবি আর প্রতিশ্রুতির ভিড়ে খুলনার পাইকগাছা উপজেলার দক্ষিণ আমিরপুর-বাইনবাড়িয়া সড়কের বাস্তব চিত্র আজ ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার দীর্ঘ এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে এখন মারাত্মকভাবে বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভয়াবহ খানাখন্দ, ভাঙাচোরা অংশ, স্থায়ী জলাবদ্ধতা এবং অনেক জায়গায় ইটের সলিং উঠে গিয়ে পুরো রাস্তা নাজুক ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তা পানিতে তলিয়ে যায় এবং বর্ষা মৌসুমে কাদা-পানিতে একাকার হয়ে যায়। ফলে প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহারকারী স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়ছেন। জরুরি রোগী পরিবহন ও কৃষিপণ্য পরিবহনও প্রায় সময় ব্যাহত হচ্ছে। বারবার জনপ্রতিনিধিদের জানানো হলেও এখনো পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান সংস্কার উদ্যোগ না থাকায় এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।
উপজেলার ১০ নং গড়ইখালী ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ আমিরপুর গ্রামের এই সড়কটি স্থানীয়দের প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়। দেবব্রতের দোকানঘর থেকে দক্ষিণ আমিরপুর হয়ে বাইনবাড়িয়া পুলিশ ক্যাম্পের নতুন ব্রিজ সংলগ্ন রমাকান্ত সরদারের বাড়ি পর্যন্ত বিস্তৃত এই সড়কটি বর্তমানে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত, ভাঙাচোরা এবং পানি জমে থাকার কারণে চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এর মধ্যে বহু জায়গায় ইটের সলিং উঠে গিয়ে সড়কটি আরও নাজুক ও বিপজ্জনক অবস্থায় পরিণত হয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তার বড় অংশ পানিতে তলিয়ে যায়, আর বর্ষায় পুরো সড়ক কাদায় পরিণত হয়।
ফলে এই সড়ক দিয়ে চলাচল করা স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের জন্য প্রতিদিনের এক কঠিন সংগ্রামে পরিণত হয়েছে। জরুরি রোগী পরিবহন, কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ ও দৈনন্দিন যাতায়াত মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সুমেন মন্ডল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,”এই রাস্তা এখন আর রাস্তা নেই—এটা আমাদের দুর্ভোগের প্রতিচ্ছবি। বছরের পর বছর ধরে শুধু আশ্বাস শুনে যাচ্ছি, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। বর্ষায় এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করা দুঃস্বপ্নের মতো। আমরা এখন আর কথা নয়, বাস্তব কাজ দেখতে চাই।”
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন,”নির্বাচনের সময় সবাই আসে, প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু পরে এই রাস্তার আর কোনো খোঁজ কেউ রাখে না। আমরা শুধু প্রতিশ্রুতির মধ্যেই আটকে আছি।”
এ বিষয়ে গড়ইখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম কেরুর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

রামপালে ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণ: মামলা, গ্রেপ্তার ১

পাইকগাছায় বেহাল সড়ক, চরম দুর্ভোগে হাজারো মানুষ পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি

প্রকাশঃ 09:07:40 am, Monday, 1 June 2026

উন্নয়নের দাবি আর প্রতিশ্রুতির ভিড়ে খুলনার পাইকগাছা উপজেলার দক্ষিণ আমিরপুর-বাইনবাড়িয়া সড়কের বাস্তব চিত্র আজ ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার দীর্ঘ এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে এখন মারাত্মকভাবে বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভয়াবহ খানাখন্দ, ভাঙাচোরা অংশ, স্থায়ী জলাবদ্ধতা এবং অনেক জায়গায় ইটের সলিং উঠে গিয়ে পুরো রাস্তা নাজুক ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তা পানিতে তলিয়ে যায় এবং বর্ষা মৌসুমে কাদা-পানিতে একাকার হয়ে যায়। ফলে প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহারকারী স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়ছেন। জরুরি রোগী পরিবহন ও কৃষিপণ্য পরিবহনও প্রায় সময় ব্যাহত হচ্ছে। বারবার জনপ্রতিনিধিদের জানানো হলেও এখনো পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান সংস্কার উদ্যোগ না থাকায় এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।
উপজেলার ১০ নং গড়ইখালী ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ আমিরপুর গ্রামের এই সড়কটি স্থানীয়দের প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়। দেবব্রতের দোকানঘর থেকে দক্ষিণ আমিরপুর হয়ে বাইনবাড়িয়া পুলিশ ক্যাম্পের নতুন ব্রিজ সংলগ্ন রমাকান্ত সরদারের বাড়ি পর্যন্ত বিস্তৃত এই সড়কটি বর্তমানে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত, ভাঙাচোরা এবং পানি জমে থাকার কারণে চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এর মধ্যে বহু জায়গায় ইটের সলিং উঠে গিয়ে সড়কটি আরও নাজুক ও বিপজ্জনক অবস্থায় পরিণত হয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তার বড় অংশ পানিতে তলিয়ে যায়, আর বর্ষায় পুরো সড়ক কাদায় পরিণত হয়।
ফলে এই সড়ক দিয়ে চলাচল করা স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের জন্য প্রতিদিনের এক কঠিন সংগ্রামে পরিণত হয়েছে। জরুরি রোগী পরিবহন, কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ ও দৈনন্দিন যাতায়াত মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সুমেন মন্ডল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,”এই রাস্তা এখন আর রাস্তা নেই—এটা আমাদের দুর্ভোগের প্রতিচ্ছবি। বছরের পর বছর ধরে শুধু আশ্বাস শুনে যাচ্ছি, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। বর্ষায় এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করা দুঃস্বপ্নের মতো। আমরা এখন আর কথা নয়, বাস্তব কাজ দেখতে চাই।”
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন,”নির্বাচনের সময় সবাই আসে, প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু পরে এই রাস্তার আর কোনো খোঁজ কেউ রাখে না। আমরা শুধু প্রতিশ্রুতির মধ্যেই আটকে আছি।”
এ বিষয়ে গড়ইখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম কেরুর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।