Dhaka 2:36 am, Sunday, 28 June 2026

উপকূলের জীবন-জীবিকা সুরক্ষায় জাতীয় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দের দাবি

পাইকগাছা প্রতিনিধি
উপকূলের জীবন-জীবিকা সুরক্ষায় জাতীয় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন নাগরিক নেতৃবৃন্দ। তারা বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের (খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট) জীবন-জীবিকা ভয়াবহ ঝুঁকিতে পড়েছে। এই ঝুঁকি মোকাবেলায় দীর্ঘ মেয়াদী সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। এ জন্য জাতীয় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ দিতে হবে।
আজ রবিবার খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার হরিঢালী মাধ্যমিক বিদ্যালয় চত্ত্বরে আয়োজিত মানববন্ধন ও সমাবেশে এ সব কথা বলেন তারা। সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলন এবং ড্রিম রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন আয়োজিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র। সমাবেশে বক্তৃতা করেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মো. হাসানুজ্জামান, প্রত্যাশা সমবায় সমিতির নির্বাহী পরিচালক বিদ্যুৎ বিশ্বাস, অনির্বাণ লাইব্রেরি সাধারণ সম্পাদক প্রভাত দেবনাথ, ইঞ্জিনিয়ার তুহীন পারভেজ, জেলে প্রতিনিধি আফজাল নিকারী, পরিবেশকর্মী দিলীপ সরকার, যুবনেতা রেজাউল মোড়ল প্রমূখ।
সমাবেশে ২১দফা দাবি তুলে ধরে বলা হয়, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূল, মধ্য উপকূল ও দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলের জন্য পৃথক দপ্তর সৃষ্টি করতে হবে। দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলকে দুর্যোগ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ঘোষণা করতে হবে। পরিবেশবান্ধব ইকোনমিক জোন গঠন করতে হবে। ব্লু-কার্বন সংরক্ষণ ও কার্বন-ক্রেডিট বিপণনের উদ্যোগ নিতে হবে। টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ সংস্কার করতে হবে। প্রত্যন্ত উপকূলে সুপেয় পানি নিশ্চিত করতে হবে। ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রগুলো সংস্কার করে নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী ও প্রবীণবান্ধব করে গড়ে তুলতে হবে।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, গত দুই দশকে সিডর, আইলা, আম্ফানসহ একাধিক ঘূর্ণিঝড়ে উপকূলীয় অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। একইসঙ্গে লবণাক্ততার বিস্তার কৃষি উৎপাদনকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বহু এলাকায় মাটি ও পানির লবণাক্ততা কৃষি, সুপেয় পানি এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিরাপদ সুপেয় পানির সংকট উপকূলীয় মানুষের জীবনকে আরো দুর্বিষহ করে তুলেছে। অনেক পরিবারকে পানীয় পানি সংগ্রহে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে, যেখানে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও পুকুরনির্ভরতা দিন দিন বাড়ছে। জলবায়ুজনিত দুর্যোগ ও জীবিকার সংকটের কারণে অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতির হারও বৃদ্ধি পেয়েছে। একইসঙ্গে উপকূলীয় জেলে সম্প্রদায় অনিরাপদ নৌযান, ঋণের বোঝা, দুর্যোগের ঝুঁকি ও সামাজিক নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে জীবন-যাপন করছে। তাই উপকূলের জীবন-জীবিকা রক্ষায় সামাজিক আন্দোলনে গড়ে তুলতে হবে।
সমাবেশে দেশের মৎস্য সম্পদ সুরক্ষায় ‘অবৈধ জাল বন্ধ কর, মৎস্যসম্পদ রক্ষা কর’ শীর্ষক সামাজিক আন্দোলন সফল করার আহ্বান জানানো হয়।

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

রামপালে ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণ: মামলা, গ্রেপ্তার ১

উপকূলের জীবন-জীবিকা সুরক্ষায় জাতীয় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দের দাবি

প্রকাশঃ 05:45:25 pm, Sunday, 31 May 2026

পাইকগাছা প্রতিনিধি
উপকূলের জীবন-জীবিকা সুরক্ষায় জাতীয় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন নাগরিক নেতৃবৃন্দ। তারা বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের (খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট) জীবন-জীবিকা ভয়াবহ ঝুঁকিতে পড়েছে। এই ঝুঁকি মোকাবেলায় দীর্ঘ মেয়াদী সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। এ জন্য জাতীয় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ দিতে হবে।
আজ রবিবার খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার হরিঢালী মাধ্যমিক বিদ্যালয় চত্ত্বরে আয়োজিত মানববন্ধন ও সমাবেশে এ সব কথা বলেন তারা। সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলন এবং ড্রিম রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন আয়োজিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র। সমাবেশে বক্তৃতা করেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মো. হাসানুজ্জামান, প্রত্যাশা সমবায় সমিতির নির্বাহী পরিচালক বিদ্যুৎ বিশ্বাস, অনির্বাণ লাইব্রেরি সাধারণ সম্পাদক প্রভাত দেবনাথ, ইঞ্জিনিয়ার তুহীন পারভেজ, জেলে প্রতিনিধি আফজাল নিকারী, পরিবেশকর্মী দিলীপ সরকার, যুবনেতা রেজাউল মোড়ল প্রমূখ।
সমাবেশে ২১দফা দাবি তুলে ধরে বলা হয়, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূল, মধ্য উপকূল ও দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলের জন্য পৃথক দপ্তর সৃষ্টি করতে হবে। দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলকে দুর্যোগ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ঘোষণা করতে হবে। পরিবেশবান্ধব ইকোনমিক জোন গঠন করতে হবে। ব্লু-কার্বন সংরক্ষণ ও কার্বন-ক্রেডিট বিপণনের উদ্যোগ নিতে হবে। টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ সংস্কার করতে হবে। প্রত্যন্ত উপকূলে সুপেয় পানি নিশ্চিত করতে হবে। ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রগুলো সংস্কার করে নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী ও প্রবীণবান্ধব করে গড়ে তুলতে হবে।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, গত দুই দশকে সিডর, আইলা, আম্ফানসহ একাধিক ঘূর্ণিঝড়ে উপকূলীয় অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। একইসঙ্গে লবণাক্ততার বিস্তার কৃষি উৎপাদনকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বহু এলাকায় মাটি ও পানির লবণাক্ততা কৃষি, সুপেয় পানি এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিরাপদ সুপেয় পানির সংকট উপকূলীয় মানুষের জীবনকে আরো দুর্বিষহ করে তুলেছে। অনেক পরিবারকে পানীয় পানি সংগ্রহে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে, যেখানে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও পুকুরনির্ভরতা দিন দিন বাড়ছে। জলবায়ুজনিত দুর্যোগ ও জীবিকার সংকটের কারণে অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতির হারও বৃদ্ধি পেয়েছে। একইসঙ্গে উপকূলীয় জেলে সম্প্রদায় অনিরাপদ নৌযান, ঋণের বোঝা, দুর্যোগের ঝুঁকি ও সামাজিক নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে জীবন-যাপন করছে। তাই উপকূলের জীবন-জীবিকা রক্ষায় সামাজিক আন্দোলনে গড়ে তুলতে হবে।
সমাবেশে দেশের মৎস্য সম্পদ সুরক্ষায় ‘অবৈধ জাল বন্ধ কর, মৎস্যসম্পদ রক্ষা কর’ শীর্ষক সামাজিক আন্দোলন সফল করার আহ্বান জানানো হয়।