Dhaka 2:34 am, Sunday, 28 June 2026

দেড় মাসেও নিখোঁজ মিরাজ শেখ, কোস্ট গার্ডের বিরুদ্ধে তুলে নেওয়ার অভিযোগে স্বজনদের সংবাদ সম্মেলন

 

বাগেরহাট প্রতিনিধি

 

নিখোঁজ মিরাজ শেখের সন্ধান এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে বাগেরহাট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তার স্বজনরা। মঙ্গলবার (২৬ মে) সকালে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মিরাজ শেখের বোন লিজা ইসলাম।

 

লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, বাগেরহাট জেলার মোংলা উপজেলার জয়মনি এলাকার বাসিন্দা মিরাজ শেখ পেশায় মোটরসাইকেল ভাড়া চালক ও জেলে। গত ১০ এপ্রিল সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে জয়মনি ঠোটার একটি চায়ের দোকান থেকে দুইজন সিভিল পোশাকধারী কোস্ট গার্ড সদস্য তাকে একটি জালি বোটে তুলে হাড়বাড়িয়া কোস্ট গার্ড স্টেশনে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়।

 

তিনি আরও জানান, ঘটনার প্রায় ৩০ থেকে ৪০ মিনিট পর মোংলার দিক থেকে “বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড” লেখা একটি স্পিডবোট এসে পল্টনে ভিড়ে। ওই বোটে থাকা ৭ থেকে ৮ জন ইউনিফর্ম পরিহিত সদস্য মিরাজ শেখের ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন এবং পরে তাকে সঙ্গে নিয়ে চলে যান। পুরো ঘটনাটি মিরাজের স্ত্রীসহ স্থানীয় গ্রামবাসীর সামনেই ঘটে বলে দাবি করা হয়।

 

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, মিরাজ শেখের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি প্রথমে স্থানীয় দোকানদার আল আমিনের জিম্মায় রেখে যায় কোস্ট গার্ড সদস্যরা। পরে ঘটনার ৮ থেকে ১০ দিন পর গভীর রাতে দুইজন কোস্ট গার্ড সদস্য ও এক মাঝি এসে মোটরসাইকেলটি নিয়ে যান বলেও অভিযোগ করা হয়।

 

এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে স্থানীয় থানায় ২৩ এপ্রিল একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হলেও এখনো পর্যন্ত মিরাজ শেখের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেন তার স্বজনরা।

 

লিখিত বক্তব্যে আরও উল্লেখ করা হয়, ১০, ১১ ও ১২ এপ্রিল হাড়বাড়িয়া কোস্ট গার্ড স্টেশনের এক সদস্যের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগ হয় এবং তিনি মিরাজ শেখ তাদের হেফাজতে রয়েছেন বলে স্বীকার করেন। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেওয়া হবে অথবা মামলা দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়। তবে পরবর্তীতে কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে মিরাজ শেখকে আটকের বিষয়টি অস্বীকার করা হয়।

 

সংবাদ সম্মেলনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে লিজা ইসলাম বলেন, এক মাস ১৬ দিন হয়ে গেলেও আমার ভাইয়ের কোনো সন্ধান পাইনি। আমরা জানি না সে বেঁচে আছে কিনা। যদি তাকে হত্যা করা হয়ে থাকে, অন্তত তার মরদেহটি যেন আমরা ফিরে পাই।

 

তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলামসহ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং সাংবাদিকদের প্রতি মানবিকভাবে বিষয়টি বিবেচনা করে দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে মিরাজ শেখের সন্ধান নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

 

এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা অবিলম্বে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও মিরাজ শেখের সন্ধান দাবি করেছেন।

 

বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের সাথে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিকদের তারা জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পর্যবেক্ষণে রয়েছে। এ কারণে এ মুহূর্তে তারা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

রামপালে ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণ: মামলা, গ্রেপ্তার ১

দেড় মাসেও নিখোঁজ মিরাজ শেখ, কোস্ট গার্ডের বিরুদ্ধে তুলে নেওয়ার অভিযোগে স্বজনদের সংবাদ সম্মেলন

প্রকাশঃ 12:28:46 pm, Tuesday, 26 May 2026

 

বাগেরহাট প্রতিনিধি

 

নিখোঁজ মিরাজ শেখের সন্ধান এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে বাগেরহাট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তার স্বজনরা। মঙ্গলবার (২৬ মে) সকালে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মিরাজ শেখের বোন লিজা ইসলাম।

 

লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, বাগেরহাট জেলার মোংলা উপজেলার জয়মনি এলাকার বাসিন্দা মিরাজ শেখ পেশায় মোটরসাইকেল ভাড়া চালক ও জেলে। গত ১০ এপ্রিল সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে জয়মনি ঠোটার একটি চায়ের দোকান থেকে দুইজন সিভিল পোশাকধারী কোস্ট গার্ড সদস্য তাকে একটি জালি বোটে তুলে হাড়বাড়িয়া কোস্ট গার্ড স্টেশনে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়।

 

তিনি আরও জানান, ঘটনার প্রায় ৩০ থেকে ৪০ মিনিট পর মোংলার দিক থেকে “বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড” লেখা একটি স্পিডবোট এসে পল্টনে ভিড়ে। ওই বোটে থাকা ৭ থেকে ৮ জন ইউনিফর্ম পরিহিত সদস্য মিরাজ শেখের ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন এবং পরে তাকে সঙ্গে নিয়ে চলে যান। পুরো ঘটনাটি মিরাজের স্ত্রীসহ স্থানীয় গ্রামবাসীর সামনেই ঘটে বলে দাবি করা হয়।

 

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, মিরাজ শেখের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি প্রথমে স্থানীয় দোকানদার আল আমিনের জিম্মায় রেখে যায় কোস্ট গার্ড সদস্যরা। পরে ঘটনার ৮ থেকে ১০ দিন পর গভীর রাতে দুইজন কোস্ট গার্ড সদস্য ও এক মাঝি এসে মোটরসাইকেলটি নিয়ে যান বলেও অভিযোগ করা হয়।

 

এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে স্থানীয় থানায় ২৩ এপ্রিল একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হলেও এখনো পর্যন্ত মিরাজ শেখের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেন তার স্বজনরা।

 

লিখিত বক্তব্যে আরও উল্লেখ করা হয়, ১০, ১১ ও ১২ এপ্রিল হাড়বাড়িয়া কোস্ট গার্ড স্টেশনের এক সদস্যের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগ হয় এবং তিনি মিরাজ শেখ তাদের হেফাজতে রয়েছেন বলে স্বীকার করেন। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেওয়া হবে অথবা মামলা দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়। তবে পরবর্তীতে কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে মিরাজ শেখকে আটকের বিষয়টি অস্বীকার করা হয়।

 

সংবাদ সম্মেলনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে লিজা ইসলাম বলেন, এক মাস ১৬ দিন হয়ে গেলেও আমার ভাইয়ের কোনো সন্ধান পাইনি। আমরা জানি না সে বেঁচে আছে কিনা। যদি তাকে হত্যা করা হয়ে থাকে, অন্তত তার মরদেহটি যেন আমরা ফিরে পাই।

 

তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলামসহ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং সাংবাদিকদের প্রতি মানবিকভাবে বিষয়টি বিবেচনা করে দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে মিরাজ শেখের সন্ধান নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

 

এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা অবিলম্বে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও মিরাজ শেখের সন্ধান দাবি করেছেন।

 

বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের সাথে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিকদের তারা জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পর্যবেক্ষণে রয়েছে। এ কারণে এ মুহূর্তে তারা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।