Dhaka 2:29 am, Sunday, 28 June 2026

কোটালীপাড়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে আটক হচ্ছে চুনোপুঁটি, ধরাছোঁয়ার বাইরে রাঘব বোয়ালেরা

 

কোটালীপাড়া (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি:কাজী শাহীন 

 

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক অভিযানে আবারও উঠে এসেছে চুনোপুঁটি ধরার অভিযোগ।

স্থানীয়দের দাবি, অল্প পরিমাণ মাদকসহ মাদকসেবী বা ক্ষুদ্র পর্যায়ের ব্যক্তিদের আটক করা হলেও মূল মাদক কারবারি ও গডফাদাররা থেকে যাচ্ছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।

শনিবার (২৩ মে) দুপুরে কোটালীপাড়ার কুশলা ইউনিয়নের জাঠিয়া গ্রামে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের গোপালগঞ্জ জেলা শাখা। ইন্সপেক্টর খোরশেদ আলমের নেতৃত্বে অভিযানে অংশ নেন দুইজন এএসআই, ছয়জন সিপাহি ও একজন ড্রাইভার। সরকারি গাড়ি নিয়ে পরিচালিত ওই অভিযানে খোরশেদ আলম নামের এক ব্যক্তিকে ৫ গ্রাম গাঁজাসহ আটক করা হয়।

পরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো: মাসুম বিল্লাহ ঘটনাস্থলে এসে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন। আদালত মাদক সেবনের দায়ে আটক ব্যক্তিকে ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।

তবে এ ঘটনাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ স্থানীয় বিভিন্ন মহলে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন—একজন মাদকসেবীকে ধরতে এত বিশাল বহর ও প্রশাসনিক তৎপরতা কতটা যৌক্তিক, যখন এলাকায় বড় মাদক ব্যবসায়ীরা প্রকাশ্যেই সক্রিয় রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

গণমাধ্যম ও সমাজকর্মী মনিরুজ্জামান শেখ জুয়েল বলেন, প্রায়ই দেখা যায় জেলা থেকে বিশাল টিম আসে, কিন্তু শেষে আটক হয় কোনো মাদকসেবী বা ছোটখাটো বাহক। অথচ যারা নিয়মিত মাদক বিক্রি করছে, তাদের বিরুদ্ধে কোন অভিযান চোখে পড়ে না। মাদকের রাঘব বোয়ালেরা থেকে যাচ্ছে ধরা ছোয়ার বাইরে।

আরেকজন সচেতন নাগরিক বলেন, “আমরা চাই মাদক নির্মূল হোক। কিন্তু শুধু চুনোপুঁটি ধরে লাভ নেই। মাদকের মূল হোতাদের ধরতে না পারলে পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হবে না।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, কোটালীপাড়ার বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই গাঁজা, ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকের বিস্তার ঘটছে। এসবের সঙ্গে জড়িত প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিয়ে ছোটখাটো অভিযানে সীমাবদ্ধ থাকায় মাদক নিয়ন্ত্রণে কাঙ্ক্ষিত ফল আসছে না।

এ বিষয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, “আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। ছোট-বড় সবাই আইনের আওতায় আসবে। তথ্যের ভিত্তিতেই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।”

তবে সচেতন মহলের মতে, মাদক নির্মূলে শুধু মাদকসেবী আটক নয়, বরং বড় কারবারি, সরবরাহকারী ও গডফাদারদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ও ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করতে হবে। অন্যথায় চুনোপুঁটি ধরা পড়লেও রাঘব বোয়ালরা থেকেই যাবে অধরাই।

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

রামপালে ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণ: মামলা, গ্রেপ্তার ১

কোটালীপাড়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে আটক হচ্ছে চুনোপুঁটি, ধরাছোঁয়ার বাইরে রাঘব বোয়ালেরা

প্রকাশঃ 01:49:53 pm, Saturday, 23 May 2026

 

কোটালীপাড়া (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি:কাজী শাহীন 

 

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক অভিযানে আবারও উঠে এসেছে চুনোপুঁটি ধরার অভিযোগ।

স্থানীয়দের দাবি, অল্প পরিমাণ মাদকসহ মাদকসেবী বা ক্ষুদ্র পর্যায়ের ব্যক্তিদের আটক করা হলেও মূল মাদক কারবারি ও গডফাদাররা থেকে যাচ্ছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।

শনিবার (২৩ মে) দুপুরে কোটালীপাড়ার কুশলা ইউনিয়নের জাঠিয়া গ্রামে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের গোপালগঞ্জ জেলা শাখা। ইন্সপেক্টর খোরশেদ আলমের নেতৃত্বে অভিযানে অংশ নেন দুইজন এএসআই, ছয়জন সিপাহি ও একজন ড্রাইভার। সরকারি গাড়ি নিয়ে পরিচালিত ওই অভিযানে খোরশেদ আলম নামের এক ব্যক্তিকে ৫ গ্রাম গাঁজাসহ আটক করা হয়।

পরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো: মাসুম বিল্লাহ ঘটনাস্থলে এসে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন। আদালত মাদক সেবনের দায়ে আটক ব্যক্তিকে ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।

তবে এ ঘটনাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ স্থানীয় বিভিন্ন মহলে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন—একজন মাদকসেবীকে ধরতে এত বিশাল বহর ও প্রশাসনিক তৎপরতা কতটা যৌক্তিক, যখন এলাকায় বড় মাদক ব্যবসায়ীরা প্রকাশ্যেই সক্রিয় রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

গণমাধ্যম ও সমাজকর্মী মনিরুজ্জামান শেখ জুয়েল বলেন, প্রায়ই দেখা যায় জেলা থেকে বিশাল টিম আসে, কিন্তু শেষে আটক হয় কোনো মাদকসেবী বা ছোটখাটো বাহক। অথচ যারা নিয়মিত মাদক বিক্রি করছে, তাদের বিরুদ্ধে কোন অভিযান চোখে পড়ে না। মাদকের রাঘব বোয়ালেরা থেকে যাচ্ছে ধরা ছোয়ার বাইরে।

আরেকজন সচেতন নাগরিক বলেন, “আমরা চাই মাদক নির্মূল হোক। কিন্তু শুধু চুনোপুঁটি ধরে লাভ নেই। মাদকের মূল হোতাদের ধরতে না পারলে পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হবে না।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, কোটালীপাড়ার বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই গাঁজা, ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকের বিস্তার ঘটছে। এসবের সঙ্গে জড়িত প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিয়ে ছোটখাটো অভিযানে সীমাবদ্ধ থাকায় মাদক নিয়ন্ত্রণে কাঙ্ক্ষিত ফল আসছে না।

এ বিষয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, “আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। ছোট-বড় সবাই আইনের আওতায় আসবে। তথ্যের ভিত্তিতেই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।”

তবে সচেতন মহলের মতে, মাদক নির্মূলে শুধু মাদকসেবী আটক নয়, বরং বড় কারবারি, সরবরাহকারী ও গডফাদারদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ও ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করতে হবে। অন্যথায় চুনোপুঁটি ধরা পড়লেও রাঘব বোয়ালরা থেকেই যাবে অধরাই।