Dhaka 12:39 am, Sunday, 28 June 2026

দক্ষিণডিহি রবীন্দ্র কমপ্লেক্স তিন দশকেও পায়নি পূর্ণতা

খুলনার ফুলতলা উপজেলার দক্ষিণডিহিতে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শ্বশুরবাড়িকে ঘিরে গড়ে ওঠা ‘রবীন্দ্র কমপ্লেক্স’ আজও স্বপ্নই রয়ে গেছে, তিন দশকেও পূর্ণতা পায়নি দক্ষিণডিহি রবীন্দ্র কমপ্লেক্স। শান্তিনিকেতনের আদলে একটি পূর্ণাঙ্গ সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স গড়ে তোলার পরিকল্পনা থাকলেও দীর্ঘ তিন দশকেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। প্রতি বছর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষ্যে কিছুদিনের জন্য এলাকায় প্রাণচাঞ্চল্য দেখা গেলেও বছরের বাকি সময়জুড়ে কমপ্লেক্সটি পড়ে থাকে নীরবতা আর অবহেলায়।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৫ সালে তৎকালীন জেলা প্রশাসক কাজী রিয়াজুল হক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শ্বশুরবাড়ি হিসেবে পরিচিত বাড়িটি দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নেন। ওই বছরের ৭ সেপ্টেম্বর স্থানীয় প্রশাসনের যৌথ অভিযানে বাড়িটি দখলদারদের হাত থেকে উদ্ধার করা হয়। এরপর বাড়িটি সংরক্ষণ ও সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হলেও তা বেশিদূর এগোয়নি। ২০০০ সালের ৮ আগস্ট বাড়িটি প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তরের অধীনে চলে যায়।

একই সময় ফুলতলায় অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় ‘রবীন্দ্র কমপ্লেক্স’ গড়ার সিদ্ধান্ত হয়। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো ৪৯ লাখ টাকার প্রস্তাবিত বাজেটের বিপরীতে ২২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। এ অর্থ দিয়ে আংশিক ভবন সংস্কার, বাউন্ডারি নির্মাণ, বিদ্যুৎ সংযোগসহ কিছু প্রাথমিক কাজ সম্পন্ন করা হয়। পরবর্তীতে কমপ্লেক্স চত্বরে কবি ও তাঁর স্ত্রী মৃণালিনী দেবীর আবক্ষ ভাস্কর্য স্থাপন করা হয় এবং নির্মিত হয় ‘মৃণালিনী মঞ্চ’ নামের একটি মঞ্চ। তবে প্রতিশ্রুত গবেষণা কেন্দ্র, সংগ্রহশালা, পূর্ণাঙ্গ লাইব্রেরি, রেস্ট হাউস কিংবা সাংস্কৃতিক অডিটোরিয়াম আজও নির্মিত হয়নি। পর্যটকদের জন্য উপযোগী অবকাঠামো যেমন পিকনিক স্পট, বিশ্রামাগার ও খাদ্যালয় কোনোটিই বাস্তবায়িত হয়নি।

পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কুষ্টিয়ার শিলাইদহে প্রস্তাবিত ‘রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়’-এর একটি শাখা দক্ষিণডিহিতে স্থাপনের পরিকল্পনাও থমকে আছে। বেজেরডাঙ্গা রেলস্টেশনের নাম পরিবর্তন করে ‘দক্ষিণডিহি’ রাখার প্রস্তাব এবং খুলনা-বেনাপোল রুটের একটি ট্রেনের নাম ‘মৃণালিনী এক্সপ্রেস’ রাখার পরিকল্পনাও কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। তবে, বর্তমানে দৃশ্যমান যেসব উন্নয়ন হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে মূল ভবনের রং ও আংশিক সংস্কার, নীচতলায় অপ্রতুল এক সংগ্রহশালা ও লাইব্রেরি, একটি ছাউনি, শিশুদের খেলার স্থান, একটি পার্ক ও শৌচাগার।

সূত্র জানায়, ২০১৬ সালের ১০ মে বাড়িটি ‘দক্ষিণডিহি রবীন্দ্র স্মৃতি যাদুঘর’ হিসেবে সরকারিভাবে স্বীকৃতি পায়। এরপর ২০১৫ সালের ১ এপ্রিল থেকে দেশি ও বিদেশি পর্যটকদের জন্য প্রবেশ টিকিট চালু করা হয়। দেশি দর্শনার্থীদের জন্য টিকিট মূল্য ধরা হয় ২০ টাকা, আর বিদেশিদের জন্য ৫০ টাকা।

স্থানীয় সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাদের মতে, দক্ষিণডিহিকে কেন্দ্র করে একটি পূর্ণাঙ্গ রবীন্দ্র সাংস্কৃতিক কেন্দ্র গড়ে তোলা সম্ভব হলে খুলনাসহ গোটা দক্ষিণাঞ্চলের পর্যটন ও সংস্কৃতির বিকাশ ঘটত।

তারা মনে করছেন, এ লক্ষ্যে এখন জরুরি রাজনৈতিক সদিচ্ছা, পর্যাপ্ত আর্থিক বরাদ্দ এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার বাস্তবায়ন।

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

রামপালে ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণ: মামলা, গ্রেপ্তার ১

দক্ষিণডিহি রবীন্দ্র কমপ্লেক্স তিন দশকেও পায়নি পূর্ণতা

প্রকাশঃ 07:49:22 am, Thursday, 7 May 2026

খুলনার ফুলতলা উপজেলার দক্ষিণডিহিতে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শ্বশুরবাড়িকে ঘিরে গড়ে ওঠা ‘রবীন্দ্র কমপ্লেক্স’ আজও স্বপ্নই রয়ে গেছে, তিন দশকেও পূর্ণতা পায়নি দক্ষিণডিহি রবীন্দ্র কমপ্লেক্স। শান্তিনিকেতনের আদলে একটি পূর্ণাঙ্গ সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স গড়ে তোলার পরিকল্পনা থাকলেও দীর্ঘ তিন দশকেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। প্রতি বছর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষ্যে কিছুদিনের জন্য এলাকায় প্রাণচাঞ্চল্য দেখা গেলেও বছরের বাকি সময়জুড়ে কমপ্লেক্সটি পড়ে থাকে নীরবতা আর অবহেলায়।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৫ সালে তৎকালীন জেলা প্রশাসক কাজী রিয়াজুল হক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শ্বশুরবাড়ি হিসেবে পরিচিত বাড়িটি দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নেন। ওই বছরের ৭ সেপ্টেম্বর স্থানীয় প্রশাসনের যৌথ অভিযানে বাড়িটি দখলদারদের হাত থেকে উদ্ধার করা হয়। এরপর বাড়িটি সংরক্ষণ ও সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হলেও তা বেশিদূর এগোয়নি। ২০০০ সালের ৮ আগস্ট বাড়িটি প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তরের অধীনে চলে যায়।

একই সময় ফুলতলায় অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় ‘রবীন্দ্র কমপ্লেক্স’ গড়ার সিদ্ধান্ত হয়। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো ৪৯ লাখ টাকার প্রস্তাবিত বাজেটের বিপরীতে ২২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। এ অর্থ দিয়ে আংশিক ভবন সংস্কার, বাউন্ডারি নির্মাণ, বিদ্যুৎ সংযোগসহ কিছু প্রাথমিক কাজ সম্পন্ন করা হয়। পরবর্তীতে কমপ্লেক্স চত্বরে কবি ও তাঁর স্ত্রী মৃণালিনী দেবীর আবক্ষ ভাস্কর্য স্থাপন করা হয় এবং নির্মিত হয় ‘মৃণালিনী মঞ্চ’ নামের একটি মঞ্চ। তবে প্রতিশ্রুত গবেষণা কেন্দ্র, সংগ্রহশালা, পূর্ণাঙ্গ লাইব্রেরি, রেস্ট হাউস কিংবা সাংস্কৃতিক অডিটোরিয়াম আজও নির্মিত হয়নি। পর্যটকদের জন্য উপযোগী অবকাঠামো যেমন পিকনিক স্পট, বিশ্রামাগার ও খাদ্যালয় কোনোটিই বাস্তবায়িত হয়নি।

পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কুষ্টিয়ার শিলাইদহে প্রস্তাবিত ‘রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়’-এর একটি শাখা দক্ষিণডিহিতে স্থাপনের পরিকল্পনাও থমকে আছে। বেজেরডাঙ্গা রেলস্টেশনের নাম পরিবর্তন করে ‘দক্ষিণডিহি’ রাখার প্রস্তাব এবং খুলনা-বেনাপোল রুটের একটি ট্রেনের নাম ‘মৃণালিনী এক্সপ্রেস’ রাখার পরিকল্পনাও কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। তবে, বর্তমানে দৃশ্যমান যেসব উন্নয়ন হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে মূল ভবনের রং ও আংশিক সংস্কার, নীচতলায় অপ্রতুল এক সংগ্রহশালা ও লাইব্রেরি, একটি ছাউনি, শিশুদের খেলার স্থান, একটি পার্ক ও শৌচাগার।

সূত্র জানায়, ২০১৬ সালের ১০ মে বাড়িটি ‘দক্ষিণডিহি রবীন্দ্র স্মৃতি যাদুঘর’ হিসেবে সরকারিভাবে স্বীকৃতি পায়। এরপর ২০১৫ সালের ১ এপ্রিল থেকে দেশি ও বিদেশি পর্যটকদের জন্য প্রবেশ টিকিট চালু করা হয়। দেশি দর্শনার্থীদের জন্য টিকিট মূল্য ধরা হয় ২০ টাকা, আর বিদেশিদের জন্য ৫০ টাকা।

স্থানীয় সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাদের মতে, দক্ষিণডিহিকে কেন্দ্র করে একটি পূর্ণাঙ্গ রবীন্দ্র সাংস্কৃতিক কেন্দ্র গড়ে তোলা সম্ভব হলে খুলনাসহ গোটা দক্ষিণাঞ্চলের পর্যটন ও সংস্কৃতির বিকাশ ঘটত।

তারা মনে করছেন, এ লক্ষ্যে এখন জরুরি রাজনৈতিক সদিচ্ছা, পর্যাপ্ত আর্থিক বরাদ্দ এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার বাস্তবায়ন।