খুলনার পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনি বাজার এলাকায় ‘রামকৃষ্ণ হোমিও কমপ্লেক্স’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসার আড়ালে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার নিজেকে ডা: আশুতোষ কুমার বিশ্বাস’ হিসেবে পরিচয় দিলেও তার বৈধ চিকিৎসা সনদ ও অনুমোদন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে স্থানীয়দের মাঝে।
অভিযোগ রয়েছে, নামের আগে ‘ডাক্তার’ পদবি ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে এবং রোগীদের ভুলভাল চিকিৎসা দিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো—এ প্রতিষ্ঠানে অনুমোদনহীন লোকাল কোম্পানির ওষুধ বিক্রি করা হচ্ছে, এমনকি মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধও সরবরাহ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় ভুক্তভোগীদের দাবি, এসব ওষুধ সেবনের ফলে রোগ নিরাময়ের পরিবর্তে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটছে। অনেকেই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় ভুগছেন, কেউ কেউ গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া ওষুধের গায়ে নতুন তারিখ বসিয়ে তা বিক্রি করা হচ্ছে—যা সরাসরি জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে চরম প্রতারণা।
সচেতন মহল বলছে, চিকিৎসা সেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে এ ধরনের অনিয়ম ও প্রতারণা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা যায় না।
সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নজরদারি ও কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় এ ধরনের কার্যক্রম দিন দিন বাড়ছে, যা ভবিষ্যতে বড় ধরনের জনস্বাস্থ্য সংকট ডেকে আনতে পারে।
এলাকাবাসী দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে এ ধরনের ভুয়া ডাক্তার ও অননুমোদিত ওষুধ ব্যবসার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
সাধারণ জনগণকে চিকিৎসা গ্রহণের আগে ডাক্তারের সনদ, নিবন্ধন ও প্রেসক্রিপশন যাচাই করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ওষুধ কেনার সময় মেয়াদ, প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন ও মান নিশ্চিত করার জন্য সতর্ক থাকার আহ্বান করা হয়েছে। সন্দেহজনক কার্যক্রম চোখে পড়লে দ্রুত সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে জানানোর অনুরোধ করা হচ্ছে।
দেশের তথ্য ডেস্ক 




















