Dhaka 1:43 am, Sunday, 28 June 2026

ডুমুরিয়ার তেঁতুলতলা গেটের কপাট ভেঙ্গে জোয়ারের পানি ভিতরে, বিপাকে চাষীরা

বটিয়াঘাটার তেঁতুলতলা স্লুইজ গেট ডুমুরিয়ার বিলপাবলা এলাকার জন্য আশীর্বাদ হলেও এখন তা মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। গত ৪/৫দিন গেটের জলকপাট ভেঙে ভিতরে জোয়ারের পানি প্রবেশ করছে। আর এতেই বিপাকে পড়েছে বোরো ধান চাষীরা। ধান কর্তনের ভরা মৌসুমে গেটের এমন বেহাল দশা কৃষকের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। একদিকে বৃষ্টি অন্যদিকে গেট দিয়ে ওঠা জোয়ারের পানি! উভয় সংকটে দিশেহারা হয়ে পড়েছে কৃষকরা।

জানা গেছে, শৈলমারী নদী পলি পড়ে ভরাট হওয়ার পর গত ৩ বছর যাবৎ ডুমুরিয়াসহ বিলডাকাতিয়ার পানি নিষ্কাশন হয়ে আসছে তেঁতুলতলার ১০ ভেন্ট রেগুলেটর দিয়ে। এর আগে এই রেগুলেটর দিয়ে শুধুমাত্র খুলনা সিটি কর্পোরেশন এলাকার পানি নিষ্কাশন হতো। জলাবদ্ধ ডুমুরিয়ার একটি বৃহৎ অংশের পানি বিকল্প পথ হিসেবে ময়ূর নদী হয়ে তেঁতুলতলা রেগুলেটর দিয়ে রূপসা নদীতে নিষ্কাশন হয়ে আসছে। ফলে গেটটি ডুমুরিয়ার জন্য আশীর্বাদ হয়ে ওঠে। হঠাৎ করে গেটের একটি জলকপাট ভেঙে গত ৪/৫দিন ভিতরে হুড়হুড় করে জোয়ারের পানি ঢুকে পড়ছে। যার কারণে গুটুদিয়া ইউনিয়নের বিলপাবলা এলাকাসহ বিলে অস্বাভাবিকভাবে পানি ফেঁপে উঠছে। কর্তনকৃত বোরো ধান ক্ষেত তলিয়ে যাচ্ছে। গেটটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন হলেও দীর্ঘ প্রায় এক যুগেরও বেশি সময় ধরে খুলনা সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ দেখাশোনা করছেন।

গুটুদিয়া গ্রামের খান আসাদুজ্জামান মিন্টু বলেন, ‘গত কয়েকদিন ধরে গেটের ভাঙা কপাট দিয়ে ভিতরে জোয়ারের পানি প্রবেশ করছে। ভরা বোরো মৌসুমে একদিকে অতিবৃষ্টি, অন্যদিকে জোয়ারের পানিতে গুটুদিয়ার বিলপাবলা এলাকার নিম্নাঞ্চল তলিয়ে যাচ্ছে। পাকা ধান নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। অবিলম্বে গেটটি সংস্কারের প্রয়োজন। তা-না হলে লবণ পানিতে ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষতি হবে। এলাকার কৃষকরা বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনকে (ইউএনও) অবহিত করা হয়েছে।’

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

রামপালে ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণ: মামলা, গ্রেপ্তার ১

ডুমুরিয়ার তেঁতুলতলা গেটের কপাট ভেঙ্গে জোয়ারের পানি ভিতরে, বিপাকে চাষীরা

প্রকাশঃ 02:27:36 pm, Monday, 4 May 2026

বটিয়াঘাটার তেঁতুলতলা স্লুইজ গেট ডুমুরিয়ার বিলপাবলা এলাকার জন্য আশীর্বাদ হলেও এখন তা মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। গত ৪/৫দিন গেটের জলকপাট ভেঙে ভিতরে জোয়ারের পানি প্রবেশ করছে। আর এতেই বিপাকে পড়েছে বোরো ধান চাষীরা। ধান কর্তনের ভরা মৌসুমে গেটের এমন বেহাল দশা কৃষকের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। একদিকে বৃষ্টি অন্যদিকে গেট দিয়ে ওঠা জোয়ারের পানি! উভয় সংকটে দিশেহারা হয়ে পড়েছে কৃষকরা।

জানা গেছে, শৈলমারী নদী পলি পড়ে ভরাট হওয়ার পর গত ৩ বছর যাবৎ ডুমুরিয়াসহ বিলডাকাতিয়ার পানি নিষ্কাশন হয়ে আসছে তেঁতুলতলার ১০ ভেন্ট রেগুলেটর দিয়ে। এর আগে এই রেগুলেটর দিয়ে শুধুমাত্র খুলনা সিটি কর্পোরেশন এলাকার পানি নিষ্কাশন হতো। জলাবদ্ধ ডুমুরিয়ার একটি বৃহৎ অংশের পানি বিকল্প পথ হিসেবে ময়ূর নদী হয়ে তেঁতুলতলা রেগুলেটর দিয়ে রূপসা নদীতে নিষ্কাশন হয়ে আসছে। ফলে গেটটি ডুমুরিয়ার জন্য আশীর্বাদ হয়ে ওঠে। হঠাৎ করে গেটের একটি জলকপাট ভেঙে গত ৪/৫দিন ভিতরে হুড়হুড় করে জোয়ারের পানি ঢুকে পড়ছে। যার কারণে গুটুদিয়া ইউনিয়নের বিলপাবলা এলাকাসহ বিলে অস্বাভাবিকভাবে পানি ফেঁপে উঠছে। কর্তনকৃত বোরো ধান ক্ষেত তলিয়ে যাচ্ছে। গেটটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন হলেও দীর্ঘ প্রায় এক যুগেরও বেশি সময় ধরে খুলনা সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ দেখাশোনা করছেন।

গুটুদিয়া গ্রামের খান আসাদুজ্জামান মিন্টু বলেন, ‘গত কয়েকদিন ধরে গেটের ভাঙা কপাট দিয়ে ভিতরে জোয়ারের পানি প্রবেশ করছে। ভরা বোরো মৌসুমে একদিকে অতিবৃষ্টি, অন্যদিকে জোয়ারের পানিতে গুটুদিয়ার বিলপাবলা এলাকার নিম্নাঞ্চল তলিয়ে যাচ্ছে। পাকা ধান নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। অবিলম্বে গেটটি সংস্কারের প্রয়োজন। তা-না হলে লবণ পানিতে ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষতি হবে। এলাকার কৃষকরা বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনকে (ইউএনও) অবহিত করা হয়েছে।’