Dhaka 1:43 am, Sunday, 28 June 2026

সংবাদে জেগেছে কর্তৃপক্ষ, বাস্তবে কি বদলাবে পাইকগাছার আমুরকাটা সড়কের চিত্র!

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি
একটি প্রতিবেদন কি সত্যিই ভাঙতে পারে বছরের পর বছর জমে থাকা অবহেলার দেয়াল? নাকি এটি কেবল ক্ষণিকের তৎপরতা—কাগজে তৎপর, মাঠে একই পুরনো বেহাল দশা? সংবাদ প্রকাশের পর শুরু হওয়া সংস্কারকাজ নতুন করে আশার সঞ্চার করলেও প্রশ্নটা থেকেই যায়—এই উদ্যোগ কি শেষ পর্যন্ত টেকসই পরিবর্তনে রূপ নেবে, নাকি আবারও থেমে যাবে মাঝপথে, ফেলে যাবে একই দুর্ভোগের গল্প?

খুলনার পাইকগাছা উপজেলার আমুরকাটা-চৌরাস্তা সড়ক ঘিরে এখন ঠিক এমনই বাস্তবতার মুখোমুখি এলাকাবাসী।

সংবাদ প্রকাশের পর অবশেষে নড়েচড়ে বসেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘদিনের অবহেলায় জীর্ণ হয়ে পড়া এই সড়কে শুরু হয়েছে সংস্কার কাজ। তবে এখন বড় প্রশ্ন—এই উদ্যোগ কতটা টেকসই হবে, আর কাজ কতদিনে শেষ হবে?

গত ২২ এপ্রিল সড়কটির বেহাল চিত্র প্রকাশের পরপরই স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে তৎপরতা দেখা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কের যেসব অংশ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ছিল, সেসব জায়গায় এখন সংস্কার কাজ চলছে। এতে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও পুরো সড়কের স্থায়ী সমাধান নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

পাইকগাছা উপজেলার ৫নং সোলাদানা ইউনিয়নের আমুরকাটা বাজার থেকে চৌরাস্তা পর্যন্ত বিস্তৃত এই সড়কটি আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের একমাত্র ভরসার পথ। প্রতিদিন শত শত মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অফিস-আদালত ও বাজারে যাতায়াত করেন। দীর্ঘদিন অবহেলায় পড়ে থাকা এই সড়ক খানাখন্দ, ভাঙা ইট ও উঁচু-নিচু অবস্থার কারণে চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে উঠেছিল।

বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত অংশে কাজ চললেও স্থানীয়দের দাবি, আংশিক সংস্কার নয়—পুরো সড়কটিকে টেকসই পাকা (পিচ) রাস্তায় রূপান্তর করতে হবে। তাদের মতে, বারবার খারাপ অংশ মেরামত করে সাময়িক সমাধান মিললেও এতে দীর্ঘমেয়াদে ভোগান্তি থেকেই যায়।

স্থানীয় ভ্যানচালক আব্দুল করিম বলেন, “যেখানে বেশি খারাপ ছিল সেখানে কাজ হচ্ছে, এটা ভালো। কিন্তু আমরা চাই পুরো রাস্তা পাকা হোক, যাতে বারবার ভাঙা-গড়ার ঝামেলা না থাকে।”

ইজিবাইক চালক সোহেল গাজী বলেন, “আংশিক কাজ করলে কিছুদিন পর আবার একই সমস্যা হবে। স্থায়ীভাবে পাকা রাস্তা না হলে মানুষের কষ্ট কমবে না।”

গৃহবধূ রহিমা বেগম বলেন, “অনেকদিন ধরে কষ্ট করছি। এখন যদি পুরো রাস্তা ভালোভাবে পাকা করা হয়, তাহলে আমাদের চলাচল সহজ হবে।”

৩নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শেখর রঞ্জন ঢালী জানান, আপাতত ক্ষতিগ্রস্ত অংশে সংস্কার কাজ চলছে এবং পরবর্তীতে পূর্ণাঙ্গ উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
এলাকাবাসীর স্পষ্ট দাবি—৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করতে হবে। কারণ এটি শুধু একটি পথ নয়, বরং পুরো এলাকার মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে সরাসরি জড়িত।

এখন দেখার বিষয়—সংবাদে জেগে ওঠা এই উদ্যোগ আংশিক সংস্কারেই সীমাবদ্ধ থাকে, নাকি বাস্তবেই একটি টেকসই পাকা সড়কে রূপ নেয়। কারণ মানুষের প্রত্যাশা এখন একটাই—অস্থায়ী নয়, স্থায়ী সমাধান।

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

রামপালে ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণ: মামলা, গ্রেপ্তার ১

সংবাদে জেগেছে কর্তৃপক্ষ, বাস্তবে কি বদলাবে পাইকগাছার আমুরকাটা সড়কের চিত্র!

প্রকাশঃ 12:38:34 pm, Thursday, 30 April 2026

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি
একটি প্রতিবেদন কি সত্যিই ভাঙতে পারে বছরের পর বছর জমে থাকা অবহেলার দেয়াল? নাকি এটি কেবল ক্ষণিকের তৎপরতা—কাগজে তৎপর, মাঠে একই পুরনো বেহাল দশা? সংবাদ প্রকাশের পর শুরু হওয়া সংস্কারকাজ নতুন করে আশার সঞ্চার করলেও প্রশ্নটা থেকেই যায়—এই উদ্যোগ কি শেষ পর্যন্ত টেকসই পরিবর্তনে রূপ নেবে, নাকি আবারও থেমে যাবে মাঝপথে, ফেলে যাবে একই দুর্ভোগের গল্প?

খুলনার পাইকগাছা উপজেলার আমুরকাটা-চৌরাস্তা সড়ক ঘিরে এখন ঠিক এমনই বাস্তবতার মুখোমুখি এলাকাবাসী।

সংবাদ প্রকাশের পর অবশেষে নড়েচড়ে বসেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘদিনের অবহেলায় জীর্ণ হয়ে পড়া এই সড়কে শুরু হয়েছে সংস্কার কাজ। তবে এখন বড় প্রশ্ন—এই উদ্যোগ কতটা টেকসই হবে, আর কাজ কতদিনে শেষ হবে?

গত ২২ এপ্রিল সড়কটির বেহাল চিত্র প্রকাশের পরপরই স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে তৎপরতা দেখা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কের যেসব অংশ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ছিল, সেসব জায়গায় এখন সংস্কার কাজ চলছে। এতে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও পুরো সড়কের স্থায়ী সমাধান নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

পাইকগাছা উপজেলার ৫নং সোলাদানা ইউনিয়নের আমুরকাটা বাজার থেকে চৌরাস্তা পর্যন্ত বিস্তৃত এই সড়কটি আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের একমাত্র ভরসার পথ। প্রতিদিন শত শত মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অফিস-আদালত ও বাজারে যাতায়াত করেন। দীর্ঘদিন অবহেলায় পড়ে থাকা এই সড়ক খানাখন্দ, ভাঙা ইট ও উঁচু-নিচু অবস্থার কারণে চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে উঠেছিল।

বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত অংশে কাজ চললেও স্থানীয়দের দাবি, আংশিক সংস্কার নয়—পুরো সড়কটিকে টেকসই পাকা (পিচ) রাস্তায় রূপান্তর করতে হবে। তাদের মতে, বারবার খারাপ অংশ মেরামত করে সাময়িক সমাধান মিললেও এতে দীর্ঘমেয়াদে ভোগান্তি থেকেই যায়।

স্থানীয় ভ্যানচালক আব্দুল করিম বলেন, “যেখানে বেশি খারাপ ছিল সেখানে কাজ হচ্ছে, এটা ভালো। কিন্তু আমরা চাই পুরো রাস্তা পাকা হোক, যাতে বারবার ভাঙা-গড়ার ঝামেলা না থাকে।”

ইজিবাইক চালক সোহেল গাজী বলেন, “আংশিক কাজ করলে কিছুদিন পর আবার একই সমস্যা হবে। স্থায়ীভাবে পাকা রাস্তা না হলে মানুষের কষ্ট কমবে না।”

গৃহবধূ রহিমা বেগম বলেন, “অনেকদিন ধরে কষ্ট করছি। এখন যদি পুরো রাস্তা ভালোভাবে পাকা করা হয়, তাহলে আমাদের চলাচল সহজ হবে।”

৩নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শেখর রঞ্জন ঢালী জানান, আপাতত ক্ষতিগ্রস্ত অংশে সংস্কার কাজ চলছে এবং পরবর্তীতে পূর্ণাঙ্গ উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
এলাকাবাসীর স্পষ্ট দাবি—৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করতে হবে। কারণ এটি শুধু একটি পথ নয়, বরং পুরো এলাকার মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে সরাসরি জড়িত।

এখন দেখার বিষয়—সংবাদে জেগে ওঠা এই উদ্যোগ আংশিক সংস্কারেই সীমাবদ্ধ থাকে, নাকি বাস্তবেই একটি টেকসই পাকা সড়কে রূপ নেয়। কারণ মানুষের প্রত্যাশা এখন একটাই—অস্থায়ী নয়, স্থায়ী সমাধান।