খুলনায় তিন দিনব্যাপী মাশরুম মেলার উদ্বোধন করা হয়েছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিকেল ৫টায় নগরীর শহীদ হাদিস পার্কে এ মেলার আয়োজক ছিল খুলনা, যশোর, সাতক্ষীরা ও নড়াইল অঞ্চলের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। মেলার প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল মাশরুম চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন ও দারিদ্র হ্রাসকরণ।
প্রধান অতিথি হিসেবে মেলার উদ্বোধন করেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। এর আগে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা মাশরুমের পুষ্টি গুণ ও উপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করে বলেন, বাংলাদেশে জমির অপ্রতুলতা, বেকারত্ব, পুষ্টিহীনতা, মাথাপিছু আয়ের স্বল্পতা, মহিলাদের আত্মকর্মসংস্থান, সর্বোপরি দারিদ্র্য বিমোচন ইত্যাদি বিষয় বিবেচনায় মাশরুম একটি সম্ভাবনাময় ফসল। এদেশের আবহাওয়া মাশরুম চাষের জন্য অত্যান্ত উপযোগী। অমিত সম্ভাবনাময় ফসল মাশরুম চাষের জন্য কোনো উর্বর জমির প্রয়োজন হয় না বিধায় দেশে মাশরুম উৎপাদন যতই বাড়ানো হোক না কেন তাতে কোনো ফসলেরই উৎপাদন কমার সম্ভাবনা নেই। যার মোটেই চাষের জমি নেই তিনিও বসত ঘরের পাশের অব্যবহৃত জায়গায় অনেক পরিমাণ মাশরুম উৎপাদন করতে পারেন। এজন্য ঘনবসতিপূর্ণ বাংলাদেশে মাশরুমের উৎপাদন ও ব্যবহার বৃদ্ধি করা অত্যন্ত প্রয়োজন। সব শ্রেণি ও পেশার মানুষ মাশরুম চাষ করতে পারেন। মাশরুম এমন একটি ফসল যা ধনী, দরিদ্র সবার ঘরে সমভাবে জায়গা করে নিয়েছে। গ্রাম-গঞ্জে, শহরে এমনকি অতিমাত্রায় বিলাসিদের প্রাসাদেও মাশরুম স্থান পেয়েছে। আল্লাহতায়ালা মানব জাতির কল্যাণে দুনিয়ায় অগণিত জিনিসের সৃষ্টি করেছেন। এরকম কোটি কোটি সৃষ্টির মধ্যে মানব দেহের জন্য খুবই উপকারী ও ঔষধিগুণে ভরপুর একটি দ্রব্যের সহজ-সরল নাম মাশরুম। এটি অত্যন্ত পুষ্টিকর, সুস্বাদু ও ঔষধিগুণ সম্পন্ন খাবার। এতে আছে প্রোটিন, ভিটামিন, মিনারেল, অ্যামাইনো এসিড, অ্যান্টিবায়োটিক ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। স্বাদ, পুষ্টি ও ঔষধিগুণের কারণে এরইমধ্যে এটি সারা দেশে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। মাশরুম চাষ আমাদের দেশের পুষ্টি সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বক্তারা আরও বলেন, সমৃদ্ধ মাশরুম অত্যন্ত স্বাস্থ্যপ্রদ একটি খাবার। মাশরুমের পুষ্টিমান তুলনামূলকভাবে অত্যধিক এবং এর প্রোটিন অতি উন্নতমানের এবং মানব দেহের জন্য অতিশয় উপকারী। একটি পরিপূর্ণ প্রোটিনের পূর্বশর্ত হলো মানব দেহের অত্যাবশ্যকীয় ৯টি অ্যাসিডের উপস্থিতি। মাশরুমে অতীব প্রয়োজনীয় এ ৯টি অ্যামাইনো অ্যাসিড বিদ্যমান। অন্যান্য প্রাণিজ আমিষ যেমন -মাছ, মাংস, ডিম অতি নামি-দামি খাবার হলেও এতে চর্বি সম্পৃক্ত অবস্থায় থাকায় যা অতি মাত্রায় গ্রহণ করলে শরীরে কোলেস্টেরল বৃদ্ধি পেয়ে বিভিন্ন সমস্যার সৃষ্টি করে, যার ফলে মেদ-ভুঁড়ির সৃষ্টি, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ প্রভৃতি জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বহুগুণে বৃদ্ধি পায়।
গেস্ট অব অনার ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হার্টিকালচার উইং পরিচালক ড. মো: হযরত আলী। স্বাগত বক্তৃতা করেন খুলনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মো: রফিকুল ইসলাম। বিষয়বস্তুর ওপর তথ্য উপস্থাপনা করেন মাশরুম চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন ও দারিদ্র হ্রাসকরণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. মোছা: আক্তার জাহান কাঁকন। সঞ্চালনায় ছিলেন সাতক্ষীরার অতিরিক্ত উপ-পরিচালক কৃষ্ণা রানী মন্ডল।
অন্যান্যের মধ্যে খুলনা, যশোর, সাতক্ষীরা ও নড়াইল জেলার কৃষি কর্মকর্তাবৃন্দ, মাশরুমের উদ্যোক্তাগণসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। মেলায় জেলার ২১ জন উদ্যোক্তা স্টলের মাধ্যমে তাদের পণ্যের প্রদর্শন করছেন।
মেলা চলবে আগামী ১ মে পর্যন্ত।
দেশের তথ্য ডেস্ক 




















