Dhaka 1:42 am, Sunday, 28 June 2026

বর্ষা আসার আগেই বাগেরহাটে জলাবদ্ধতা, শহরজুড়ে পানি দ্রুত ব্যবস্থা চান স্থানীয়রা

বাগেরহাট প্রতিনিধি
বাগেরহাটে সকাল থেকেই থেমে থেমে বৃষ্টি হওয়ায় শহরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকায় জনজীবনে স্থবিরতা নেমে এসেছে, প্রয়োজন ছাড়া অনেকেই ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। এদিকে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য অব্যাহত থাকায় দেশের চারটি সমুদ্র বন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) আবহাওয়ার সতর্কবার্তায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়। একই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সতর্কভাবে চলাচলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মোঃ আব্দুল হামিদ মিয়া স্বাক্ষরিত বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

আবহাওয়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত উপকূলীয় এলাকার মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

টানা বৃষ্টিতে বাগেরহাট শহরের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল ও বাজার এলাকায় পানি জমে জনদুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। অনেক স্থানে দোকানপাট ও রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ইমরান বাবু বলেন, ঘরের ভেতরেও পানি ঢুকে গেছে। শহরের প্রায় সব জায়গায়ই পানি জমে আছে। বর্ষা মৌসুম শুরুই হয়নি, এখনই যদি এমন অবস্থা হয় তাহলে সামনে আমাদের অবস্থা কী হবে তা নিয়ে আমরা চিন্তিত। এমপি সাহেব ও পৌর কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই, তারা যেন দ্রুত পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, সকালে দোকান খুলেই তারা রাস্তায় পানি জমে থাকতে দেখেন। চারপাশে হাঁটুসমান পানি থাকায় ক্রেতাদের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এতে দোকানগুলোতে বিক্রি প্রায় বন্ধ হয়ে পড়েছে এবং তারা ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

এক ব্যবসায়ী বলেন, দোকানের সামনের অংশ পানিতে তলিয়ে গেছে। পণ্যের ক্ষতি এড়াতে মালামাল উঁচু করে রাখতে হচ্ছে। টানা বৃষ্টিতে ব্যবসা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। বর্ষার মৌসুম এখনো শুরুই হয়নি, এখনই যদি আমাদের এমন অবস্থা হয় তাহলে সামনে তো আমরা পুরোপুরি পানির নিচে থাকবো।

রিকশাচালক জসিম উদ্দিন বলেন, রাস্তার ওপর পানি জমে থাকায় চলাচল করা অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়েছে। বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে যাত্রী সংখ্যা কমে গেছে, ফলে সারাদিন অপেক্ষা করেও তেমন কোনো আয় হচ্ছে না।

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

রামপালে ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণ: মামলা, গ্রেপ্তার ১

বর্ষা আসার আগেই বাগেরহাটে জলাবদ্ধতা, শহরজুড়ে পানি দ্রুত ব্যবস্থা চান স্থানীয়রা

প্রকাশঃ 12:46:22 pm, Wednesday, 29 April 2026

বাগেরহাট প্রতিনিধি
বাগেরহাটে সকাল থেকেই থেমে থেমে বৃষ্টি হওয়ায় শহরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকায় জনজীবনে স্থবিরতা নেমে এসেছে, প্রয়োজন ছাড়া অনেকেই ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। এদিকে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য অব্যাহত থাকায় দেশের চারটি সমুদ্র বন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) আবহাওয়ার সতর্কবার্তায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়। একই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সতর্কভাবে চলাচলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মোঃ আব্দুল হামিদ মিয়া স্বাক্ষরিত বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

আবহাওয়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত উপকূলীয় এলাকার মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

টানা বৃষ্টিতে বাগেরহাট শহরের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল ও বাজার এলাকায় পানি জমে জনদুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। অনেক স্থানে দোকানপাট ও রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ইমরান বাবু বলেন, ঘরের ভেতরেও পানি ঢুকে গেছে। শহরের প্রায় সব জায়গায়ই পানি জমে আছে। বর্ষা মৌসুম শুরুই হয়নি, এখনই যদি এমন অবস্থা হয় তাহলে সামনে আমাদের অবস্থা কী হবে তা নিয়ে আমরা চিন্তিত। এমপি সাহেব ও পৌর কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই, তারা যেন দ্রুত পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, সকালে দোকান খুলেই তারা রাস্তায় পানি জমে থাকতে দেখেন। চারপাশে হাঁটুসমান পানি থাকায় ক্রেতাদের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এতে দোকানগুলোতে বিক্রি প্রায় বন্ধ হয়ে পড়েছে এবং তারা ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

এক ব্যবসায়ী বলেন, দোকানের সামনের অংশ পানিতে তলিয়ে গেছে। পণ্যের ক্ষতি এড়াতে মালামাল উঁচু করে রাখতে হচ্ছে। টানা বৃষ্টিতে ব্যবসা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। বর্ষার মৌসুম এখনো শুরুই হয়নি, এখনই যদি আমাদের এমন অবস্থা হয় তাহলে সামনে তো আমরা পুরোপুরি পানির নিচে থাকবো।

রিকশাচালক জসিম উদ্দিন বলেন, রাস্তার ওপর পানি জমে থাকায় চলাচল করা অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়েছে। বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে যাত্রী সংখ্যা কমে গেছে, ফলে সারাদিন অপেক্ষা করেও তেমন কোনো আয় হচ্ছে না।