Dhaka 3:39 am, Sunday, 28 June 2026

ফের আলোচনায় ভোলা-বরিশাল-খুলনা গ্যাস পাইপলাইন

আবারও আলোচনায় এসেছে ভোলা-বরিশাল-খুলনা গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্প। শুরুর আগেই ফের রুট পরিবর্তন করে বিষয়টি এখন অগ্রাধিকার পাচ্ছে। দ্বীপ জেলা ভোলার গ্যাস সংক্রান্ত উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।

কয়েক বছর ধরেই ভোলা-বরিশাল-খুলনা পাইপলাইন নিয়ে কথা চলছিল। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ভোলা-বরিশাল অংশ অপরিবর্তিত রেখে ভোলা-বরিশাল-ঢাকা পাইপলাইন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। অনেক আগেই হয়েছে ভোলা-বরিশাল পাইপলাইনের প্রাক-সমীক্ষা। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বরিশাল-ঢাকা অংশের প্রাক-সমীক্ষার কাজ শুরু করেছিল।

পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মোঃ এরফানুল হক বলেছেন, গত সপ্তাহে ভোলা গ্যাস ফিল্ড নিয়ে একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হয়েছে। সেখানে শিল্পায়ন, পাইপলাইনসহ অনেকগুলো বিষয় তুলে ধরা হয়। প্রথমত ভোলা-বরিশাল-খুলনা পাইপলাইন স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এরপর যদি গ্যাস থাকে তাহলে বরিশাল-ঢাকা পাইপলাইন করা হবে। ওই পাইপলাইন করতে ৩ থেকে ৫ বছরের মতো সময় প্রয়োজন হবে। সেই সময়ের জন্য এলএনজি আকারে আনার বিষয়েও আলোচিত হয়েছে। এখানে সরকার কোন অবকাঠামো করবে না, বেসরকারি উদ্যোক্তা যদি স্বল্প সময়ের জন্য আগ্রহী হয় তাহলে বিবেচনা করা হবে।

ভোলা থেকে বরিশাল হয়ে খুলনা নিতে গেলে ১৫০ কিলোমিটার পাইপলাইন দরকার। বলা যায় কয়েক দশক ধরেই পাইপলাইন নিয়ে আলোচনা চলে আসছে। ১৫০ কিলোমিটার পাইপলাইনে ৭ থেকে ৮ হাজার কোটি টাকা খরচের প্রাক্কলন করা হয়। গ্যাস মজুত বেশি না থাকলে পাইপলাইনের খরচ উঠবে কিভাবে, অর্থায়নে নিশ্চয়তা চাইবে ঋণদাতারা। ২০০৪ সালে পাইপলাইন নির্মাণে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক সেই গ্যারান্টি চাইলে প্রকল্প ভেস্তে যায় তখন।

সিলেট অঞ্চলের পর দ্বীপ জেলা ভোলায় গ্যাসের বিশাল মজুত রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। এখন পর্যন্ত যতগুলো কূপ খনন করা হয়েছে সবগুলোতেই গ্যাসের অবস্থান নিশ্চিত করা হয়েছে। ভোলা ইস্ট থেকে ভোলা নর্থের দূরত্ব ৪০ কিলোমিটার সেখানে গ্যাস পাওয়া গেছে। হাতিয়া ট্র্যাপে যতগুলো কূপ করা হয়েছে, কোনটি মিস হয়নি, মুলাদি, বেগমগঞ্জ, সুন্দলপুর, ভোলা, সাঙ্গু সব জায়গায় গ্যাস পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যেই ভোলায় ৩টি গ্যাস ফিল্ড আবিষ্কৃত হয়েছে তাতে প্রায় ৮ টিসিএফ (ট্রিলিয়ন ঘনফুট) গ্যাস মজুত আশা করা হচ্ছে।

এ যাবৎ মোট ৯টি কূপ খনন করা হয়েছে। যা দিয়ে দৈনিক প্রায় ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা সম্ভব। ৯ কূপের মধ্যে ৫টি এখনই গ্যাস উৎপাদনে সক্ষম রয়েছে যেগুলো থেকে দৈনিক ১৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ দেওয়া সম্ভব। অপর ৪টি কূপের মধ্যে ১টির পাইপলাইন এবং ৩টি কূপের প্রসেস প্লান্ট রেডি হচ্ছে। ভোলায় আরও ১০টি কূপ খননের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বাপেক্স।

ভোলায় গ্যাসের চাহিদা না থাকায় দৈনিক মাত্র ৮০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা হচ্ছে। আবার পাইপলাইন না থাকায় জাতীয় গ্রিডে দেওয়া যাচ্ছে না। বিগত সরকার সিএনজি আকারে ৫ মিলিয়ন আনার জন্য একটি কোম্পানিকে অনুমোদন দিয়েছে। কোম্পানিটি দৈনিক সর্বোচ্চ ৩ মিলিয়ন পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ দিয়েছে গাজীপুর এলাকার কয়েকটি কারখানায়। অন্যদিকে ভোলা থেকে দৈনিক ৮০ মিলিয়ন গ্যাস এলএনজি আকারে আনার প্রক্রিয়া শুরু করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এ জন্য বিইআরসির কাছে মূল্য নির্ধারণের জন্য প্রস্তাব প্রেরণ করা হয়। তাতে দেখা গেছে ৩০ টাকার বেশি পরিবহন খরচ পড়ছে, যা আবাসিকের গ্যাসের দামের প্রায় দ্বিগুণ।

দেশীয় গ্যাস ফিল্ডগুলোর মজুত ফুরিয়ে আসছে, এতে প্রতিনিয়ত কমে যাচ্ছে উৎপাদন এমন পরিস্থিতিতে ভোলার-বরিশাল-খুলনা পাইপলাইনকে যৌক্তিক মনে করেন অনেকে।

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

রামপালে ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণ: মামলা, গ্রেপ্তার ১

ফের আলোচনায় ভোলা-বরিশাল-খুলনা গ্যাস পাইপলাইন

প্রকাশঃ 12:48:04 pm, Tuesday, 28 April 2026

আবারও আলোচনায় এসেছে ভোলা-বরিশাল-খুলনা গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্প। শুরুর আগেই ফের রুট পরিবর্তন করে বিষয়টি এখন অগ্রাধিকার পাচ্ছে। দ্বীপ জেলা ভোলার গ্যাস সংক্রান্ত উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।

কয়েক বছর ধরেই ভোলা-বরিশাল-খুলনা পাইপলাইন নিয়ে কথা চলছিল। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ভোলা-বরিশাল অংশ অপরিবর্তিত রেখে ভোলা-বরিশাল-ঢাকা পাইপলাইন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। অনেক আগেই হয়েছে ভোলা-বরিশাল পাইপলাইনের প্রাক-সমীক্ষা। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বরিশাল-ঢাকা অংশের প্রাক-সমীক্ষার কাজ শুরু করেছিল।

পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মোঃ এরফানুল হক বলেছেন, গত সপ্তাহে ভোলা গ্যাস ফিল্ড নিয়ে একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হয়েছে। সেখানে শিল্পায়ন, পাইপলাইনসহ অনেকগুলো বিষয় তুলে ধরা হয়। প্রথমত ভোলা-বরিশাল-খুলনা পাইপলাইন স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এরপর যদি গ্যাস থাকে তাহলে বরিশাল-ঢাকা পাইপলাইন করা হবে। ওই পাইপলাইন করতে ৩ থেকে ৫ বছরের মতো সময় প্রয়োজন হবে। সেই সময়ের জন্য এলএনজি আকারে আনার বিষয়েও আলোচিত হয়েছে। এখানে সরকার কোন অবকাঠামো করবে না, বেসরকারি উদ্যোক্তা যদি স্বল্প সময়ের জন্য আগ্রহী হয় তাহলে বিবেচনা করা হবে।

ভোলা থেকে বরিশাল হয়ে খুলনা নিতে গেলে ১৫০ কিলোমিটার পাইপলাইন দরকার। বলা যায় কয়েক দশক ধরেই পাইপলাইন নিয়ে আলোচনা চলে আসছে। ১৫০ কিলোমিটার পাইপলাইনে ৭ থেকে ৮ হাজার কোটি টাকা খরচের প্রাক্কলন করা হয়। গ্যাস মজুত বেশি না থাকলে পাইপলাইনের খরচ উঠবে কিভাবে, অর্থায়নে নিশ্চয়তা চাইবে ঋণদাতারা। ২০০৪ সালে পাইপলাইন নির্মাণে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক সেই গ্যারান্টি চাইলে প্রকল্প ভেস্তে যায় তখন।

সিলেট অঞ্চলের পর দ্বীপ জেলা ভোলায় গ্যাসের বিশাল মজুত রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। এখন পর্যন্ত যতগুলো কূপ খনন করা হয়েছে সবগুলোতেই গ্যাসের অবস্থান নিশ্চিত করা হয়েছে। ভোলা ইস্ট থেকে ভোলা নর্থের দূরত্ব ৪০ কিলোমিটার সেখানে গ্যাস পাওয়া গেছে। হাতিয়া ট্র্যাপে যতগুলো কূপ করা হয়েছে, কোনটি মিস হয়নি, মুলাদি, বেগমগঞ্জ, সুন্দলপুর, ভোলা, সাঙ্গু সব জায়গায় গ্যাস পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যেই ভোলায় ৩টি গ্যাস ফিল্ড আবিষ্কৃত হয়েছে তাতে প্রায় ৮ টিসিএফ (ট্রিলিয়ন ঘনফুট) গ্যাস মজুত আশা করা হচ্ছে।

এ যাবৎ মোট ৯টি কূপ খনন করা হয়েছে। যা দিয়ে দৈনিক প্রায় ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা সম্ভব। ৯ কূপের মধ্যে ৫টি এখনই গ্যাস উৎপাদনে সক্ষম রয়েছে যেগুলো থেকে দৈনিক ১৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ দেওয়া সম্ভব। অপর ৪টি কূপের মধ্যে ১টির পাইপলাইন এবং ৩টি কূপের প্রসেস প্লান্ট রেডি হচ্ছে। ভোলায় আরও ১০টি কূপ খননের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বাপেক্স।

ভোলায় গ্যাসের চাহিদা না থাকায় দৈনিক মাত্র ৮০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা হচ্ছে। আবার পাইপলাইন না থাকায় জাতীয় গ্রিডে দেওয়া যাচ্ছে না। বিগত সরকার সিএনজি আকারে ৫ মিলিয়ন আনার জন্য একটি কোম্পানিকে অনুমোদন দিয়েছে। কোম্পানিটি দৈনিক সর্বোচ্চ ৩ মিলিয়ন পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ দিয়েছে গাজীপুর এলাকার কয়েকটি কারখানায়। অন্যদিকে ভোলা থেকে দৈনিক ৮০ মিলিয়ন গ্যাস এলএনজি আকারে আনার প্রক্রিয়া শুরু করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এ জন্য বিইআরসির কাছে মূল্য নির্ধারণের জন্য প্রস্তাব প্রেরণ করা হয়। তাতে দেখা গেছে ৩০ টাকার বেশি পরিবহন খরচ পড়ছে, যা আবাসিকের গ্যাসের দামের প্রায় দ্বিগুণ।

দেশীয় গ্যাস ফিল্ডগুলোর মজুত ফুরিয়ে আসছে, এতে প্রতিনিয়ত কমে যাচ্ছে উৎপাদন এমন পরিস্থিতিতে ভোলার-বরিশাল-খুলনা পাইপলাইনকে যৌক্তিক মনে করেন অনেকে।