Dhaka 3:47 pm, Friday, 24 April 2026

পুলিশের ইউনিফর্ম পরিবর্তন প্রক্রিয়া বন্ধের আইনি নোটিশ

বাংলাদেশ পুলিশের ইউনিফর্ম পুনরায় পরিবর্তনের উদ্যোগ বন্ধসহ এ বিষয়ে গৃহীত সব ধরনের প্রশাসনিক কার্যক্রম স্থগিতের অনুরোধ জানিয়ে সরকার সংশ্লিষ্টদের আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব ছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ও অতিরিক্ত ডিআইজিকে (লজিস্টিকস) এই নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) নোটিশ প্রদানকারীদের অন্যতম আইনজীবী মো. শাহিনুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে আইনজীবী শাহিনুজ্জামানসহ সুপ্রিম কোর্টের ৩ আইনজীবী- ড. সৈয়দা নাসরিন, জান্নাতুল ইসলাম পিয়া ও সালমা কুলসুম সংশ্লিষ্টদের এই নোটিশ প্রেরণ করেন।

আইনজীবী শাহিনুজ্জামান বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অবস্থার প্রভাব আমাদের দেশেও পড়েছে। তাই এখনই পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের নামে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ের সিদ্ধান্ত থেকে সরকারের ফিরে আসা উচিত। আমরা নোটিশে পূর্বের এবং বর্তমান উভয় পোশাক ব্যবহারের নির্দেশনা চেয়েছি। পরবর্তীতে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি হলে তখন না হয় যেকোনো একটি পোশাকে ফিরে আসা যাবে।

এ বিষয়ে নোটিশে বলা হয়েছে, অযৌক্তিক ও জনস্বার্থবিরোধীভাবে রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যয় করে বারবার ইউনিফর্ম পরিবর্তনের উদ্যোগ জাতীয় কোষাগারের ওপর অপ্রয়োজনীয় চাপ সৃষ্টি করছে। ২০২৫ সালে পুলিশ ড্রেস রুলস সংশোধন করে ইউনিফর্ম পরিবর্তন করা হয়েছিল এবং এতে প্রায় ৭৬ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। এখন আবার নতুন করে ইউনিফর্মের রং ও নকশা পরিবর্তনের উদ্যোগ নেয়া হলে তা প্রশাসনিক অস্থিরতা, পরিকল্পনাহীনতা ও রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয়ের শামিল হবে।

নোটিশদাতারা দাবি করেন, ইউনিফর্মের রং বদল করলেই পুলিশ বাহিনীতে কাঙ্ক্ষিত সংস্কার আসে না, বরং পেশাদারিত্ব, মানবাধিকার চর্চা, জবাবদিহিতা, প্রশিক্ষণ ও সেবার মানোন্নয়নই প্রকৃত সংস্কারের পথ। তারা আরও বলেন, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক চাপ, মূল্যস্ফীতি, স্বাস্থ্যখাতের সংকট ও জনদুর্ভোগের সময়ে পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের মতো বিষয়ে নতুন করে ব্যয় অগ্রাধিকারভিত্তিক সিদ্ধান্ত হতে পারে না। এ ধরনের পদক্ষেপ জনমনে রাষ্ট্রীয় ব্যয় ব্যবস্থাপনা নিয়ে নেতিবাচক বার্তা দেয়।

এছাড়াও নোটিশে ৫ দফা দাবি জানানো হয়েছে। দাবিগুলো হলো- ইউনিফর্ম পরিবর্তনসংক্রান্ত সব প্রস্তাব সংশোধন, অনুমোদন, ক্রয় ও বাস্তবায়ন কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ করা; ইতোমধ্যে কত অর্থ ব্যয় হয়েছে তার পূর্ণ হিসাব প্রকাশ করা; নতুন করে কোনো সরকারি অর্থ ব্যয় না করা এবং প্রয়োজন হলে ধাপে ধাপে বিদ্যমান মজুদ পোশাক ব্যবহার নিশ্চিত করা।

নোটিশ পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হলে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগে জনস্বার্থে রিট আবেদন করা হবে বলেও এতে উল্লেখ করা হয়েছে।

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

পুলিশের ইউনিফর্ম পরিবর্তন প্রক্রিয়া বন্ধের আইনি নোটিশ

প্রকাশঃ 04:00:39 pm, Thursday, 23 April 2026

বাংলাদেশ পুলিশের ইউনিফর্ম পুনরায় পরিবর্তনের উদ্যোগ বন্ধসহ এ বিষয়ে গৃহীত সব ধরনের প্রশাসনিক কার্যক্রম স্থগিতের অনুরোধ জানিয়ে সরকার সংশ্লিষ্টদের আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব ছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ও অতিরিক্ত ডিআইজিকে (লজিস্টিকস) এই নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) নোটিশ প্রদানকারীদের অন্যতম আইনজীবী মো. শাহিনুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে আইনজীবী শাহিনুজ্জামানসহ সুপ্রিম কোর্টের ৩ আইনজীবী- ড. সৈয়দা নাসরিন, জান্নাতুল ইসলাম পিয়া ও সালমা কুলসুম সংশ্লিষ্টদের এই নোটিশ প্রেরণ করেন।

আইনজীবী শাহিনুজ্জামান বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অবস্থার প্রভাব আমাদের দেশেও পড়েছে। তাই এখনই পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের নামে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ের সিদ্ধান্ত থেকে সরকারের ফিরে আসা উচিত। আমরা নোটিশে পূর্বের এবং বর্তমান উভয় পোশাক ব্যবহারের নির্দেশনা চেয়েছি। পরবর্তীতে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি হলে তখন না হয় যেকোনো একটি পোশাকে ফিরে আসা যাবে।

এ বিষয়ে নোটিশে বলা হয়েছে, অযৌক্তিক ও জনস্বার্থবিরোধীভাবে রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যয় করে বারবার ইউনিফর্ম পরিবর্তনের উদ্যোগ জাতীয় কোষাগারের ওপর অপ্রয়োজনীয় চাপ সৃষ্টি করছে। ২০২৫ সালে পুলিশ ড্রেস রুলস সংশোধন করে ইউনিফর্ম পরিবর্তন করা হয়েছিল এবং এতে প্রায় ৭৬ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। এখন আবার নতুন করে ইউনিফর্মের রং ও নকশা পরিবর্তনের উদ্যোগ নেয়া হলে তা প্রশাসনিক অস্থিরতা, পরিকল্পনাহীনতা ও রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয়ের শামিল হবে।

নোটিশদাতারা দাবি করেন, ইউনিফর্মের রং বদল করলেই পুলিশ বাহিনীতে কাঙ্ক্ষিত সংস্কার আসে না, বরং পেশাদারিত্ব, মানবাধিকার চর্চা, জবাবদিহিতা, প্রশিক্ষণ ও সেবার মানোন্নয়নই প্রকৃত সংস্কারের পথ। তারা আরও বলেন, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক চাপ, মূল্যস্ফীতি, স্বাস্থ্যখাতের সংকট ও জনদুর্ভোগের সময়ে পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের মতো বিষয়ে নতুন করে ব্যয় অগ্রাধিকারভিত্তিক সিদ্ধান্ত হতে পারে না। এ ধরনের পদক্ষেপ জনমনে রাষ্ট্রীয় ব্যয় ব্যবস্থাপনা নিয়ে নেতিবাচক বার্তা দেয়।

এছাড়াও নোটিশে ৫ দফা দাবি জানানো হয়েছে। দাবিগুলো হলো- ইউনিফর্ম পরিবর্তনসংক্রান্ত সব প্রস্তাব সংশোধন, অনুমোদন, ক্রয় ও বাস্তবায়ন কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ করা; ইতোমধ্যে কত অর্থ ব্যয় হয়েছে তার পূর্ণ হিসাব প্রকাশ করা; নতুন করে কোনো সরকারি অর্থ ব্যয় না করা এবং প্রয়োজন হলে ধাপে ধাপে বিদ্যমান মজুদ পোশাক ব্যবহার নিশ্চিত করা।

নোটিশ পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হলে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগে জনস্বার্থে রিট আবেদন করা হবে বলেও এতে উল্লেখ করা হয়েছে।