Dhaka 1:41 am, Sunday, 28 June 2026

দুর্নীতি-অনিয়মে রামপালের প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফরহাদ আলী স্টান্ড রিলিজ

বাগেরহাট প্রতিনিধি
বাগেরহাটের রামপালে আলোচিত প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ফরহাদ আলী অবশেষে তাৎকানিকভাবে বদলীর আদেশ হয়েছে। দুর্নীতি আর অনিয়মে অকুণ্ঠ নিমজ্জিত ওই কর্মকর্তার দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে ঝিনাইদহ জেলার কোটচাঁদপুর উপজেলায় বদলী করা হয়েছে। বিভিন্ন খাত থেকে মোটা অংকের টাকা লুটপাট ও শিক্ষকদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণসহ স্বেচ্ছাচারিতার কারণে শিক্ষা ব্যাবস্থায় নৈরাজ্য সৃষ্টি করায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড় সৃষ্টি হয়। তদন্তের সার্থে তাকে স্টান্ড রিলিজ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

জানা গেছে, শিক্ষা কর্তা ফরহাদ আলী কর্মস্থলে যোগদানের পর থেকেই শুরু করেন স্বেচ্ছাচারিতা। তার এমন নানাবিধ কর্মকান্ডে অতিষ্ঠ হয়ে প্রতিকার ও শাস্তির দাবি জানিয়ে একটি দরখাস্ত করেছিলেন বাগেরহাট জেলা শিক্ষা অফিস বরাবর। এই ঘটনায় ইতিমধ্যে তদন্তও শুরু করেছেন বাগেরহাট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। শিক্ষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার ১২৭ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে অধিকাংশ বিদ্যালয়ই প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণের সাথে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের অন্তঃকোন্দল প্রভাব ফেলেছে শিক্ষাঙ্গনে। এতে করে শিক্ষকদের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।

তিনি ঘুষ, দূর্নীতি ও ভয়ভীতিসহ শিক্ষকদের রাখেন নানাবিধ আতংকের মধ্যে। তার কথার অবাধ্য হলেই শাস্তি হিসেবে পেতে হয় শোকজ লেটার। যা পরে রূপ নেয় বকশিসে। থেমে যায় ওই শোকজ লেটার। এভাবেই ব্যাপক পরিচিত পান রামপাল উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ফরহাদ আলী।

মূলতঃ রামপালের কয়েকটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিক ও শিক্ষকা সহ বেশ কয়েকজন শিক্ষক তার দুর্নীতিতে সহায়তা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এঁরাই বিভিন্ন তথ্য সরবরাহ ও সহায়তার মাধ্যমে একটা সিন্ডিকেট তৈরি করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

রামপাল উপজেলা শিক্ষক প্রতিনিধিরা জানান, রামপালে শিক্ষার মান উন্নয়নে শিক্ষা কর্মকর্তা ও শিক্ষকদের এই অন্তঃকোন্দল প্রভাব ফেলেছে শিক্ষাঙ্গনেও। ক্ষোভ আর আতংকে সকল শিক্ষকরা নাজেহাল। তারা দূর্নীতিবাজ এই শিক্ষা অফিসারকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. ফরহাদ আলী সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি মানুষিকভাবে খুবই দূর্বল। পারিবারিক নানা সমস্যায় আমি চিন্তিত। আমি দায়িত্ব নিয়ে আমার দায়িত্ব পালন করি। অর্থ আত্মসাৎ বা শিক্ষকদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ এটা আমি কখনোই করিনি। আমি চেষ্টা করেছি শিক্ষাঙ্গনে আরো উন্নতি করার। সেক্ষেত্রে অনেক সময় আমি হার্ড হয়েছি, হয়তো তখন কেউ ক্ষুব্ধ হতে পারে। তবুও আমার কর্মকান্ডে কেউ কষ্ট বা ব্যথিত হলে আমি ক্ষমা চাচ্ছি।

এবিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. আমিনুল ইসলাম জানান, একটি বেনামী দরখাস্ত পেয়েছি। সেই বিষয়ে আমরা তদন্ত শুরু করেছি। শিক্ষাঙ্গনে কোনো ধরনের অনিয়ম ও দূর্নীতির সুযোগ নেই। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

রামপালে ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণ: মামলা, গ্রেপ্তার ১

দুর্নীতি-অনিয়মে রামপালের প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফরহাদ আলী স্টান্ড রিলিজ

প্রকাশঃ 01:27:53 pm, Tuesday, 21 April 2026

বাগেরহাট প্রতিনিধি
বাগেরহাটের রামপালে আলোচিত প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ফরহাদ আলী অবশেষে তাৎকানিকভাবে বদলীর আদেশ হয়েছে। দুর্নীতি আর অনিয়মে অকুণ্ঠ নিমজ্জিত ওই কর্মকর্তার দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে ঝিনাইদহ জেলার কোটচাঁদপুর উপজেলায় বদলী করা হয়েছে। বিভিন্ন খাত থেকে মোটা অংকের টাকা লুটপাট ও শিক্ষকদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণসহ স্বেচ্ছাচারিতার কারণে শিক্ষা ব্যাবস্থায় নৈরাজ্য সৃষ্টি করায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড় সৃষ্টি হয়। তদন্তের সার্থে তাকে স্টান্ড রিলিজ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

জানা গেছে, শিক্ষা কর্তা ফরহাদ আলী কর্মস্থলে যোগদানের পর থেকেই শুরু করেন স্বেচ্ছাচারিতা। তার এমন নানাবিধ কর্মকান্ডে অতিষ্ঠ হয়ে প্রতিকার ও শাস্তির দাবি জানিয়ে একটি দরখাস্ত করেছিলেন বাগেরহাট জেলা শিক্ষা অফিস বরাবর। এই ঘটনায় ইতিমধ্যে তদন্তও শুরু করেছেন বাগেরহাট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। শিক্ষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার ১২৭ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে অধিকাংশ বিদ্যালয়ই প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণের সাথে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের অন্তঃকোন্দল প্রভাব ফেলেছে শিক্ষাঙ্গনে। এতে করে শিক্ষকদের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।

তিনি ঘুষ, দূর্নীতি ও ভয়ভীতিসহ শিক্ষকদের রাখেন নানাবিধ আতংকের মধ্যে। তার কথার অবাধ্য হলেই শাস্তি হিসেবে পেতে হয় শোকজ লেটার। যা পরে রূপ নেয় বকশিসে। থেমে যায় ওই শোকজ লেটার। এভাবেই ব্যাপক পরিচিত পান রামপাল উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ফরহাদ আলী।

মূলতঃ রামপালের কয়েকটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিক ও শিক্ষকা সহ বেশ কয়েকজন শিক্ষক তার দুর্নীতিতে সহায়তা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এঁরাই বিভিন্ন তথ্য সরবরাহ ও সহায়তার মাধ্যমে একটা সিন্ডিকেট তৈরি করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

রামপাল উপজেলা শিক্ষক প্রতিনিধিরা জানান, রামপালে শিক্ষার মান উন্নয়নে শিক্ষা কর্মকর্তা ও শিক্ষকদের এই অন্তঃকোন্দল প্রভাব ফেলেছে শিক্ষাঙ্গনেও। ক্ষোভ আর আতংকে সকল শিক্ষকরা নাজেহাল। তারা দূর্নীতিবাজ এই শিক্ষা অফিসারকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. ফরহাদ আলী সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি মানুষিকভাবে খুবই দূর্বল। পারিবারিক নানা সমস্যায় আমি চিন্তিত। আমি দায়িত্ব নিয়ে আমার দায়িত্ব পালন করি। অর্থ আত্মসাৎ বা শিক্ষকদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ এটা আমি কখনোই করিনি। আমি চেষ্টা করেছি শিক্ষাঙ্গনে আরো উন্নতি করার। সেক্ষেত্রে অনেক সময় আমি হার্ড হয়েছি, হয়তো তখন কেউ ক্ষুব্ধ হতে পারে। তবুও আমার কর্মকান্ডে কেউ কষ্ট বা ব্যথিত হলে আমি ক্ষমা চাচ্ছি।

এবিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. আমিনুল ইসলাম জানান, একটি বেনামী দরখাস্ত পেয়েছি। সেই বিষয়ে আমরা তদন্ত শুরু করেছি। শিক্ষাঙ্গনে কোনো ধরনের অনিয়ম ও দূর্নীতির সুযোগ নেই। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।