Dhaka 11:08 am, Sunday, 28 June 2026

সৎ মেয়েকে ধর্ষণের দায়ে বাবার যাবজ্জীবন

রাজধানীর হাতিরঝিল এলাকায় সৎ মেয়েকে ধর্ষণের দায়ে বাবা আনোয়ার হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও তিন মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

বুধবার (১৬ এপ্রিল) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭ এর বিচারক সাবেরা সুলতানা খানমের আদালত এ রায় দেন। রায় ঘোষণার আগে আনোয়ার হোসেনকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে আবার কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

জানা যায়, ভিকটিমের মাকে তালাক দেন তার বাবা। এরপর ২০১৫ সালে দ্বিতীয় বিয়ে করেন আনোয়ার হোসেনকে। দুই সন্তানকে নিয়ে গ্রামের বাড়ি মাদারীপুরে বাবার বাড়িতে থাকতেন ভিকটিমের মা। আনোয়ার হোসেন একা সংসার চালাতে পারছিলেন না। ভিকটিমের মা ঢাকায় এসে গৃহকর্মীর কাজ শুরু করেন। তার দ্বিতীয় সংসারে ছেলের জন্ম হয়। তাকে দেখাশোনার কেউ ছিল না। আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে আলাপ করে ভিকটিমকে ঢাকায় নিয়ে আসেন তার মা। হঠাৎ ভিকটিমের মাকে আনোয়ার হোসেন জানিয়ে দেন সংসারের খরচ দিতে পারবে না। সন্তানদের কথা চিন্তা করে আনোয়ার হোসেনকে ২০২২ সালেন ১৬ সেপ্টেম্বর তালাক দেন ভিকটিমের মা। ৪ আগস্ট বাসায় এসে আনোয়ার হোসেন ভয় দেখিয়ে তার মেয়েকে ধর্ষণ করেন, যা ভিকটিম তার মাকে জানায়।

এ ঘটনায় ভিকটিমের মা ২০ সেপ্টেম্বর আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে হাতিরঝিল থানায় ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত করে ২০২৩ সালের ১ এপ্রিল হাতিরঝিল থানার সাব-ইন্সপেক্টর মিজানুর রহমান আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০২৩ সালের ২০ আগস্ট আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। মামলার বিচার চলাকালে আদালত ৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

মেসি জাদুতে জর্ডানকে উড়িয়ে শতভাগ জয়ে গ্রুপসেরা আর্জেন্টিনা

সৎ মেয়েকে ধর্ষণের দায়ে বাবার যাবজ্জীবন

প্রকাশঃ 08:10:34 am, Wednesday, 16 April 2025
রাজধানীর হাতিরঝিল এলাকায় সৎ মেয়েকে ধর্ষণের দায়ে বাবা আনোয়ার হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও তিন মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

বুধবার (১৬ এপ্রিল) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭ এর বিচারক সাবেরা সুলতানা খানমের আদালত এ রায় দেন। রায় ঘোষণার আগে আনোয়ার হোসেনকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে আবার কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

জানা যায়, ভিকটিমের মাকে তালাক দেন তার বাবা। এরপর ২০১৫ সালে দ্বিতীয় বিয়ে করেন আনোয়ার হোসেনকে। দুই সন্তানকে নিয়ে গ্রামের বাড়ি মাদারীপুরে বাবার বাড়িতে থাকতেন ভিকটিমের মা। আনোয়ার হোসেন একা সংসার চালাতে পারছিলেন না। ভিকটিমের মা ঢাকায় এসে গৃহকর্মীর কাজ শুরু করেন। তার দ্বিতীয় সংসারে ছেলের জন্ম হয়। তাকে দেখাশোনার কেউ ছিল না। আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে আলাপ করে ভিকটিমকে ঢাকায় নিয়ে আসেন তার মা। হঠাৎ ভিকটিমের মাকে আনোয়ার হোসেন জানিয়ে দেন সংসারের খরচ দিতে পারবে না। সন্তানদের কথা চিন্তা করে আনোয়ার হোসেনকে ২০২২ সালেন ১৬ সেপ্টেম্বর তালাক দেন ভিকটিমের মা। ৪ আগস্ট বাসায় এসে আনোয়ার হোসেন ভয় দেখিয়ে তার মেয়েকে ধর্ষণ করেন, যা ভিকটিম তার মাকে জানায়।

এ ঘটনায় ভিকটিমের মা ২০ সেপ্টেম্বর আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে হাতিরঝিল থানায় ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত করে ২০২৩ সালের ১ এপ্রিল হাতিরঝিল থানার সাব-ইন্সপেক্টর মিজানুর রহমান আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০২৩ সালের ২০ আগস্ট আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। মামলার বিচার চলাকালে আদালত ৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।