বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় এক শিক্ষার্থীকে প্রাণনাশের চেষ্টায় গুলিবিদ্ধ করার অভিযোগে দায়ের করা এক মামলায় গত সোমবার (০৭ এপ্রিল) রাজধানী ঢাকার একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে তুরিনের গ্রেপ্তারের পরপরই এবার প্রকাশ্যে বেরিয়ে এলো নতুন চাঞ্চল্যকর এক তথ্য।
জানা যায়, তুরিনের গ্রেপ্তারের পরদিন একদল ব্যক্তি নিয়ে তার ভাই শিশির আহমেদ শাহনেওয়াজ রাজধানীর উত্তরার বাড়ি ‘দখলের চেষ্টা’ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
উত্তরার ৩ নম্বর সেক্টরের একটি ছয়তলা বাড়িকে কেন্দ্র করে আইনজীবী তুরিন আফরোজের পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিনের সম্পত্তি বিরোধ নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। মঙ্গলবার দুপুরে এই বাড়িতে প্রবেশ করে নিজেকে মালিক দাবি করে বাসিন্দাদের বের করে দেওয়ার চেষ্টা করেন তুরিন আফরোজের ভাই শিশির আহমেদ শাহনেওয়াজ—এমন অভিযোগ করেছেন তুরিনের কন্যা তেজস্বী তুরিন সুমেধা।
তেজস্বীর অভিযোগ, শিশির কমপক্ষে ১০ জন লোক নিয়ে এসে বাড়ির নিরাপত্তা কর্মীকে মারধর করেন এবং নামফলক খুলে ফেলেন। এ সময় তিনি নিজে বাসায় না থাকলেও দ্রুত ফিরে এসে বিষয়টি থানা পুলিশকে জানান। পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং শিশির দলবল নিয়ে সেখান থেকে সরে যান।
ঘটনাস্থলে যাওয়া ঢাকা মহানগর পুলিশের উত্তরা জোনের সহকারী কমিশনার সাদ্দাম হোসাইন বলেন, “বাড়িটি নিয়ে পারিবারিক মামলা চলমান রয়েছে। শিশির আহমেদ বাসার মালিকানা দাবি করলেও তিনি যথাযথ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। আমরা তাকে জানিয়েছি, এ ধরনের বিরোধ আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হবে।”
এ ঘটনায় পুলিশ তুরিনের ১৭ বছর বয়সী কন্যা তেজস্বীকে আশ্বস্ত করেছে এবং যেকোনো সমস্যায় সঙ্গে সঙ্গে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, আগের দিন রাতে ওই বাড়ি থেকেই তুরিন আফরোজকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বর্তমানে তিনি চার দিনের রিমান্ডে রয়েছেন।
সম্পত্তি বিরোধের বিষয়ে তেজস্বী বলেন, “আমার নানার দুটি বাড়ি ছিল—একটি হাতিরপুলে, অন্যটি উত্তরায়। হাতিরপুলের বাড়িটি শিশির মামাকে দেওয়া হয়েছিল এবং উত্তরার বাড়িটি আমার মাকে। এখন তারা জাল কাগজ দেখিয়ে এই বাড়ির মালিকানা দাবি করছেন।”
এই বাড়ি সংক্রান্ত মামলা ২০১৭ সাল থেকে আদালতে বিচারাধীন। ওই বছরের ১১ মে তুরিন আফরোজ ঢাকার দেওয়ানি আদালতে তার সৎ মা শামসুন্নাহার ও সৎ ভাই শিশির আহমেদ শাহনেওয়াজকে বিবাদী করে মামলাটি করেন। এক বছর পর আদালত বাড়িটি নিয়ে স্থিতাবস্থা জারি করে।
অপরদিকে শিশির আদালতে দাবি করেন, তাদের বাবা তসলিম উদ্দিন এই বাড়ি তুরিনকে দেননি; বরং তার মা শামসুন্নাহার তাকে সম্পত্তিটি দান করেন এবং তিনি ঋণ নিয়ে এই বাড়ি নির্মাণ করেন।
শিশির আহমেদ শাহনেওয়াজের পক্ষ থেকে এখনও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
দেশের তথ্য ডেস্ক 



















