Dhaka 4:38 am, Sunday, 28 June 2026

’নিঃশর্ত ক্ষমা চাইলেন ফজলুর রহমান’

নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ফজলুর রহমান। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ও ট্রাইব্যুনালের বিচার ব্যবস্থা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করার ঘটনায় এ ক্ষমা চেয়েছেন তিনি।

বুধবার (৩ ডিসেম্বর) এ তথ্য জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।

এর আগে রোববার (৩০ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ও ট্রাইব্যুনালের বিচার ব্যবস্থা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করায় আদালত অবমাননার অভিযোগে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ফজলুর রহমানকে শোকজ করা হয়। একইসঙ্গে আগামী ৮ ডিসেম্বর তাকে তার প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনজীবী সনদ নিয়ে ট্রাইব্যুনালে সশরীরে হাজির হতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

প্রসিকিউশনের আবেদনে চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ আদেশ দিয়েছিলেন।

তাজুল ইসলাম বলেন, ‘ফজলুর রহমান আলাদা আইনজীবী নিয়োগ করে এখানে পিটিশন পাঠিয়েছেন। আনকন্ডিশনাল এপলজি দিয়ে আদালতের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। সেই পিটিশন হয়তো ৮ তারিখে শুনানি হবে। ফজলুর রহমান বলেছেন, যা কিছু বলেছেন তিনি ভুলে বলেছেন। তিনি আদালতে মার্সি চান।’

রোববারের শুনানির শুরুতেই ফজলুর রহমানের পরিচয় জানতে চান ট্রাইব্যুনাল। তখন প্রসিকিউটর তার রাজনৈতিক পরিচয় তুলে ধরেন। তিনি সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী, সেই পরিচয়ও দেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামীম।

একপর্যায়ে ট্রাইব্যুনাল বলেন, ‘উনি কি অ্যাডভোকেট নাকি? ওকালতির সার্টিফিকেট আছে? কোর্ট-কাচারিতে আসছেন কোনো দিন? এলে এমন কথা কোনো দিনও বলতেন না।’

তখন প্রসিকিউটর এমএইচ তামীম বলেন, ‘উনি (ফজলুর রহমান) সবসময় একটু বাড়িয়ে বলেন। উনি নাকি ৪৪ বছর ধরে আইন পেশায় রয়েছেন। কিন্তু আমরা ঘাঁটাঘাঁটি করে দেখেছি তিনি ১৯৯২ সাল থেকে প্র্যাকটিস করছেন। সেই হিসাবে ৩৩ বছর।’

তখন ট্রাইব্যুনাল প্রশ্ন তোলেন, উনি কি আসলেই প্র্যাকটিস করেন? প্র্যাকটিস করলে তো এমন কথা বলতে পারেন না।’

ট্রাইব্যুনাল আরও বলেন, ‘আইনের সমালোচনা করা যাবে। রায়ের সমালোচনা করা যাবে। বিচারকেরও সমালোচনা করা যাবে। কিন্তু রায় মানি না, এটা বলা শুধু আদালত অবমাননাই নয়, রাষ্ট্রদ্রোহিতাও।’

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

রামপালে ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণ: মামলা, গ্রেপ্তার ১

’নিঃশর্ত ক্ষমা চাইলেন ফজলুর রহমান’

প্রকাশঃ 10:42:41 am, Wednesday, 3 December 2025

নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ফজলুর রহমান। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ও ট্রাইব্যুনালের বিচার ব্যবস্থা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করার ঘটনায় এ ক্ষমা চেয়েছেন তিনি।

বুধবার (৩ ডিসেম্বর) এ তথ্য জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।

এর আগে রোববার (৩০ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ও ট্রাইব্যুনালের বিচার ব্যবস্থা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করায় আদালত অবমাননার অভিযোগে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ফজলুর রহমানকে শোকজ করা হয়। একইসঙ্গে আগামী ৮ ডিসেম্বর তাকে তার প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনজীবী সনদ নিয়ে ট্রাইব্যুনালে সশরীরে হাজির হতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

প্রসিকিউশনের আবেদনে চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ আদেশ দিয়েছিলেন।

তাজুল ইসলাম বলেন, ‘ফজলুর রহমান আলাদা আইনজীবী নিয়োগ করে এখানে পিটিশন পাঠিয়েছেন। আনকন্ডিশনাল এপলজি দিয়ে আদালতের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। সেই পিটিশন হয়তো ৮ তারিখে শুনানি হবে। ফজলুর রহমান বলেছেন, যা কিছু বলেছেন তিনি ভুলে বলেছেন। তিনি আদালতে মার্সি চান।’

রোববারের শুনানির শুরুতেই ফজলুর রহমানের পরিচয় জানতে চান ট্রাইব্যুনাল। তখন প্রসিকিউটর তার রাজনৈতিক পরিচয় তুলে ধরেন। তিনি সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী, সেই পরিচয়ও দেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামীম।

একপর্যায়ে ট্রাইব্যুনাল বলেন, ‘উনি কি অ্যাডভোকেট নাকি? ওকালতির সার্টিফিকেট আছে? কোর্ট-কাচারিতে আসছেন কোনো দিন? এলে এমন কথা কোনো দিনও বলতেন না।’

তখন প্রসিকিউটর এমএইচ তামীম বলেন, ‘উনি (ফজলুর রহমান) সবসময় একটু বাড়িয়ে বলেন। উনি নাকি ৪৪ বছর ধরে আইন পেশায় রয়েছেন। কিন্তু আমরা ঘাঁটাঘাঁটি করে দেখেছি তিনি ১৯৯২ সাল থেকে প্র্যাকটিস করছেন। সেই হিসাবে ৩৩ বছর।’

তখন ট্রাইব্যুনাল প্রশ্ন তোলেন, উনি কি আসলেই প্র্যাকটিস করেন? প্র্যাকটিস করলে তো এমন কথা বলতে পারেন না।’

ট্রাইব্যুনাল আরও বলেন, ‘আইনের সমালোচনা করা যাবে। রায়ের সমালোচনা করা যাবে। বিচারকেরও সমালোচনা করা যাবে। কিন্তু রায় মানি না, এটা বলা শুধু আদালত অবমাননাই নয়, রাষ্ট্রদ্রোহিতাও।’