Dhaka 1:40 am, Sunday, 28 June 2026

’’হুমকির মুখে তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জাতীয় গ্রিড লাইন’’

মেঘনা নদীর আশুগঞ্জ তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র সংলগ্ন এলাকা থেকে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট অবৈধভাবে বালি উত্তোলন করছে। প্রতিদিন ১০-১২টি লোড ড্রেজারের মাধ্যমে কয়েক লাখ ঘনফুট বালি উত্তোলন করে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে। এতে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে সিন্ডিকেট চক্র।

বালি উত্তোলনের ফলে হুমকির মুখে পড়েছে দেশের অন্যতম বৃহৎ বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র আশুগঞ্জ তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র ও ভৈরব-আশুগঞ্জ জাতীয় গ্রিড লাইনের বৈদ্যুতিক টাওয়ার।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এভাবে বালি উত্তোলন অব্যাহত থাকলে যে কোনো সময় বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জাতীয় গ্রিড লাইনের দুটি টাওয়ার নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। এতে আশুগঞ্জ থেকে উত্তরবঙ্গে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে শিল্প-কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি দেশ মারাত্মক অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়বে।

অন্যদিকে, মেঘনা নদীর ওপর নির্মিত ৩টি সড়ক ও রেলসেতু ও চর সোনারামপুর গ্রামের শত শত পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হওয়ার শঙ্কায় রয়েছে। তাছাড়া ৩টি সেতুও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আশুগঞ্জের চর সোনারামপুর গ্রামের বাসিন্দারা বলেন, আমাদের গ্রামের কাছ থেকে প্রতিদিন বালি তোলা হচ্ছে। এতে আমরা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি। দ্রুত বালি উত্তোলন বন্ধ করা হোক।

আশুগঞ্জ উপজেলা বিদ্যুৎ উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী আবু জাফর জানান, জাতীয় গ্রিড লাইনের (টাওয়ারের) ও তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছাকাছি নদী থেকে বালি উত্তোলন করা হচ্ছে। ফলে নদী ভাঙনে জাতীয় গ্রিড লাইনের বৈদ্যুতিক টাওয়ার ও বিদ্যুৎকেন্দ্র নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। টাওয়ারটি নদীগর্ভে বিলীন হলে উত্তরবঙ্গসহ জাতীয় গ্রিড লাইনে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে পড়বে।

ভৈরব বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্রের প্রকৌশলী মো. ইকবাল হোসেন বলেন, আশুগঞ্জ বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে আমরা বিদ্যুৎ পাই। কেন্দ্রটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে ভৈরবসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হবে।

আশুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাফে মোহাম্মদ ছড়া জানান, মেঘনা নদীতে জাতীয় গ্রিড লাইনের কাছ থেকে বালি উত্তোলনের বিষয়ে কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

রামপালে ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণ: মামলা, গ্রেপ্তার ১

’’হুমকির মুখে তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জাতীয় গ্রিড লাইন’’

প্রকাশঃ 05:31:54 am, Monday, 24 November 2025

মেঘনা নদীর আশুগঞ্জ তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র সংলগ্ন এলাকা থেকে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট অবৈধভাবে বালি উত্তোলন করছে। প্রতিদিন ১০-১২টি লোড ড্রেজারের মাধ্যমে কয়েক লাখ ঘনফুট বালি উত্তোলন করে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে। এতে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে সিন্ডিকেট চক্র।

বালি উত্তোলনের ফলে হুমকির মুখে পড়েছে দেশের অন্যতম বৃহৎ বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র আশুগঞ্জ তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র ও ভৈরব-আশুগঞ্জ জাতীয় গ্রিড লাইনের বৈদ্যুতিক টাওয়ার।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এভাবে বালি উত্তোলন অব্যাহত থাকলে যে কোনো সময় বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জাতীয় গ্রিড লাইনের দুটি টাওয়ার নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। এতে আশুগঞ্জ থেকে উত্তরবঙ্গে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে শিল্প-কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি দেশ মারাত্মক অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়বে।

অন্যদিকে, মেঘনা নদীর ওপর নির্মিত ৩টি সড়ক ও রেলসেতু ও চর সোনারামপুর গ্রামের শত শত পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হওয়ার শঙ্কায় রয়েছে। তাছাড়া ৩টি সেতুও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আশুগঞ্জের চর সোনারামপুর গ্রামের বাসিন্দারা বলেন, আমাদের গ্রামের কাছ থেকে প্রতিদিন বালি তোলা হচ্ছে। এতে আমরা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি। দ্রুত বালি উত্তোলন বন্ধ করা হোক।

আশুগঞ্জ উপজেলা বিদ্যুৎ উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী আবু জাফর জানান, জাতীয় গ্রিড লাইনের (টাওয়ারের) ও তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছাকাছি নদী থেকে বালি উত্তোলন করা হচ্ছে। ফলে নদী ভাঙনে জাতীয় গ্রিড লাইনের বৈদ্যুতিক টাওয়ার ও বিদ্যুৎকেন্দ্র নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। টাওয়ারটি নদীগর্ভে বিলীন হলে উত্তরবঙ্গসহ জাতীয় গ্রিড লাইনে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে পড়বে।

ভৈরব বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্রের প্রকৌশলী মো. ইকবাল হোসেন বলেন, আশুগঞ্জ বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে আমরা বিদ্যুৎ পাই। কেন্দ্রটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে ভৈরবসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হবে।

আশুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাফে মোহাম্মদ ছড়া জানান, মেঘনা নদীতে জাতীয় গ্রিড লাইনের কাছ থেকে বালি উত্তোলনের বিষয়ে কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।