Dhaka 2:47 am, Sunday, 28 June 2026

ইরানে আরেকজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর, আতঙ্কে গুপ্তচররা

দেশের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির প্রমাণ পেলেই মৃত্যুদণ্ডের সাঁজা দেওয়া হচ্ছে ইরানে। বিশেষ করে ইসরায়েলের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে সম্প্রতি দেশটিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা ব্যপক ভাবে বেড়েছে। সর্বশেষ বাবাক শাহবাজি নামের এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।

বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

ইরান ও ইসরায়েলের সম্পর্ক বহু বছর ধরে বৈরী। মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাব বিস্তারের লড়াই, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক টানাপড়েন এবং আঞ্চলিক সংঘাতে বিপরীত অবস্থানের কারণে দুই দেশের মধ্যে চলছে এক অঘোষিত ছায়াযুদ্ধ। ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ এ সংঘাতের অন্যতম সক্রিয় পক্ষ। ইরানের অভিযোগ, তারা দেশটির ভেতরে নাশকতা, গুপ্তচরবৃত্তি এবং উচ্চপর্যায়ের হত্যাকাণ্ডে জড়িত।

রাষ্ট্রীয় প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বাবাক শাহবাজি পেশায় ছিলেন ঘর ঠান্ডা রাখার যন্ত্র স্থাপনকারী। এই কাজের সুযোগে তিনি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও সামরিক স্থাপনায় প্রবেশাধিকার পান। অভিযোগে বলা হয়েছে, এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি সার্ভার রুম, সামরিক কেন্দ্র এবং নিরাপত্তাসংক্রান্ত স্থাপনা থেকে গোপন তথ্য সংগ্রহ করতেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০২২ সালের শুরু থেকে বাবাক শাহবাজি একসঙ্গে কাজ করছিলেন আরেক অভিযুক্ত ইসমাইল ফেকরি-র সঙ্গে। জুন মাসে ইসমাইলকেও একই ধরনের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

ইরান সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে শাস্তি কার্যকরে আরও কঠোর হয়েছে। চলতি বছরেই এখন পর্যন্ত অন্তত ৩৫০ এর বেশি মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অভিযোগ ছিল—তারা মোসাদের সঙ্গে কাজ বা ইসরায়েলের উদ্দেশ্যে তথ্য পাচার করছিলেন।

বাবাক শাহবাজির আইনজীবী সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেছিলেন, কিন্তু তা খারিজ হয়। ফলে শেষ পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়।

ইরান সরকার বারবার জানিয়েছে, দেশের বিরুদ্ধে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে আঁতাত করা হলে সর্বোচ্চ শাস্তি হবে মৃত্যুদণ্ড। বাবাক শাহবাজির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া সেই বার্তাকে আরও স্পষ্ট করেছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, এটি শুধু একজন অভিযুক্তের শাস্তি নয়, বরং সম্ভাব্য গুপ্তচরদের উদ্দেশে কঠোর সতর্কবার্তা।

 

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

রামপালে ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণ: মামলা, গ্রেপ্তার ১

ইরানে আরেকজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর, আতঙ্কে গুপ্তচররা

প্রকাশঃ 01:48:48 pm, Wednesday, 17 September 2025

দেশের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির প্রমাণ পেলেই মৃত্যুদণ্ডের সাঁজা দেওয়া হচ্ছে ইরানে। বিশেষ করে ইসরায়েলের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে সম্প্রতি দেশটিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা ব্যপক ভাবে বেড়েছে। সর্বশেষ বাবাক শাহবাজি নামের এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।

বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

ইরান ও ইসরায়েলের সম্পর্ক বহু বছর ধরে বৈরী। মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাব বিস্তারের লড়াই, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক টানাপড়েন এবং আঞ্চলিক সংঘাতে বিপরীত অবস্থানের কারণে দুই দেশের মধ্যে চলছে এক অঘোষিত ছায়াযুদ্ধ। ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ এ সংঘাতের অন্যতম সক্রিয় পক্ষ। ইরানের অভিযোগ, তারা দেশটির ভেতরে নাশকতা, গুপ্তচরবৃত্তি এবং উচ্চপর্যায়ের হত্যাকাণ্ডে জড়িত।

রাষ্ট্রীয় প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বাবাক শাহবাজি পেশায় ছিলেন ঘর ঠান্ডা রাখার যন্ত্র স্থাপনকারী। এই কাজের সুযোগে তিনি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও সামরিক স্থাপনায় প্রবেশাধিকার পান। অভিযোগে বলা হয়েছে, এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি সার্ভার রুম, সামরিক কেন্দ্র এবং নিরাপত্তাসংক্রান্ত স্থাপনা থেকে গোপন তথ্য সংগ্রহ করতেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০২২ সালের শুরু থেকে বাবাক শাহবাজি একসঙ্গে কাজ করছিলেন আরেক অভিযুক্ত ইসমাইল ফেকরি-র সঙ্গে। জুন মাসে ইসমাইলকেও একই ধরনের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

ইরান সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে শাস্তি কার্যকরে আরও কঠোর হয়েছে। চলতি বছরেই এখন পর্যন্ত অন্তত ৩৫০ এর বেশি মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অভিযোগ ছিল—তারা মোসাদের সঙ্গে কাজ বা ইসরায়েলের উদ্দেশ্যে তথ্য পাচার করছিলেন।

বাবাক শাহবাজির আইনজীবী সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেছিলেন, কিন্তু তা খারিজ হয়। ফলে শেষ পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়।

ইরান সরকার বারবার জানিয়েছে, দেশের বিরুদ্ধে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে আঁতাত করা হলে সর্বোচ্চ শাস্তি হবে মৃত্যুদণ্ড। বাবাক শাহবাজির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া সেই বার্তাকে আরও স্পষ্ট করেছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, এটি শুধু একজন অভিযুক্তের শাস্তি নয়, বরং সম্ভাব্য গুপ্তচরদের উদ্দেশে কঠোর সতর্কবার্তা।