বাগেরহাট প্রতিনিধি।
ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় সর্বস্ব বিক্রি করে বিদেশে পাড়ি দিয়েছিলেন বাগেরহাট সদর উপজেলার ফতেপুর শিমুলতলা গ্রামের বাসিন্দা মো. জেন্নাত খান খোকন (৫০)। পরিবারের সচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্ন নিয়ে বিদেশে গেলেও শেষ পর্যন্ত সেই স্বপ্ন ভেঙে যায় নির্মম পরিণতিতে। ইতালিতে অবস্থানকালে আত্মহত্যা করেছেন বলে পরিবারের দাবি। তার মৃত্যুর খবরে পরিবার ও এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
নিহত খোকন উপজেলার ফতেপুর শিমুলতলা গ্রামের মৃত লুৎফর রহমান খানের ছেলে। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ নয় মাস আগে কাজের সন্ধানে তিনি প্রথমে বুলগেরিয়া এবং পরে তিন বন্ধুর প্ররোচনায় প্রায় ৪ মাস হলো ইতালিতে যান। বিদেশে স্থায়ী কর্মসংস্থানের আশায় তিনি বাড়ির জমিজমা বিক্রি করেন এবং আত্মীয়-স্বজন ও বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে প্রায় ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা সংগ্রহ করেন। তবে ইতালিতে গিয়ে প্রত্যাশিত কাজ না পাওয়ায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে মানসিক চাপ ও হতাশার মধ্যে ছিলেন। একপর্যায়ে সেই চাপ সহ্য করতে না পেরে শনিবার (২০ জুন) আত্মহত্যা করেন বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।
খোকনের মৃত্যুর পর তার পরিবার চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। উপার্জনক্ষম একমাত্র ব্যক্তিকে হারিয়ে তিন মেয়ে, স্ত্রী ও বৃদ্ধা মা এখন অসহায় হয়ে পড়েছেন। বৈধ কাগজপত্রের জটিলতার কারণে মরদেহ দেশে আনতেও নানা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হচ্ছে পরিবার।
এলাকাবাসী জানান, পরিবারের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য ফেরাতে খোকন নিজের শেষ সম্বল জমি বিক্রি করে বিদেশে গিয়েছিলেন। কিন্তু কর্মসংস্থানের অভাবে তার সব স্বপ্ন ভেঙে যায়। এখন ঋণের বোঝা আর স্বজন হারানোর শোক নিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে পরিবারটি।
শেখ তানভীর হাসান বলেন, আমার দুলাভাই ছিলেন একজন পরিশ্রমী ও সৎ মানুষ। পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য বিদেশে গিয়ে শেষ পর্যন্ত জীবন হারাতে হয়েছে তাকে। ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকার ঋণের বোঝা, স্বজন হারানোর বেদনা এবং ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তায় পরিবারটি দিশেহারা হয়ে পড়েছে। আমরা সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, প্রবাসী ও সরকারের সহযোগিতা কামনা করছি।
নিহতের বৃদ্ধা মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ছেলে সুখের আশায় বিদেশে গিয়েছিল। আজ তার লাশটাও দেশে আনতে পারছি না। আমার বুকের ধনকে শেষবারের মতো একবার দেখতে চাই। সরকারের কাছে আকুল আবেদন, যেন আমার ছেলের মরদেহ দেশে এনে দাফনের ব্যবস্থা করা হয়।
খোকনের স্ত্রী সুমি বেগম বলেন, স্বামীর বিদেশ যাওয়ার জন্য আমাদের যা জমিজমা ছিল সব বিক্রি করে দিয়েছি। এখন মাথার ওপর ঋণের বোঝা। বিদেশ থেকে মরদেহ দেশে আনতেও প্রায় ৭ লাখ টাকা খরচের কথা বলা হচ্ছে। আমি সরকারের কাছে আবেদন জানাই, যেন আমার তিন মেয়ে অন্তত তাদের বাবার মুখটা শেষবারের মতো দেখতে পারে।
পরিবারের দাবি, দ্রুত সরকারি ও প্রবাসী কল্যাণ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা পেলে মরদেহ দেশে এনে দাফন করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে তারা মানবিক সহায়তার জন্য সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও প্রবাসীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।##
মোঃ আব্দুল্লাহ শেখ
বাগেরহাট প্রতিনিধি তাং-২১-০৬-২০২৬
01735300146
দেশের তথ্য ডেস্ক 



















