Dhaka 2:43 am, Sunday, 28 June 2026

বাগেরহাটের কচুয়ায় ৮ বছরের ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা: মামলা না করতে বিএনপি নেতার নামে চাপ

বাগেরহাট প্রতিনিধি।।
বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার পদ্মনগর এলাকায় আট বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থয় এক দোকানদারের বিরুদ্ধে। তবে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে এবং থানায় মামলা করার জন্য ভুক্তভোগী পরিবারটিকে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার নাম ব্যবহার করে চাপ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গত ১৩ জুন মাদ্রাসার টিফিন বিরতির সময় শিশুটি খাবার কিনতে স্থানীয় একটি দোকানে যায়। এ সময় দোকানদার হাকিম সরদার তাকে দোকানের ভেতরে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। শিশুটি বাড়ি ফিরে পরিবারের সদস্যদের কাছে ঘটনাটি প্রকাশ করলে বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হয়।
ভুক্তভোগী শিশুর পিতা জিয়াউর রহমান ফকির অভিযোগ করে বলেন, আমার মেয়েকে দোকানদার হাকিম সরদার অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে। বিষয়টি জানার পর আমি থানায় মামলা করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু মাদ্রাসার শিক্ষক ইমরান সাহেব এবং ডিসি অফিসের কর্মচারী রুস্তম সাহেবন আমাকে উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদ সরদারের নাম বলে মামলা থেকে বিরত থাকতে বলেন। তারা বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সালিসের মাধ্যমে মীমাংসার আশ্বাস দেন। তিনি আরও জানান, তার মেয়ে স্থানীয় সরদার বজলুর রহমান এতিমখানা ও মাদ্রাসা’র তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী, যা জাহিদ সরদারের পিতার নামে প্রতিষ্ঠিত।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক এলাকাবাসী জানান, ঘটনাটি নিয়ে থানায় অভিযোগ না করার জন্য ভুক্তভোগী পরিবারকে জাহিদ সরদারের নাম ব্যবহার করে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও চাপ দেওয়া হচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে রুস্তম মুঠোফোনে সাংবাদিকদের বলেন, বাচ্চাটির বাবার মুখ থেকে আমি বিষয়টি শুনেছি, ঘটনা সত্য হতে পারে। স্থানীয় ইমাম মুফতি সরদার ইমরান এবং মানফুজুল বিষয়টি প্রাথমিকভাবে সালিসের চেষ্টা করছেন। তবে বিষয়টি মীমাংসা হওয়ার আগ পর্যন্ত অভিযুক্তের দোকানটি বন্ধ রাখতে বলেছেন কচুয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি সরদার জাহিদের বড় ভাই সরদার রেজাউল।
এদিকে ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে কচুয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি সরদার জাহিদ মোবাইল ফোনে বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে আমি অবগত আছি। অভিযুক্তের দোকান বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।
শিশুর পরিবার যদি আইনের আশ্রয় নিতে চায়, তবে আমি তাদের পাশে থাকব। ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার সাথে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এটি স্থানীয় নব্য জামায়াতপন্থীদের অপপ্রচার।
কচুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ শফিকুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমরা এখনো লিখিত কোনো অভিযোগ পাইনি। তবে ঘটনার সত্যতা যাচাই করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না।
নির্যাতনের শিকার শিশুটির পরিবার এবং স্থানীয় সাধারণ মানুষ অভিযুক্ত হাকিম সরদারের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
মোঃ আব্দুল্লাহ শেখ
বাগেরহাট প্রতিনিধি
01735300146
16-06-2026

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

রামপালে ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণ: মামলা, গ্রেপ্তার ১

বাগেরহাটের কচুয়ায় ৮ বছরের ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা: মামলা না করতে বিএনপি নেতার নামে চাপ

প্রকাশঃ 04:43:11 pm, Tuesday, 16 June 2026

বাগেরহাট প্রতিনিধি।।
বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার পদ্মনগর এলাকায় আট বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থয় এক দোকানদারের বিরুদ্ধে। তবে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে এবং থানায় মামলা করার জন্য ভুক্তভোগী পরিবারটিকে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার নাম ব্যবহার করে চাপ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গত ১৩ জুন মাদ্রাসার টিফিন বিরতির সময় শিশুটি খাবার কিনতে স্থানীয় একটি দোকানে যায়। এ সময় দোকানদার হাকিম সরদার তাকে দোকানের ভেতরে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। শিশুটি বাড়ি ফিরে পরিবারের সদস্যদের কাছে ঘটনাটি প্রকাশ করলে বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হয়।
ভুক্তভোগী শিশুর পিতা জিয়াউর রহমান ফকির অভিযোগ করে বলেন, আমার মেয়েকে দোকানদার হাকিম সরদার অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে। বিষয়টি জানার পর আমি থানায় মামলা করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু মাদ্রাসার শিক্ষক ইমরান সাহেব এবং ডিসি অফিসের কর্মচারী রুস্তম সাহেবন আমাকে উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদ সরদারের নাম বলে মামলা থেকে বিরত থাকতে বলেন। তারা বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সালিসের মাধ্যমে মীমাংসার আশ্বাস দেন। তিনি আরও জানান, তার মেয়ে স্থানীয় সরদার বজলুর রহমান এতিমখানা ও মাদ্রাসা’র তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী, যা জাহিদ সরদারের পিতার নামে প্রতিষ্ঠিত।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক এলাকাবাসী জানান, ঘটনাটি নিয়ে থানায় অভিযোগ না করার জন্য ভুক্তভোগী পরিবারকে জাহিদ সরদারের নাম ব্যবহার করে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও চাপ দেওয়া হচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে রুস্তম মুঠোফোনে সাংবাদিকদের বলেন, বাচ্চাটির বাবার মুখ থেকে আমি বিষয়টি শুনেছি, ঘটনা সত্য হতে পারে। স্থানীয় ইমাম মুফতি সরদার ইমরান এবং মানফুজুল বিষয়টি প্রাথমিকভাবে সালিসের চেষ্টা করছেন। তবে বিষয়টি মীমাংসা হওয়ার আগ পর্যন্ত অভিযুক্তের দোকানটি বন্ধ রাখতে বলেছেন কচুয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি সরদার জাহিদের বড় ভাই সরদার রেজাউল।
এদিকে ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে কচুয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি সরদার জাহিদ মোবাইল ফোনে বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে আমি অবগত আছি। অভিযুক্তের দোকান বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।
শিশুর পরিবার যদি আইনের আশ্রয় নিতে চায়, তবে আমি তাদের পাশে থাকব। ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার সাথে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এটি স্থানীয় নব্য জামায়াতপন্থীদের অপপ্রচার।
কচুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ শফিকুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমরা এখনো লিখিত কোনো অভিযোগ পাইনি। তবে ঘটনার সত্যতা যাচাই করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না।
নির্যাতনের শিকার শিশুটির পরিবার এবং স্থানীয় সাধারণ মানুষ অভিযুক্ত হাকিম সরদারের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
মোঃ আব্দুল্লাহ শেখ
বাগেরহাট প্রতিনিধি
01735300146
16-06-2026