Dhaka 12:36 am, Sunday, 28 June 2026

দিঘলিয়ায় সড়কের দুই পাশে অবৈধ দখল, জনদুর্ভোগ চরমে

 

দিঘলিয়া প্রতিনিধি:

খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কের দুই পাশে অবৈধ দখল ও স্থাপনা গড়ে ওঠায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন পথচারী, শিক্ষার্থী ও যানবাহন চালকরা। দীর্ঘদিন ধরে চলমান এ দখলদারিত্বের কারণে সড়ক সংকুচিত হয়ে যানজট, দুর্ঘটনা ও চলাচলে নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বারাকপুর বাজার, সেনহাটি বাজার থেকে স্টার জুট মিল গেট বাজার পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কের দুই পাশে অবৈধভাবে দোকানপাট, টঙঘর এবং বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে উঠেছে। এছাড়া রাস্তার পাশে নির্মাণসামগ্রী ও অন্যান্য মালামাল ফেলে রাখার কারণে সড়কের অনেক অংশ ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তি ও ব্যবসায়ী সরকারি জায়গা ও ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। শ্মশানের সামনের অংশেও টঙঘর নির্মাণ করে ফলসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। এছাড়া ক্রিসেন্ট ঘাট মসজিদের সামনে সিঁড়ি নির্মাণ এবং বিভিন্ন স্থানে দোকানের মালামাল সড়কে ছড়িয়ে রাখার কারণে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
এলাকাবাসী জানান, সড়কের দুই পাশে দখলদারিত্বের ফলে প্রতিদিনই যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। যানবাহনের চাপ বাড়লে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, নারী ও বয়স্ক ব্যক্তিদের চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
ভ্যান ও ইজিবাইক চালকেরা জানান, রাস্তা সরু হয়ে যাওয়ায় প্রায় প্রতিদিনই যানজটে আটকে থাকতে হয়। এতে সময় নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি আয়ও কমে যাচ্ছে। সামান্য বৃষ্টিতেই চলাচলে আরও সমস্যা দেখা দেয়। রাতের বেলায় অবৈধ স্থাপনার কারণে দুর্ঘটনার আশঙ্কা কয়েকগুণ বেড়ে যায়।
স্থানীয়রা আরও জানান, এ সড়ক দিয়ে সাগর জুট মিলের পণ্যবাহী ট্রাক নিয়মিত চলাচল করে। ফলে সংকীর্ণ সড়কে বড় যানবাহন চলাচলের সময় ক্রসিংয়ে তীব্র যানজট ও ভোগান্তির সৃষ্টি হয়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, মাঝে মধ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হলেও কিছুদিন পর আবারও দখলদাররা আগের অবস্থায় ফিরে আসে। ফলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না।
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত অবৈধ দখল উচ্ছেদ, ফুটপাত দখলমুক্তকরণ এবং নিয়মিত মনিটরিংয়ের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, জনস্বার্থে প্রশাসনকে কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় ভবিষ্যতে জনদুর্ভোগ আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

রামপালে ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণ: মামলা, গ্রেপ্তার ১

দিঘলিয়ায় সড়কের দুই পাশে অবৈধ দখল, জনদুর্ভোগ চরমে

প্রকাশঃ 04:56:21 pm, Thursday, 11 June 2026

 

দিঘলিয়া প্রতিনিধি:

খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কের দুই পাশে অবৈধ দখল ও স্থাপনা গড়ে ওঠায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন পথচারী, শিক্ষার্থী ও যানবাহন চালকরা। দীর্ঘদিন ধরে চলমান এ দখলদারিত্বের কারণে সড়ক সংকুচিত হয়ে যানজট, দুর্ঘটনা ও চলাচলে নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বারাকপুর বাজার, সেনহাটি বাজার থেকে স্টার জুট মিল গেট বাজার পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কের দুই পাশে অবৈধভাবে দোকানপাট, টঙঘর এবং বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে উঠেছে। এছাড়া রাস্তার পাশে নির্মাণসামগ্রী ও অন্যান্য মালামাল ফেলে রাখার কারণে সড়কের অনেক অংশ ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তি ও ব্যবসায়ী সরকারি জায়গা ও ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। শ্মশানের সামনের অংশেও টঙঘর নির্মাণ করে ফলসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। এছাড়া ক্রিসেন্ট ঘাট মসজিদের সামনে সিঁড়ি নির্মাণ এবং বিভিন্ন স্থানে দোকানের মালামাল সড়কে ছড়িয়ে রাখার কারণে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
এলাকাবাসী জানান, সড়কের দুই পাশে দখলদারিত্বের ফলে প্রতিদিনই যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। যানবাহনের চাপ বাড়লে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, নারী ও বয়স্ক ব্যক্তিদের চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
ভ্যান ও ইজিবাইক চালকেরা জানান, রাস্তা সরু হয়ে যাওয়ায় প্রায় প্রতিদিনই যানজটে আটকে থাকতে হয়। এতে সময় নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি আয়ও কমে যাচ্ছে। সামান্য বৃষ্টিতেই চলাচলে আরও সমস্যা দেখা দেয়। রাতের বেলায় অবৈধ স্থাপনার কারণে দুর্ঘটনার আশঙ্কা কয়েকগুণ বেড়ে যায়।
স্থানীয়রা আরও জানান, এ সড়ক দিয়ে সাগর জুট মিলের পণ্যবাহী ট্রাক নিয়মিত চলাচল করে। ফলে সংকীর্ণ সড়কে বড় যানবাহন চলাচলের সময় ক্রসিংয়ে তীব্র যানজট ও ভোগান্তির সৃষ্টি হয়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, মাঝে মধ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হলেও কিছুদিন পর আবারও দখলদাররা আগের অবস্থায় ফিরে আসে। ফলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না।
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত অবৈধ দখল উচ্ছেদ, ফুটপাত দখলমুক্তকরণ এবং নিয়মিত মনিটরিংয়ের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, জনস্বার্থে প্রশাসনকে কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় ভবিষ্যতে জনদুর্ভোগ আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।