Dhaka 3:22 am, Sunday, 28 June 2026

ভোলায় জ্বিনের বাদশা পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগ, ন্যায়বিচার চাইলেন প্রবাসী

 

নিজেকে জ্বিনের বাদশা পরিচয় দিয়ে প্রতারণা, স্ত্রী-সন্তানকে প্রলোভনে নিয়ে যাওয়া, কোটি টাকার সম্পদ আত্মসাৎ এবং সাইবার নির্যাতনের অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সৌদি প্রবাসী নুরে আলম।

এসময় প্রবাসী নুরে আলম পক্ষে সংবাদ সম্মেলন বক্তব্য রাখেন তার ছোট বায়রা হাসান ভূইয়া। এসময় উপস্থিত ছিলেন, ভগ্নিপতি সেলিম শরীফ, জোছনা বেগম।

মঙ্গলবার (০৯ জুন) রাতে ভোলা শহরের একটি পত্রিকা অফিসে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার টবগী ইউনিয়নের মুলাই পত্তন এলাকার বাসিন্দা তিনি দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে কর্মরত রয়েছেন। একই উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের দালাল বাজার এলাকার নকিব কসাই ও তার সহযোগীরা প্রতারণা, অপহরণ, নারী ও শিশু নির্যাতন, সাইবার অপরাধ এবং অর্থ-সম্পদ আত্মসাতের সঙ্গে জড়িত।

তিনি দাবি করেন, নকিব কসাই নিজেকে ‘জ্বিনের বাদশা’ ও অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী পরিচয় দিয়ে তার পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলে এবং একপর্যায়ে তার স্ত্রীর আস্থা অর্জন করে। পরে প্রতারণার মাধ্যমে জমি বিক্রির ৩৩ লাখ টাকা, প্রায় ৭ ভরি স্বর্ণালংকার এবং গত তিন বছরের উপার্জিত আনুমানিক ২২ থেকে ২৩ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে।

নুরে আলম আরও অভিযোগ করেন, তার স্ত্রী সাহিদা (৩৮) ও দুই অপ্রাপ্তবয়স্ক কন্যা সন্তানকে প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে গিয়ে গা-ঢাকা দিয়েছে অভিযুক্তরা। বর্তমানে নকিব কসাই তার স্ত্রীকে বিয়ে করেছে বলে দাবি করলেও, তাদের মধ্যে কোনো আইনগত বিবাহ বিচ্ছেদ হয়নি বলে তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, তার অপ্রাপ্তবয়স্ক কন্যাকে ব্যবহার করে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে, যা নারী ও শিশু নির্যাতন এবং সাইবার অপরাধের শামিল। এতে পরিবারের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি সন্তানদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, স্ত্রী ও সন্তানদের ফেরত চাইলে নকিব কসাই, সিরাজ ওরফে ‘জ্বিনের বাদশা’ এবং তাদের সহযোগীরা তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। পাশাপাশি মিথ্যা ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনসহ বিভিন্ন মামলায় জড়ানোর হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, অভিযুক্ত নকিব কসাইয়ের বিরুদ্ধে ভোলা জেলার বিভিন্ন থানায় প্রতারণা, অপহরণ, চুরি, মারামারি ও ডাকাতিসহ একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

একজন প্রবাসী হিসেবে তিনি প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর কাছে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার, স্ত্রী-সন্তানদের উদ্ধার, আত্মসাৎকৃত অর্থ-সম্পদ পুনরুদ্ধার এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত নকিব কসাই বা তার সহযোগীদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

রামপালে ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণ: মামলা, গ্রেপ্তার ১

ভোলায় জ্বিনের বাদশা পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগ, ন্যায়বিচার চাইলেন প্রবাসী

প্রকাশঃ 10:44:52 am, Wednesday, 10 June 2026

 

নিজেকে জ্বিনের বাদশা পরিচয় দিয়ে প্রতারণা, স্ত্রী-সন্তানকে প্রলোভনে নিয়ে যাওয়া, কোটি টাকার সম্পদ আত্মসাৎ এবং সাইবার নির্যাতনের অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সৌদি প্রবাসী নুরে আলম।

এসময় প্রবাসী নুরে আলম পক্ষে সংবাদ সম্মেলন বক্তব্য রাখেন তার ছোট বায়রা হাসান ভূইয়া। এসময় উপস্থিত ছিলেন, ভগ্নিপতি সেলিম শরীফ, জোছনা বেগম।

মঙ্গলবার (০৯ জুন) রাতে ভোলা শহরের একটি পত্রিকা অফিসে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার টবগী ইউনিয়নের মুলাই পত্তন এলাকার বাসিন্দা তিনি দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে কর্মরত রয়েছেন। একই উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের দালাল বাজার এলাকার নকিব কসাই ও তার সহযোগীরা প্রতারণা, অপহরণ, নারী ও শিশু নির্যাতন, সাইবার অপরাধ এবং অর্থ-সম্পদ আত্মসাতের সঙ্গে জড়িত।

তিনি দাবি করেন, নকিব কসাই নিজেকে ‘জ্বিনের বাদশা’ ও অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী পরিচয় দিয়ে তার পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলে এবং একপর্যায়ে তার স্ত্রীর আস্থা অর্জন করে। পরে প্রতারণার মাধ্যমে জমি বিক্রির ৩৩ লাখ টাকা, প্রায় ৭ ভরি স্বর্ণালংকার এবং গত তিন বছরের উপার্জিত আনুমানিক ২২ থেকে ২৩ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে।

নুরে আলম আরও অভিযোগ করেন, তার স্ত্রী সাহিদা (৩৮) ও দুই অপ্রাপ্তবয়স্ক কন্যা সন্তানকে প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে গিয়ে গা-ঢাকা দিয়েছে অভিযুক্তরা। বর্তমানে নকিব কসাই তার স্ত্রীকে বিয়ে করেছে বলে দাবি করলেও, তাদের মধ্যে কোনো আইনগত বিবাহ বিচ্ছেদ হয়নি বলে তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, তার অপ্রাপ্তবয়স্ক কন্যাকে ব্যবহার করে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে, যা নারী ও শিশু নির্যাতন এবং সাইবার অপরাধের শামিল। এতে পরিবারের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি সন্তানদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, স্ত্রী ও সন্তানদের ফেরত চাইলে নকিব কসাই, সিরাজ ওরফে ‘জ্বিনের বাদশা’ এবং তাদের সহযোগীরা তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। পাশাপাশি মিথ্যা ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনসহ বিভিন্ন মামলায় জড়ানোর হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, অভিযুক্ত নকিব কসাইয়ের বিরুদ্ধে ভোলা জেলার বিভিন্ন থানায় প্রতারণা, অপহরণ, চুরি, মারামারি ও ডাকাতিসহ একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

একজন প্রবাসী হিসেবে তিনি প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর কাছে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার, স্ত্রী-সন্তানদের উদ্ধার, আত্মসাৎকৃত অর্থ-সম্পদ পুনরুদ্ধার এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত নকিব কসাই বা তার সহযোগীদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।