Dhaka 3:30 am, Sunday, 28 June 2026

ঝুঁকিপূর্ণ বেইলি ব্রিজ ধসে জনদুর্ভোগ চরমে

 

ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার গোয়াতলা বাজার এলাকায় কংস নদীর ওপর নির্মিত ঝুঁকিপূর্ণ বেইলি ব্রিজটি ধসে পড়ায় তারাকান্দা-ধোবাউড়া প্রধান সড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে দুই পাড়ের হাজার হাজার মানুষ, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ যাত্রী চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

শনিবার (৬ জুন) ভোর প্রায় ৪টার দিকে একটি বালুবোঝাই ট্রাক ব্রিজে ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই সেটি হঠাৎ ধসে পড়ে। তবে সৌভাগ্যবশত এ ঘটনায় কোনো হতাহত বা আহতের খবর পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। ভোরে বালুবোঝাই ট্রাকটি ব্রিজ অতিক্রম করার সময় এর একটি অংশ ভেঙে পড়ে। এতে সঙ্গে সঙ্গে ওই সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায় এবং আশপাশের এলাকার মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়।

কংস নদীর ওপর নির্মিত এই বেইলি ব্রিজটি ধোবাউড়া উপজেলার সঙ্গে পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন এলাকার যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। প্রতিদিন শত শত মোটরসাইকেল, অটোরিকশা, পিকআপ, ছোট যানবাহন এবং অসংখ্য পথচারী এই সড়ক ব্যবহার করেন। দীর্ঘদিন ধরে ব্রিজটির বিভিন্ন অংশ দুর্বল হয়ে পড়লেও প্রয়োজনীয় সংস্কার বা বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় শেষ পর্যন্ত এটি ধসে পড়ে।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রশিদ বলেন, ব্রিজটির বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘদিন ধরে ফাটল ও দুর্বলতা দেখা দিয়েছিল। বিষয়টি জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের একাধিকবার জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে আজ পুরো এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।

আরেক বাসিন্দা হাবিবুল্লাহ বলেন, ব্রিজটি ধসে যাওয়ার পর অনেক যাত্রীকে যানবাহন থেকে নেমে পায়ে হেঁটে নদী পার হতে হচ্ছে। কোনো ধরনের মালামালও স্বাভাবিকভাবে পরিবহন করা যাচ্ছে না। জরুরি রোগী পরিবহন, শিক্ষার্থীদের যাতায়াত এবং কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণে বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, দ্রুত একটি বিকল্প সেতু অথবা অস্থায়ী পারাপারের ব্যবস্থা করা জরুরি। প্রতিদিন হাজারো মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করেন। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে এবং এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

ধোবাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোশারফ হোসাইন বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। প্রশাসন ও সড়ক বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে রয়েছেন। ব্রিজটি মেরামত অথবা বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থা চালুর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। প্রায় ১০ বছর আগেই ব্রিজটিকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছিল।

 

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

রামপালে ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণ: মামলা, গ্রেপ্তার ১

ঝুঁকিপূর্ণ বেইলি ব্রিজ ধসে জনদুর্ভোগ চরমে

প্রকাশঃ 04:29:01 am, Sunday, 7 June 2026

 

ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার গোয়াতলা বাজার এলাকায় কংস নদীর ওপর নির্মিত ঝুঁকিপূর্ণ বেইলি ব্রিজটি ধসে পড়ায় তারাকান্দা-ধোবাউড়া প্রধান সড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে দুই পাড়ের হাজার হাজার মানুষ, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ যাত্রী চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

শনিবার (৬ জুন) ভোর প্রায় ৪টার দিকে একটি বালুবোঝাই ট্রাক ব্রিজে ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই সেটি হঠাৎ ধসে পড়ে। তবে সৌভাগ্যবশত এ ঘটনায় কোনো হতাহত বা আহতের খবর পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। ভোরে বালুবোঝাই ট্রাকটি ব্রিজ অতিক্রম করার সময় এর একটি অংশ ভেঙে পড়ে। এতে সঙ্গে সঙ্গে ওই সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায় এবং আশপাশের এলাকার মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়।

কংস নদীর ওপর নির্মিত এই বেইলি ব্রিজটি ধোবাউড়া উপজেলার সঙ্গে পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন এলাকার যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। প্রতিদিন শত শত মোটরসাইকেল, অটোরিকশা, পিকআপ, ছোট যানবাহন এবং অসংখ্য পথচারী এই সড়ক ব্যবহার করেন। দীর্ঘদিন ধরে ব্রিজটির বিভিন্ন অংশ দুর্বল হয়ে পড়লেও প্রয়োজনীয় সংস্কার বা বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় শেষ পর্যন্ত এটি ধসে পড়ে।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রশিদ বলেন, ব্রিজটির বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘদিন ধরে ফাটল ও দুর্বলতা দেখা দিয়েছিল। বিষয়টি জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের একাধিকবার জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে আজ পুরো এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।

আরেক বাসিন্দা হাবিবুল্লাহ বলেন, ব্রিজটি ধসে যাওয়ার পর অনেক যাত্রীকে যানবাহন থেকে নেমে পায়ে হেঁটে নদী পার হতে হচ্ছে। কোনো ধরনের মালামালও স্বাভাবিকভাবে পরিবহন করা যাচ্ছে না। জরুরি রোগী পরিবহন, শিক্ষার্থীদের যাতায়াত এবং কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণে বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, দ্রুত একটি বিকল্প সেতু অথবা অস্থায়ী পারাপারের ব্যবস্থা করা জরুরি। প্রতিদিন হাজারো মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করেন। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে এবং এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

ধোবাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোশারফ হোসাইন বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। প্রশাসন ও সড়ক বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে রয়েছেন। ব্রিজটি মেরামত অথবা বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থা চালুর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। প্রায় ১০ বছর আগেই ব্রিজটিকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছিল।