Dhaka 3:20 am, Sunday, 28 June 2026

কোটালীপাড়ার ৪২ মণ ওজনের গরু ‘কালা পাহাড়’ দেখতে ভিড়

 

কোটালীপাড়া( গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি: কাজী শাহীন 

 

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় গরুর বাজারে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বিশাল আকৃতির এক গরু—‘কালা পাহাড়’। উপজেলার কুশলা ইউনিয়নের টুপুরিয়া গ্রামের এই গরুটিকে এক নজর দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন আশপাশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ। ব্যতিক্রমী গড়ন, বিশাল দেহ আর শান্ত স্বভাবের কারণে ইতোমধ্যেই এলাকাজুড়ে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছে গরুটি।

গোপালগঞ্জ-কোটালীপাড়া সড়কের পাশেই টুপুরিয়া গ্রামে নিজ বাড়িতে প্রায় পাঁচ বছর ধরে গরুটিকে লালন-পালন করছেন গ্রাম্য পশু চিকিৎসক মনিরুজ্জামান মৃধা। ছোট্ট বাছুর অবস্থায় কেনা গরুটি এখন প্রায় ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি উচ্চতা এবং ১০ ফুট দৈর্ঘ্যের বিশাল আকৃতির এক দৃষ্টিনন্দন প্রাণীতে পরিণত হয়েছে। খামারির দাবি, গরুটির ওজন প্রায় ৪২ মণ।

সাদা-কালো রঙের হলস্টেইন ফ্রিজিয়ান জাতের এই গরুর নাম রাখা হয়েছে ‘দক্ষিণ বঙ্গের কালা পাহাড়’। নামের সঙ্গে মিল রেখেই যেন তার বিশাল অবয়ব। স্থানীয়দের অনেকে এটিকে দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম বড় গরু বলেও উল্লেখ করছেন।

খামারি মনিরুজ্জামান মৃধা জানান, পাঁচ বছর আগে নড়াইলের পহরডাঙ্গা হাট থেকে ছোট অবস্থায় গরুটি সংগ্রহ করেন তিনি। এরপর থেকে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে বাড়িতেই গরুটিকে বড় করে তোলেন। গমের ভুষি, চালের গুঁড়া, খড়, সয়ামিলের ভুষি ও ভুট্টার পাউডারের পাশাপাশি আপেল, মাল্টা ও কমলাও রয়েছে গরুটির খাদ্য তালিকায়। প্রতিদিন খাবার ও পরিচর্যায় প্রায় এক হাজার টাকা ব্যয় হয় বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, “গত বছরের মতো এবারও কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে গরুটি বিক্রির প্রস্তুতি নিয়েছি। তবে ন্যায্য মূল্য পেলেই ‘কালা পাহাড়’ বিক্রি করবো।”

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ঈদ সামনে রেখে গরুটির শেষ মুহূর্তের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন মনিরুজ্জামান ও তার পরিবারের সদস্যরা। পরিবারের সদস্যদের কাছেও গরুটি এখন যেন পরিবারেরই একজন সদস্য হয়ে উঠেছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও গরুটিকে ঘিরে রয়েছে ব্যাপক কৌতূহল। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এসে গরুটি দেখছেন এবং ছবি তুলছেন। স্থানীয়রা জানান, ছোটবেলা থেকেই অত্যন্ত যত্নে গরুটিকে বড় করা হয়েছে। শান্ত স্বভাবের হওয়ায় যে কেউ সহজেই গরুটিকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।

প্রতিবেশী মানিক শেখ বলেন, “এই গরুটি আমাদের এলাকার গর্ব। নিজের সন্তানের মতো করেই বড় করেছে মনিরুজ্জামান ও তার পরিবার। আশা করছি, কোরবানির ঈদে গরুটির ভালো দাম পাওয়া যাবে।”

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মিরাজ হোসেন বলেন, “জেলায় বড় আকারের ফ্রিজিয়ান জাতের গরু উৎপাদনে খামারিরা এখন আগ্রহী হচ্ছেন। ‘কালা পাহাড়’ তারই একটি উদাহরণ। উন্নত প্রজনন ও সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে এ ধরনের গরু উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, প্রাণিসম্পদ খাত বর্তমানে একটি সম্ভাবনাময় খাত। তুলনামূলক কম বিনিয়োগে এখান থেকে ভালো লাভ করা সম্ভব। এ ধরনের উদ্যোগ নতুন খামারিদেরও উৎসাহিত করছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে প্রতিবছরই বড় আকৃতির গরুর চাহিদা বাড়ছে। যদিও খাদ্য ব্যয়, পরিবহন ও বাজার ব্যবস্থাপনায় নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তবুও পরিকল্পিত খামার ব্যবস্থাপনা ও আধুনিক পদ্ধতি অনুসরণ করলে প্রাণিসম্পদ খাত গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

রামপালে ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণ: মামলা, গ্রেপ্তার ১

কোটালীপাড়ার ৪২ মণ ওজনের গরু ‘কালা পাহাড়’ দেখতে ভিড়

প্রকাশঃ 08:37:36 am, Thursday, 21 May 2026

 

কোটালীপাড়া( গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি: কাজী শাহীন 

 

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় গরুর বাজারে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বিশাল আকৃতির এক গরু—‘কালা পাহাড়’। উপজেলার কুশলা ইউনিয়নের টুপুরিয়া গ্রামের এই গরুটিকে এক নজর দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন আশপাশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ। ব্যতিক্রমী গড়ন, বিশাল দেহ আর শান্ত স্বভাবের কারণে ইতোমধ্যেই এলাকাজুড়ে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছে গরুটি।

গোপালগঞ্জ-কোটালীপাড়া সড়কের পাশেই টুপুরিয়া গ্রামে নিজ বাড়িতে প্রায় পাঁচ বছর ধরে গরুটিকে লালন-পালন করছেন গ্রাম্য পশু চিকিৎসক মনিরুজ্জামান মৃধা। ছোট্ট বাছুর অবস্থায় কেনা গরুটি এখন প্রায় ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি উচ্চতা এবং ১০ ফুট দৈর্ঘ্যের বিশাল আকৃতির এক দৃষ্টিনন্দন প্রাণীতে পরিণত হয়েছে। খামারির দাবি, গরুটির ওজন প্রায় ৪২ মণ।

সাদা-কালো রঙের হলস্টেইন ফ্রিজিয়ান জাতের এই গরুর নাম রাখা হয়েছে ‘দক্ষিণ বঙ্গের কালা পাহাড়’। নামের সঙ্গে মিল রেখেই যেন তার বিশাল অবয়ব। স্থানীয়দের অনেকে এটিকে দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম বড় গরু বলেও উল্লেখ করছেন।

খামারি মনিরুজ্জামান মৃধা জানান, পাঁচ বছর আগে নড়াইলের পহরডাঙ্গা হাট থেকে ছোট অবস্থায় গরুটি সংগ্রহ করেন তিনি। এরপর থেকে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে বাড়িতেই গরুটিকে বড় করে তোলেন। গমের ভুষি, চালের গুঁড়া, খড়, সয়ামিলের ভুষি ও ভুট্টার পাউডারের পাশাপাশি আপেল, মাল্টা ও কমলাও রয়েছে গরুটির খাদ্য তালিকায়। প্রতিদিন খাবার ও পরিচর্যায় প্রায় এক হাজার টাকা ব্যয় হয় বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, “গত বছরের মতো এবারও কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে গরুটি বিক্রির প্রস্তুতি নিয়েছি। তবে ন্যায্য মূল্য পেলেই ‘কালা পাহাড়’ বিক্রি করবো।”

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ঈদ সামনে রেখে গরুটির শেষ মুহূর্তের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন মনিরুজ্জামান ও তার পরিবারের সদস্যরা। পরিবারের সদস্যদের কাছেও গরুটি এখন যেন পরিবারেরই একজন সদস্য হয়ে উঠেছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও গরুটিকে ঘিরে রয়েছে ব্যাপক কৌতূহল। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এসে গরুটি দেখছেন এবং ছবি তুলছেন। স্থানীয়রা জানান, ছোটবেলা থেকেই অত্যন্ত যত্নে গরুটিকে বড় করা হয়েছে। শান্ত স্বভাবের হওয়ায় যে কেউ সহজেই গরুটিকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।

প্রতিবেশী মানিক শেখ বলেন, “এই গরুটি আমাদের এলাকার গর্ব। নিজের সন্তানের মতো করেই বড় করেছে মনিরুজ্জামান ও তার পরিবার। আশা করছি, কোরবানির ঈদে গরুটির ভালো দাম পাওয়া যাবে।”

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মিরাজ হোসেন বলেন, “জেলায় বড় আকারের ফ্রিজিয়ান জাতের গরু উৎপাদনে খামারিরা এখন আগ্রহী হচ্ছেন। ‘কালা পাহাড়’ তারই একটি উদাহরণ। উন্নত প্রজনন ও সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে এ ধরনের গরু উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, প্রাণিসম্পদ খাত বর্তমানে একটি সম্ভাবনাময় খাত। তুলনামূলক কম বিনিয়োগে এখান থেকে ভালো লাভ করা সম্ভব। এ ধরনের উদ্যোগ নতুন খামারিদেরও উৎসাহিত করছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে প্রতিবছরই বড় আকৃতির গরুর চাহিদা বাড়ছে। যদিও খাদ্য ব্যয়, পরিবহন ও বাজার ব্যবস্থাপনায় নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তবুও পরিকল্পিত খামার ব্যবস্থাপনা ও আধুনিক পদ্ধতি অনুসরণ করলে প্রাণিসম্পদ খাত গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।